News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

ফতুল্লায় একের পর এক সংঘর্ষ, বাড়ছে উদ্বেগ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ২০, ২০২৬, ১০:২১ পিএম ফতুল্লায় একের পর এক সংঘর্ষ, বাড়ছে উদ্বেগ

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলীতে মাটি কাটা ও ইটভাটার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে একের পর এক সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় বিরোধের জেরে হামলা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটলেও পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান মিলছে না। এতে আতঙ্কে রয়েছেন বক্তাবলী ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তাঁদের আশঙ্কা, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বিরোধ আরও বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা। যা নিয়ে এনসিপির নেতাদের সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

গত ১০ অক্টোবর দুপুরে বক্তাবলীর আকবরনগর এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় পুরিশ অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি ৪২টি টেঁটা উদ্ধার করে।   

জানা যায়, বক্তাবলী ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদীর পশ্চিম তীরে অবৈধ মাটি কাঁটা এবং ইটভাটার চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রন নিয়ে বিরোধ ছিলো দুইপক্ষে। এর একপক্ষে রয়েছেন বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রধান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সামেদ আলী। অপরপক্ষে রয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদ ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি খবির মিয়া। বিগত আওয়ামী লীগ আমলে এসব ইটভাটা ও মাটিকাটা সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন করতো ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলীর হাতে। গণঅভ্যুত্থানের পর এসব সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন করতে শুরু করে হালিম আজাদ ও খবির মিয়ার লোকজন। স¤প্রতি নজরুল প্রধানের সাথে লিয়াজো করে এলাকায় ফিরে আসে শওকত আলীর ঘনিষ্ঠজন সামেদ আলী। এলাকায় ফিরেই ইটভাটা ও মাটিকাটা সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রনে নেয়ার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। শনিবার দুপুরে হালিম আজাদ ও খবির মিয়া দলবল নিয়ে সামেদ আলীর এলাকা আকবরনগরে মহড়া দিতে যায়। এসময় নজরুল প্রধান ও সামেদ আলীর লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে সামেদ আলীর ছোট ছেলে হৃদয় গুলিবিদ্ধ হয়।

এর আগে অবৈধ মাটি কাটার প্রতিবাদ করায় এনসিপির এক নেতার ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার পরও এলাকায় উত্তেজনা কমেনি। এবার সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে বক্তাবলী বাজারে জেলা এনসিপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলামের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। অবৈধভাবে মাটি কাটার প্রতিবাদ করায় তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়।

এর কয়েক দিন পর, গত ৬ অক্টোবর ধলেশ্বরী নদীতে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালায় নৌ পুলিশ। এসময় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি গ্রাফ মেশিন, তিনটি শ্যালো মেশিন ও মাটি বহনের দুটি নৌকা জব্দ করা হয়।

প্রশাসনের এই অভিযান সত্তে¡ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিরোধ না থামায় প্রশ্ন উঠেছে, অবৈধ মাটি উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এর পেছনের নিয়ন্ত্রণদাতাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে কি না। শুধু অভিযান চালিয়ে যন্ত্রপাতি জব্দ কিংবা কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না, যদি একই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা আবারও তা চালানোর সুযোগ পান।

বক্তাবলীতে বারবার সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। মাটি কাটা ও ইটভাটাকে ঘিরে বিরোধের পেছনে যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি বদলানোর সম্ভাবনা কম।