নারায়ণগঞ্জের শহর ও বন্দরে মাদক কারবারিদের হাতে খুন হচ্ছেন মাদক ব্যবসায়ীরা। এসব হত্যাকাণ্ডে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বড় ধরনের বিঘ্ন না ঘটলেও এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক মাসে মাদক নিয়ে বিরোধের জেরে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। মাদকবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন সংসদ সদস্য (এমপি) ও জেলা প্রশাসন। এরপরও পাড়া-মহল্লায় মাদকের হাট বসেছে। মাদক ব্যবসায়ীদের পেছনে রাজনৈতিক নেতাদের হাত রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাদক নির্মূল এবং অপরাধ দমনের লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন থানায় নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান এবং ডিবি পুলিশের নেতৃত্বে জেলার বিভিন্ন স্থানে মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরপরও মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্তি চান নারায়ণগঞ্জবাসী।
জানা যায়, বন্দরের দক্ষিণ ঘারমোড়া (চুনাভুড়া) এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী মো. রাসেলকে নির্জন স্থানে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। তাঁর পরিবারের দাবি, মাদকের মামলায় কারাগার থেকে বের হওয়ার পর রাসেল মাদক বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তুহিন নামের এক মাদক কারবারি তাঁর বাবাকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পরিবারের। নিহত রাসেল বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ঘারমোড়া এলাকার মৃত শেখ আহামদ মিয়ার ছেলে।
অন্যদিকে, গত ৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় ইয়াবাসহ শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মোহাম্মদ বিল্লালের লাশ উদ্ধার করে সদর মডেল থানা-পুলিশ। তাঁর শরীরে গুলি ও ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তদন্তে নামে পুলিশ ও ডিবি। সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে প্রথমে সিয়াম আহম্মেদ সিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ডিবির তদন্ত দল মো. সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন এবং তাঁর সহযোগী মো. সোহানকে গ্রেপ্তার করে। এরপর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন হতে শুরু করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে শুভকে হত্যা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মাইগ্যা সুমনের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মিশনপাড়া রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের দেয়ালসংলগ্ন বাগান থেকে অস্ত্র এবং হোসিয়ারি সমিতির ফটক থেকে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে ডিবি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে শুভ ওরফে বিল্লালকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মাদক কারবারি ফতে ও তাঁর ছেলে অনিক। এ ঘটনায় অর্থ জোগানোর অভিযোগে মাইগ্যা সুমন, সিয়াম, বিষু, সোহান, ধিমন, অনিকের মা ফতে, বাবা ইসলাম ও ভাই শাওনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় গুলি চালানোর অভিযোগে অনিকসহ অহিদ, বাহার, রাহাত, ইমন, জয়, সাজ্জাদ এবং দুই ভাড়াটে খুনি এখনো পলাতক রয়েছেন।
এর আগে বন্দর উপজেলায় শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে মো. জুয়েল হোসেন নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। গত ১৯ মে উপজেলার মদনগঞ্জে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ঘটনার আগের দিন বিকেলে এলাকায় মাদক সেবন নিয়ে নিহত জুয়েলের সঙ্গে অভিযুক্তদের তর্ক হয়। ওই বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের। জুয়েলের ভাই সোহেল হোসেন বলেন, স্থানীয় কয়েকজন যুবককে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে তাঁদের তর্ক হয়। পরে ওই মাদকসেবী যুবকেরাই ধারালো অস্ত্র নিয়ে জুয়েলের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে কুপিয়ে জখম করেন।




































আপনার মতামত লিখুন :