ফ্রেশ অ্যাপারেলস লিমিটেডের শ্রমিকদের ১৪ দফা দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবিতে এবং মালিকপক্ষকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার নেতৃত্বে শনিবার ২০জুন দুপুর ২টায় নারায়ণগঞ্জ শহরে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ফ্রেশ অ্যাপারেলস শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের আহŸায়ক রাকিবুল ইসলাম।
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, সহ-সভাপতি হাসনাত কবির, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শাখার সভাপতি রুহুল আমিন সোহাগ, গাবতলী পুলিশ লাইন শিল্পাঞ্চল শাখার সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন, সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম, তল্লা আঞ্চলিক শাখার সংগঠক কামাল হোসেনসহ অন্যান্য শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, ফ্রেশ অ্যাপারেলস লিমিটেডে দীর্ঘদিন ধরে শ্রম আইন লঙ্ঘন করে শ্রমিকদের ওপর নানা ধরনের বঞ্চনা ও বৈষম্য চালানো হচ্ছে। সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন পরিশোধ করা হয় না, বাৎসরিক অর্জিত ছুটির অর্থ প্রদান করা হয় না এবং চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অব্যাহতির পর আইনানুগ সার্ভিস বেনিফিট থেকেও শ্রমিকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে শ্রমিকদের জীবনযাত্রা চরম সংকটের মধ্যে পড়েছে। বাসাভাড়া, যাতায়াত ব্যয়, বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমান মজুরিতে শ্রমিকদের পক্ষে পরিবার পরিচালনা করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। অথচ শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি মালিকপক্ষের কোনো আন্তরিকতা নেই।
সমাবেশ থেকে শ্রমিকদের উত্থাপিত ১৪ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÍ সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন, শ্রম আইন অনুযায়ী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে বেতন পরিশোধ, বকেয়া মজুরি পরিশোধ, সকল শ্রমিককে নিয়োগপত্র ও সার্ভিস বুক প্রদান, পদত্যাগ বা চাকরি থেকে অব্যাহতির ক্ষেত্রে আইনানুগ ক্ষতিপূরণ ও সার্ভিস বেনিফিট প্রদান, মাতৃত্বকালীন সুবিধা নিশ্চিত করা, হাজিরা বোনাস ও নাস্তার বিল বৃদ্ধি, শ্রমিক হয়রানি ও অন্যায্য ছাঁটাই বন্ধ করা, টার্মিনেশনজনিত সকল পাওনা পরিশোধ, প্রতারণামূলকভাবে দ্বৈত স্বাক্ষর গ্রহণ বন্ধ করা, অসুস্থ শ্রমিকদের আইনানুগ চিকিৎসা ও ছুটি প্রদান এবং নৈমিত্তিক ছুটি নিশ্চিত করা।
নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শ্রমিকদের ১৪ দফা দাবি বাস্তবায়নের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় উদ্ভুত যেকোনো পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব মালিকপক্ষ, বিকেএমইএ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) এবং প্রশাসনকে বহন করতে হবে।
তারা আরও বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলন চলমান থাকবে এবং দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।








































আপনার মতামত লিখুন :