News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

সাখাওয়াত-টিপুর দ্বন্দ্বের নেপথ্যে


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২৬, ১১:৩৮ পিএম সাখাওয়াত-টিপুর দ্বন্দ্বের নেপথ্যে

বিএনপি’র কয়েকজন আমার বিরুদ্ধে অশালীন কথাবার্তা বলে আবার ‘মাইন্ড না করতে’ লোকজনকে ফোন করে অনুরোধ করতে বলে জানিয়ে ছিলেন সাবেক এমপি শামীম ওসমান। গত ২০২৪ সালের ৫ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে জিয়া হল ভাঙ্গা ইস্যুতে সংবাদক সম্মেলনে এমন তথ্য দিয়েছিলেন তিনি। ওই্ সময়ে শামীম ওসমানের লোকজনকে ফোন করে আর্কুতি মিনতি করতেন এমন চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

যার কারণে এবার বিএনপি মহানগরের আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন নিজেই তার সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর কর্মকান্ডে সমালোচনা করেছেন। তিনদিন আগে জেনারেল হাসপাতালে টিপুকে সাখাওয়াত বলেন ‘তুমি তো আওয়ামীলীগ নিয়ে ঘুরো শামীম সেলিম ওসমান করো কেন? এমন বক্তব্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে শামীম ওসমানের দুই বছরের বেশি সময়ের আগে বার্তা সত্য রূপ নিচ্ছে। 

নারায়ণগঞ্জে পরিত্যক্ত টাউন হল থেকে জিয়াউর রহমানের ম্যুরাল ভাঙার ইস্যুতে সংবাদ সম্মেলনে শামীম ওসমান বলেন, বিএনপির কয়েকজন এই ঘটনায় আমাকে নাকি দায়ী করেছে বলে দেখলাম পত্রিকায়। তারা নাকি ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের জনগণ ও আমি তাদের আল্টিমেটামের শক্তি দেখতে চাই। আমার বিরুদ্ধে অশালীন কথাবার্তা বলে আবার আমার লোকজনকে ফোন করে তারা বলেছে, ভাইকে বইলেন মাইন্ড করতে না। ভাইয়ের বিরুদ্ধে কথা বললে সেন্ট্রালে আমাদের দাম বাড়ে। ভাই মানে আমি শামীম ওসমান। আমার বিরুদ্ধে কথা বলে বড় নেতা হতে পারলে হোক। আমার আপত্তি নেই। কারা এসব কথা বলেছে আমি তাও জানি না। কিন্তু  তাদের নিয়ে আমি আর কথা বলতে চাই না।

গত এক মাস আগে এমপি নজরুল ইসলাম আজাদের ছোট ভাই রাকিবুল ইসলামের একটি অনুষ্ঠানে টিপু বলেন, শামীম ওসমান খেলার শুরু আগেই পালিয়ে গেছে। আসুন আমরা খেলতে মাঠে নেমেছি, আপনারা আসুন। এদিকে ৩রা জুন আবারো নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব ইউসুফ খান টিপু পুলিশের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করে নিজেরাই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক এমপি সেলিম ওসমানকে ধরে আনার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, সেলিম ওসমান প্রায়ই তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হচ্ছেন এবং সেখানে বসে দলীয় মিটিং করছেন।

বক্তব্যে টিপু বলেন, ‘গডফাদার ওসমান পরিবার এখনো উঁকিঝুঁকি মারছে। এখনো সেলিম ওসমান উইজডমে (সেলিম ওসমানের মালিকানাধীন কারখানা) এসে মিটিং করে। পুলিশ প্রশাসনকে বলতে চাই, ঈদুল আজহার দিনেও গডফাদার সেলিম ওসমান উইজডমে এসেছে। এসে ঈদ পুনর্মিলনী করেছে। আপনারা কী করেন? আগামী দিনে যদি আপনারা সেলিম ওসমানকে গ্রেপ্তার না করেন, তাহলে আমরা বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাকে ধরে নিয়ে আসব। উইজডমে বসে নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করার চেষ্টা করবে, সেটা হতে দেওয়া যাবে না।’ 

মহানগর বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামান মাসুদের আয়োজনে একটি অনুষ্ঠানে টিপুর মন্তব্যে বিএনপি নেতাকর্মীরাও চরম বিরক্ত প্রকাশ করে। যার কারণে বার বার টিপুর মুখে সেলিম ও শামীম ওসমানের নাম প্রকাশ হওয়ায় ক্ষোভ করেন মহানগর বিএনপি আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান। টিপুকে তিরস্কার করে তিনি বলেন, তুমি তো আওয়ামীলীগ নিয়ে ঘুরো শামীম সেলিম ওসমান করো কেন?
এমন ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর নতুন করে মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। একই সাথে টিপু তার ফেসবুক পোষ্টে মন্তব্যে করেছেন- দল ক্ষমতায় আসলে দলের মন্ত্রী,এমপি, সচিব,ডিসি ও এসপিদের যেভাবে মূল্যায়ন করে, দলের বিশ্বস্ত , পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা কর্মীদের সেভাবেই যদি দল বিরোধী দল হোক ও সরকারি দল হোক থাকা অবস্থায় যদি মূল্যায়ন করা হতো, দলের অবস্থান আরো ভালো হতো। কারণ আমরা দেখতে পাই দল বিরোধী দলে থাকতে এক রকম ব্যবহার,আর ক্ষমতায় থাকলে আরেক রকম ব্যবহার এটা দল থেকে কাম্য নয়। দল বাঁচলে  দল ক্ষমতায় থাকা যাবে,কিন্তুু দল না বাঁচলে দল ক্ষমতায় থাকা অনেক কষ্টকর! অতএব আমরা যাই করি, তা যেন আমরা দল ও দলের নেতাকর্মীদের যথাযথ মুল্যায়ন করে করি। দল ক্ষমতায় থাকলে, জনগনের ও রাষ্ট্রের উপকার করা যাবে,কিন্তু ক্ষমতায় না থাকলে জনগনের ও রাষ্ট্রের উপকার করা যাবে না।তাই দলকে ক্ষমতায় আনতে ও দলকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে দলে ও দলের নেতাকর্মীদের প্রয়োজন বেশী। কথাটি যেন যথাযথ মুল্যায়ন ও গুরুত্ব দেওয়া বিবেচনা করা উচিত।