News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩

যেখানে ক্ষমতা, সেখানেই শামসুজ্জোহা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | বন্দর প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম যেখানে ক্ষমতা, সেখানেই শামসুজ্জোহা

যেদিকে বৃষ্টি সেখানেই ছাতা ধরার মত, যেখানে ক্ষমতার স্বাদ সেখানেই নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর শামসুজ্জোহা।গত ১৬ বছর ক্ষমতাসীন দলের শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের ছত্রছায়ায় থেকে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়িয়েছেন। পটপরিবর্তনের পর বৈষম্যবিরোধী মামলায় আসামি হয়ে এলাকায় ছেড়ে পালিয়ে থাকলেও বর্তমানে ফিরে এসেছেন বিএনপি নেতা হয়ে।

তাঁর এই নজিরবিহীন ‘রাজনৈতিক ডিগবাজি’ এবং অতীতের জঘন্য অপকর্মের ফিরিস্তি নিয়ে এলাকায় তীব্র তোলপাড় ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

‎অনুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ শাসনামলে শামসুজ্জোহা ছিলেন ওসমান পরিবারের অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং প্রভাবশালী সহযোগী। এই দাপট কাজে লাগিয়ে তিনি টিসিবি পণ্য চুরি, সরকারি জমি দখল এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির এক বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এমনকি টিসিবি পণ্য চুরিতে বাধা দেওয়ায় নারী কাউন্সিলর সানিয়া সাউদের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও শ্লীলতাহানির মতো জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েও ওসমানদের ছত্রছায়ায় তিনি পার পেয়ে যান।

‎অভিযোগ রয়েছে, শামসুজ্জোহা ২৬নং ওয়ার্ডে ডাকাত স্বপন, আজিজুল ও খোকন ওরফে চোক্কাকে দিয়ে এক বিশাল অপরাধ সা¤্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন। ডাকাতির ঘটনায় জড়িত আলমগীরকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও সিদ্ধিরগঞ্জ যুবলীগ সভাপতি মতির তদবিরে এবং ‘কানা মনির’ মাধ্যমে মোটা অংকের লেনদেনে তাঁকে ছাড়িয়ে আনেন শামসুজ্জোহা। এলাকায় চুরি-ডাকাতি কিংবা তুলার গোডাউনে অগ্নিকান্ডের মতো ঘটনায় তিনি একদিকে মালিকপক্ষকে ভয় দেখাতেন, অন্যদিকে ডাকাতদের সহায়তায় উদ্ধার করা মালামাল অর্থের বিনিময়ে ফেরত দেওয়ার ‘মধ্যস্থতা’ বাণিজ্যে লিপ্ত ছিলেন।

‎৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্র হত্যার মামলার আসামি হয়ে শামসুজ্জোহা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছিলেন। কিন্তু স¤প্রতি পরিস্থিতি বুঝে তিনি আবারও বীরদর্পে প্রকাশ্যে আসেন। প্রথমে তিনি ‘মডেল মাসুদ’ বলয়ে ভিড়লেও, বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন অ্যাডভোকেট আবুল কালামের পক্ষে যাওয়ার সাথে সাথেই ডিগবাজি দিয়ে তাঁর শিবিরে যোগ দেন। তবে  সম্প্রতি তাঁর অপকর্ম বুঝতে পেরে এমপি আবুল কালাম দরজা বন্ধ করে দিলে শামসুজ্জোহা এখন নবনিযুক্ত সিটি প্রশাসক সাখাওয়াতের দরবারে আনাগোনা শুরু করেছেন।

‎তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ শামসুজ্জোহা প্রকাশ্যে ধানের শীষের জন্য স্লোগান দিলেও অন্তরালে সাত্তার, হালিম, মনির ও তার নিয়োগকৃত সিটি কর্পোরেশনের কর্মী কাদির-সোহেলকে দিয়ে প্রতিদ্ব›দ্বী ‘ফুটবল’ প্রতীকের প্রার্থীর হয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করিয়েছেন। মূলত তিনি বিএনপির ভেতরে বিভেদ সৃষ্টি এবং নিজের অপরাধ আড়াল করতেই ‘হাইব্রিড’ হিসেবে দলে ঢুকে পড়েছেন।

‎কেবল শামসুজ্জোহাই নন, তাঁর ভাই জাহাঙ্গীর আলমও দীর্ঘ দিন জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। কিন্তু পটপরিবর্তনের পর তিনিও এখন হঠাৎ ‘বিএনপি নেতা’ বনে গেছেন। দুই ভাইয়ের এমন সুবিধাবাদী আচরণে ক্ষুব্ধ এলাকার সাধারণ মানুষ সহ স্থানীয় বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

‎সাধারণ মানুষ ও ত্যাগী কর্মীদের দাবি শামসুজ্জোহার মতো একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী, নারী নির্যাতনকারী, ডাকাতদের গডফাদার এবং হত্যা মামলার আসামিকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া উচিত নয়।