নারায়ণগঞ্জের বন্দরে দেশীয় অস্ত্রসহ ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১০টায় উপজেলার মনারবাড়ী এলাকায় নবীগঞ্জ-মদনপুর সড়কের পাশ থেকে তাদের হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো মো. সাইফুল (৩৫) ও তার সহযোগী মো. জনি ওরফে রনি (৩৭)।
পুলিশ জানিয়েছে, তারা স্থানীয়ভাবে কুখ্যাত ‘মামুন ডাকাত’ এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বন্দর থানায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২১ অক্টোবর রাতে লক্ষণখোলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় টহল ডিউটি চলাকালে গোপন সূত্রে খবর আসে মনারবাড়ী এলাকায় ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রæত ঘটনাস্থলে অভিযানে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে সাইফুল ও জনিকে গ্রেফতার করা হয় এবং বাকিরা পালিয়ে যায়।
অভিযানকালে সাইফুলের কাছ থেকে একটি রামদা ও একটি সুইচ গিয়ার এবং জনির কাছ থেকে একটি সুইচ গিয়ার ছুরি উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের ফেলে যাওয়া একটি ছোরা ও একটি স্টিলের পাইপ জব্দ করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার দুজন তাদের পলাতক সহযোগী মামুন (৪০) ও সুমন (৩৮) সহ আরও কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেছে। এ ঘটনায় বন্দর থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৯ ও ৪০২ ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, গ্রেফতার সাইফুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, লাশ গুম, চুরি ও হত্যাচেষ্টাসহ অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে বন্দর থানায় চুরি ও চোরাই মাল রাখার অভিযোগে একটি, ২০২৪ সালে আরও একটি মামলা এবং মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থানায় ডাকাতির প্রস্তুতির একটি মামলা রয়েছে। এছাড়া মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মনোয়ার মেম্বারকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ এবং অটোরিকশাচালক মাসুম হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পৃথক মামলা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় ডাকাতির ঘটনায়ও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
ওসি আরও জানান, অপর আসামি জনির বিরুদ্ধেও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার রেকর্ড রয়েছে। সম্প্রতি বন্দরের ঢাকেশ্বরী এলাকার একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে তাকে স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা হয়েছিল।
ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, গ্রেফতারকৃত দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ডাকাতির সাথে জড়িত পলাতক বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।







































আপনার মতামত লিখুন :