নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নাসিকের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী একটি স্লোগানে প্রেক্ষিতে উত্তপ্ত রূপ নিয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। ইতোমধ্যে তাকে গ্রেপ্তার ও আবারো ইট খুলে নেয়ার হুমকি দিয়েছে বিএনপি শীর্ষ নেতারা। একই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেলা মহানগর বিএনপি নেতাকর্মীরা আইভী বিরুদ্ধে লিখনী ও গ্রেপ্তার দাবি করেছেন।
চব্বিশের জুলাই ছাত্র-জনতা আন্দোলনে হতাহত ঘটনায় ১২টি মামলার আসামী হয়েছেন ডা. আইভী। ইতোমধ্যে তিনি টানা ১৩ মাস গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে বন্দি ছিলেন তিনি। মাত্র একটি মামলা জামিন পেয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের সংগঠনের স্লোগান দিয়ে আলোচনায় ফের আসলেন আইভী।
বিএনপি নেতাকর্মী ও আইনজীবীদের সমাবেশে মিছিলে জের ধরে ইতোমধ্যে আইভীর আইনজীবী জিয়াউল ইসলাম কাজল সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে প্রেরণ করেছেন পুলিশ। স্লোগানে আরো নেতাকর্মী ও আইনজীবী বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিএনপির জেলা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।
তারা বলেছেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে নারায়ণগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করে যাচ্ছে আইভী। তিনি আদালতপাড়াতে স্লোগান দিয়ে নতুন করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে চাইছে।
মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক রেজা রিপন সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপা আপনি মুচলেকা দিয়ে জামিন পেয়েছেন। বলেছেন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হবেন না। আপনি জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে পূর্বের মত রক্ত গরম করার রাজনীতি কইরেন না। বাসায় একটু আরামে ঘুমান।
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, সাবেক মেয়র আপনাকে শান্তিতে বাড়িতে ঘুমাতে দিয়েছি। আপনি যদি নিষিদ্ধ স্লোগান দিয়ে নারায়ণগঞ্জকে উত্তপ্ত করতে চান তাহলে কিন্তু আপনার হোয়াইট হাউজের বাড়ির ইটও থাকবে না।
মহানগর বিএনপির আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আপনি আদালত প্রাঙ্গনে এসে রাজনীতি করতে চাচ্ছেন। ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচরাকে পুনর্বাসন করতে চান। নারায়ণগঞ্জের মানুষ এ অভিলাষ পূর্ণ করতে দিবে না। যারা আদালতপাড়ায় স্লোগান দিয়েছেন তাদের প্রত্যেককে ছবি দেখে গ্রেপ্তার করা হবে। যদি আগামীতে গ্রেপ্তারে কোন ধরনের ছাড় দেওয়া হয় ও ব্যর্থ হয় তাহলে প্রশাসনকে দায়িত্ব নিতে হবে।
তুহিন হত্যা মামলায় ১৩ অক্টোবর নিম্ন আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের শুনানি ও সাবেক মেয়র আইভীর পুর্নজামিনের জন্য দিন ধার্য ছিল। শুনানিকালে তার আইনজীবী পুর্নজামিনের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
শুনানী শেষে বের হয়ে গাড়িতে উঠার সময়ে নেতাকর্মী বেষ্টিত ছিলেন আইভী। তখন তিনি স্লোগান ধরেন। বলেন, ‘জয় বাংলাকে দাবিয়ে রাখা যাবে না, জয় বাংলা’। এ স্লোগান দিয়েই তিনি গাড়িতে চড়েন। তখন নেতাকর্মীরাও জয় বাংলা স্লোগান ধরেন। ওই সময়ে কাজলকে মামলার নথিপত্রের ফাইল হাতে নিয়ে আইভীর পাশে হাঁটতে দেখা যায়।


























-20261014113949.jpg)









আপনার মতামত লিখুন :