News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩

পদ্মা রেলসেতুর নিচের মাটি সরালে আরও ভালো হতো: মন্ত্রী


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম পদ্মা রেলসেতুর নিচের মাটি সরালে আরও ভালো হতো: মন্ত্রী

সমীক্ষা (স্টাডি) অনুযায়ী‌ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পদ্মা রেলসেতুর পিলারের নিচ থেকে মাটি সরালে পরিবেশগত ও অন্যান্য দিক থেকে ভালো হতো বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বৃহস্পতিবার ১৮জুন সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপে’ মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পদ্মা রেলসেতুর পিলারের নিচ থেকে মাটি কাটার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এটি সমালোচনার জন্ম দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ১৬জুন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, মাটিকাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সেখানে গাছ লাগানো হবে।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতুর যে জায়গাটা আমি জেনেছি...যখন কোনো মেগা স্ট্রাকচার করবেন, স্ট্রাকচারের কাজ করার জন্য কোনো কোনো সময় একটু আপনার, ওটাকে বলা হয় ভেহিক্যাল চলাচল, স্ট্রাকচারটাকে দাঁড় করানোর জন্য অথবা ধরেন, বিল্ড করার জন্য কিছু নিচে কিছু সাপোর্টিং লাগে। যেখানেই সেতু হবে আপনি দেখে নেবেন, যে দুই পাড়ে কিছু জায়গায় একটু বাঁধের মতো করা হয়। করে সেখান থেকে সেতুর কাজ করা হয়। কাজ করে সেটা আবার অপসারণ করে দেওয়া হয়। আবার চলাচলটা ইজি করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ কিছু আর্টিফিসিয়ালি অ্যারেঞ্জমেন্ট করতে হয় প্রকল্প বাস্তবায়ন করার জন্য। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর আবার সেটা অপসারণ করতে হয়। এর জন্য চুক্তিও থাকে এবং ওর জন্য বরাদ্দও থাকে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে ওই রকমভাবে কিছু রাস্তা সাময়িকভাবে, কিছু চলাচলের জায়গা, কিছুটা আর্থ ফিলিং, কিছুটা শাটার এস্টাবলিশড করা এজন্য প্রয়োজন ছিল, তখন কিন্তু এটা ভরাট করা হয়েছে। সেতুটা নির্মাণ হওয়ার পর ওটা কন্ট্রাক্টরের সঙ্গে চুক্তিই থাকে এটা অপসারণ করতে হবে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দীর্ঘদিন ধরে এটা অপসারণ হয়নি। ব্যর্থতা ওই জায়গায়, যে কন্ট্রাক্টরের ওটা সরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল তিনি সরাননি। সরাননি বিধায় তিনি বিলও পাননি।’

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, এটা কিন্তু চুক্তিরই অংশ, সেগুলো সরিয়ে নিতে হবে। এই যে মাটিটা ফিলাপ করা হয়েছিল ওই জায়গায়, সেটা ওখানে থাকবে না। থাকলে যেটা হয়, ফিজিবিলিটি যেভাবে স্টাডি হয়েছে, তার সঙ্গে ওই ওই স্ট্রাকচারের মিল আর থাকছে না। সেটা হয়তো দেখা গেল যে, পানি চলাচল, অন্যান্য চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে এগুলো করে সরিয়ে ফেলার কথা ছিল। কিন্তু আগের কন্ট্রাক্টররা, যে কন্ট্রাক্টর ছিলেন, তিনি টাইম মতো এটা সরাননি।

‘এখন সরানোর প্রয়োজন হয়েছে, তাকে শর্ত দেওয়া হয়েছে তুমি এটা সরাও। সরাতে গিয়ে এখন ওই আর্টিফিসিয়ালি মাটি এখন মনে হচ্ছে সাবেক মাটি। কারণ কম্প্যাক্ট হয়ে গেছে, দুর্বা ঘাস হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে এত একটা মাঠ! এত আর্টিফিসিয়ালি কোনো ভরাট করা জিনিস না, তাহলে কেন এখান থেকে মাটিটা কাটা হচ্ছে? যে মাটিটা কাটা হচ্ছে, সেই মাটিটা ওখানে সরানোর কথা ছিল, থাকার কথা ছিল না। সরিয়ে ফেলার কথা ছিল, তাই সরানো হচ্ছে।’

রবিউল আলম আরও বলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে পিলারের গোড়ায় গর্ত হয়ে যাচ্ছে, এই পিলারের সঙ্গে এই স্ট্রাকচারের সঙ্গে ওই মাটির কোনো সম্পর্ক নেই। এখন মানুষের ধারণা- পিলারের নিচে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে, পিলার তো পড়ে যাবে, পিলারের তো সমস্যা হবে। ইঞ্জিনিয়ারিং ভাষায় এটা না।’

তিনি বলেন, ‘নিউজ আসার পর আমরা স্টাডি করে দেখেছি। ওই ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে আমাদের সেনাবাহিনীর যারা জড়িত, আমার সঙ্গে কথা হয়েছে। অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ার যারা জড়িত তাদের সঙ্গেও কথা হয়েছে- ওই মাটিটা সরালে সেখানে আরও যেটা হবে, ওই নাব্য বা অন্যান্য জায়গায় যে চলাচলের আছে, পরিবেশগত এবং অন্যান্য দিক থেকে সামান্য সামনে গিয়েই তো পানি, তো সেটা বর্ষাকাল, ড্রাই সিজনে যেই চলাচলটা, ফিজিবিলিটি টেস্ট অনুসারে ভালো হবে। আর এখন হয়তো সেন্টিমেন্টের জায়গা থেকে মনে হচ্ছে যে মাটি সরিয়ে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আলটিমেটলি এই ধারণাটা হওয়ার একটাই কারণ হচ্ছে, মাটিগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে সেতু চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পরই সরানো উচিত ছিল। কিন্তু সেটা সরানো হয়নি। এখন সরানো হচ্ছে বিধায় এটা আমরা ওই কাজের সঙ্গে সিমিলার মনে করছি না। মনে করছি ভিন্ন কিছু করে মাটি বিক্রি করে কেউ হয়তো পরোক্ষভাবে লাভবান হচ্ছে। এই মাটি সরানো তার অংশ না, এই মাটি সরানো ব্রিজ বানানোর কনস্ট্রাকশনেরই অংশ। যদিও দেরি হওয়ার ফলে এখন সেটা মনে হচ্ছে- মূল স্থাপনার জন্য ঝুঁকি হয়ে নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তিস্বার্থে মাটি সরানো হচ্ছে।’