নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন নিয়ে মাঠে ইতোমধ্যে আলোচনা উঠিয়ে ছিলেন খেলাফত মজলিস। তাদের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুনকেই নাসিকের নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ঘোষনা করেছেন। অন্যদিকে ১৩ মাস কারাবন্দি পর জামিনের মুক্ত হয়ে নির্বাচনে প্রস্তুতি নিচ্ছেন আওয়ামীলীগের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তার দল বর্তমানে নিষিদ্ধ হওয়ায় নাসিক নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন রয়েছে। এদিকে হঠাৎ বর্তমান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নাসিকের মেয়র প্রার্থী হিসেবে মহানগরীর আমীর আব্দুর জব্বারকে ঘোষণা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় দলের আমীর ড. শফিকুর রহমান। যার ফলে তিন দলের প্রার্থীদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে বিএনপি কাকে মনোনয়ন দিবে এখনই প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এ বিষয়ে বিএনপির হাইকমান্ডের কোন ধরনের তৎপরতা দেখা যায়নি। তবে বিএনপির মনোনয়ন বাগাতে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী ইতোমধ্যে হাইকমান্ডের কাছে যেমন ধর্না দিচ্ছেন তেমনি নানা ধরনের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে বর্তমানে আলোচনা রয়েছেন বর্তমান প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, এমপি নজরুল ইসলাম আজাদের ভাই রাকিবুল ইসলাম রাকিব, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল ও মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। এছাড়াও জেলা বিএনপির আহবায়ক মামুন মাহমুদ ও যুগ্ম আহবায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব নাম থাকলেও তাদেরকে ইতোমধ্যে জেলা পরিষদ ও জেলা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে বিএনপি সরকার। অপরদিকে বিএনপি থেকে বহিস্কৃত শিল্পপতি শাহ আলম আবারো ফেরার চেষ্টায় রয়েছে। তিনি নাসিকের সীমানায় নতুন ভাবে গড়ে তোলা হলে ভোট যুদ্ধে শাহ আলমের নাম চমক থাকতে পারে বিএনপিতে। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নাসিকের মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় গুঞ্জন উঠেছে সাখাওয়াত হোসেন খান, রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও দলের ফেরার অপেক্ষারত শাহ আলম।
১৯ জুন জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর কর্মী সম্মেলনে হঠাৎ করে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে আব্দুর জব্বারের হাত তুলে পরিচয় করিয়ে দেন কেন্দ্রীয় আমীর ও বিরোধী দলের প্রধান ড. শফিকুর রহমান। তার এমন বার্তা ইতোমধ্যে জামায়াতে তৃনমূলে পৌছে দিলেন কেন্দ্রীয় নেতা। ছোট থেকে ছাত্রশিবির থেকে মহানগরীর আমীর হওয়া নিয়ে জব্বারের প্রশংসা করেন দলের প্রধান। ভদ্র একজন নেতাকে তৃনমূলের কাছে তুলে দিয়ে বলেছেন, অনেকে প্রার্থী ঘোষনা করেছে আরো অনেকে করবে।
গত বছর ৯ মে নিজ পির্তৃক বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে ১৩ মাস কারাগারে ছিলেন আওয়ামীলীগের নেত্রী ও নাসিকের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি গত ৩ জুন জামিনে মুক্তি পেয়ে আবার পিতার বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন। ইতোমধ্যে তার গতিবিধি জন্য বাড়ির সামনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। একাধিক সূত্রে আইভী এখনো নির্বাচন না করার বার্তা দিচ্ছে। কিন্তু নাসিক নির্বাচনে তফসিলের পর থেকে আইভীকে মাঠে নামাতে চাইবেন সমর্থকরা। এরপর তাদের জয়ের বার্তা নিয়ে আইভী নির্বাচনে অংশ নিবেনএমনতা শুনা গেছে।
এদিকে একক ভাবে মনোনয়ন দিয়েছে ১১ দলীয় জোটের দল খেলাফত মজলিস। তারা নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের এমপি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা এবিএম সিরাজুল মামুনকে সিটি নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়েছে। গত ১৭ জুন সন্ধ্যায় খেলাফত মজলিসের নারায়ণগঞ্জ মহানগর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা ও মহানগর নির্বাহী কমিটির এক যৌথ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেদিনের বৈঠকে নেতৃবৃন্দ বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটির সামগ্রিক উন্নয়ন, নগরবাসীর অধিকার রক্ষা এবং একটি ইনসাফভিত্তিক নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে খেলাফত মজলিস গতবারের মতো এবারও দলীয়ভাবে আসন্ন নাসিক নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্ব›দ্বীতা করবে। জেলা ও মহানগর শাখার যৌথ বৈঠকে স্থানীয়ভাবে মেয়র প্রার্থী হিসেবে দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবিএম সিরাজুল মামুনের নাম কেন্দ্রে পৌঁছানো হয়েছে। শিগগিরই চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে। সেই সাথে নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা ও গণসংযোগ বৃদ্ধির ব্যাপারে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে সৃষ্ট রাজনৈতিক দল এনসিপি সিটি নির্বাচনে একক প্রার্থী দেয়ার চিন্তা করছে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন এনসিপির মহানগর আহবায়ক ও কেন্দ্রীয় সংগঠক শওকত আলী এবং দলটির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য আলী আহসান জোনায়েদ।
জোটের বাইরে নির্বাচনে সম্ভাবনা কেমন এমন প্রশ্নে জামায়াত নেতারা বলছেন, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াতের জনসমর্থন বেড়েছে। দেশের প্রধান বিরোধী শক্তি জামায়াত। বিকল্প হিসেবে তাদেরই বিবেচনা করছেন সাধারণ মানুষ। তাই স্থানীয় পর্যায়ে এককভাবে নির্বাচন করলেও প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা আছে।
তবে এনসিপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, অনেক ওয়ার্ডে জামায়াত প্রার্থী দিতে পারছে না। আবার কোন কোন ওয়ার্ডে প্রার্থী দিলেও তাদের সবার জয়ের সম্ভাবনা নেই। এদিক বিবেচনায় জোট হতে পারে। যা জয়ের পথকে সুগম করবে। শেষ পর্যন্ত জোটগত সমঝোতা হবে নাকি একক লড়াই হবে তা নির্ভর করছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সময়ের উপর।
এদিকে ইসলামী আন্দোলনেও বিগত দিনের ন্যায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে তাদের একক প্রার্থী হিসেবে মুফতী মাসুম বিল্লাহর নাম ঘোষণা করতে পারেন বলে জানা গেছে।
এদিকে অন্যান্য প্রতিদ্ব›দ্বী রাজনৈতিক দলগুলো যেখানে একক প্রার্থী দিচ্ছেন সেখানে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির এমন কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। মেয়র পদে আলোচনায় থাকা বিএনপির নেতারা ব্যক্তিগতভাবে নিজেদেরকে জাহির করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হচ্ছেন। সেই সাথে নিজেদের পক্ষে জনসমর্থন বাড়ানোর জন্য নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তাদের অনেককেই হাজির হতে দেখা যাচ্ছে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকে কেন্দ্র করে। সেই সাথে শেষ পর্যন্ত তাদের একাধিক প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


































আপনার মতামত লিখুন :