শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬-এর মহানবমীতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ ও বন্দর উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও মন্দিরগুলো পরিদর্শন করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এবং যুব ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ। পরিদর্শনকালে তাঁরা পূজার সার্বিক পরিবেশ, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও উৎসব সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে প্রশাসনের সাথে, পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ, মন্দিরের দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং মতবিনিময় করেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সোনারগাঁ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৩৫টি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ। এ সময় তাঁরা স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, মন্দির পরিচালনা কমিটি, পূজা উদযাপন পরিষদ এবং স্থানীয় ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দুর্গাপুজার সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে নেতৃবৃন্দ বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলা। এ উৎসব মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার এই চেতনাকে ধারণ করে সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে উৎসবকে আনন্দময় করে তুলার জন্য আহবান জানান।
তাঁরা আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের ঐতিহ্য বহন করে আসছে। এই ঐতিহ্য রক্ষা করা শুধু কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের দায়িত্ব নয়; বরং এটি সমাজের প্রতিটি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই একে অপরের পাশে দাঁড়ালে একটি শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অরুন দেবনাথ, জেলার সহ সভাপতি হরি সাহা, সোনারগাঁ উপজেলা ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিহাররঞ্জন ভৌমিক ও সাংগঠনিক সম্পাদক লিটন চন্দ্র ভৌমিকের নেতৃত্বে পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৌরভ দেউরী, সাংগঠনিক সম্পাদক অশোক সরকার, বন্দর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক সুজন চন্দ্র দাস, জেলার সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য গোবিন্দ চন্দ্র দাস, রতন মণ্ডল ও রতন সাহা।
একই দিন রাত ৭টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বন্দর উপজেলার সবগুলো পূজামণ্ডপ ও মন্দিরগুলো পরিদর্শন করছেন ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
বন্দর পরিদর্শনকালে নেতৃবৃন্দ বলেন, দুর্গোৎসবের আনন্দ যেন সমাজের প্রতিটি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, কেউ যেন নিরাপত্তাহীনতা বা অবহেলার শিকার না হন এবং সব স¤প্রদায়ের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে উৎসবে অংশ নিতে পারেন এটাই হওয়া উচিত সবার সম্মিলিত অঙ্গীকার।























-20261014113949.jpg)













আপনার মতামত লিখুন :