News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ০৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২

নারায়ণগঞ্জ-৪ : তিন হেভিওয়েটের চাপে জোটের প্রার্থী


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জানুয়ারি ৫, ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম নারায়ণগঞ্জ-৪ : তিন হেভিওয়েটের চাপে জোটের প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সদর আংশিক) আসনে দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে রাজনৈতিক সমীকরণ। মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থী হিসেবে টিকে যাওয়ায় এখন এই আসনটি কার্যত পরিণত হয়েছে একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীর শক্তির লড়াইয়ে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের জেলা সভাপতি মুফতি মনির হোসেন কাসেমী মনোনয়ন নিশ্চিত করলেও, একই সঙ্গে মাঠে থাকা বিএনপির তিন প্রভাবশালী নেতার কারণে তিনি পড়েছেন তীব্র চাপে।

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, বিএনপির সাবেক নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. শাহ আলম এবং জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী। ফলে একদিকে জোটের প্রার্থী, অন্যদিকে নিজ দলের একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী এই দ্বিমুখী বাস্তবতায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির রাজনীতি এখন স্পষ্টভাবেই বিভক্ত।

বিএনপির হাইকমান্ড শুরু থেকেই এই আসনে সরাসরি দলীয় প্রার্থী না দিয়ে জোটগত সমীকরণকে অগ্রাধিকার দেয়। এর ধারাবাহিকতায় শেষ পর্যন্ত মুফতি মনির হোসেন কাসেমীর নাম চূড়ান্ত করা হয়। তবে এই সিদ্ধান্তের পরপরই দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধে। সেই ক্ষোভ আর গোপনে থাকেনি; প্রকাশ্যেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন অন্তত তিনজন নেতা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতি জোটের প্রার্থী কাসেমীর জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কারণ স্থানীয়ভাবে তার নিজস্ব ভোটব্যাংক তুলনামূলকভাবে দুর্বল। ফতুল্লা এলাকার একটি বড় অংশের সাধারণ ভোটারের কাছে তিনি এখনও ততটা পরিচিত নন। বিপরীতে, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়, সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত এবং ভোটারদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগে এগিয়ে।

বিশেষ করে মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনকে এই আসনের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক চরিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেও দলীয় সংগঠনকে সচল রাখার চেষ্টা করেছেন। ওয়ার্ডভিত্তিক কমিটি গঠন, আন্দোলনমুখী কর্মসূচি এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপকভাবে আলোচিত।  

অন্যদিকে, মো. শাহ আলমও এই আসনে একটি শক্ত নাম। ফতুল্লাকেন্দ্রিক এলাকায় তার নিজস্ব অনুসারী ও সাংগঠনিক শক্তি এখনো সক্রিয়। সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সভা-সমাবেশের মাধ্যমে তিনি নিয়মিত ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

পিছিয়ে নেই মোহাম্মদ আলীও। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃত্বে থাকার সুবাদে তার একটি আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এলাকায় ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাও কম নয়, যা নির্বাচনী লড়াইয়ে তাকে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর করে তুলেছে।

এদিকে মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জে ফিরে মুফতি মনির হোসেন কাসেমীকে ঘিরে জোটের নেতাকর্মীরা বড় ধরনের শোডাউন করেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকা থেকে শুরু হওয়া মোটর শোভাযাত্রায় কয়েক হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো ছিল। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কাসেমী বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ঘরে ঘরে ভোট চাইবেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে তিনি বিচলিত নন।

তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলছে। বিএনপির একাংশ প্রকাশ্যে কিছু না বললেও ভেতরে ভেতরে হতাশা ও ক্ষোভ রয়েছে। বিশেষ করে ফতুল্লা অঞ্চলের নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার অভিযোগ তুলছেন। তাদের অনেকের মতে, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মানা ছাড়া বিকল্প না থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে কর্মীদের উৎসাহ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন এখন বিএনপির জন্য শুধু একটি নির্বাচনী আসন নয়, বরং জোট রাজনীতি, দলীয় শৃঙ্খলা ও স্বতন্ত্র প্রার্থিতার বাস্তবতার এক কঠিন পরীক্ষাক্ষেত্র। তিন হেভিওয়েট প্রার্থীর উপস্থিতিতে জোটের প্রার্থী শেষ পর্যন্ত কতটা টিকে থাকতে পারেন, নাকি ভোটের মাঠে সমীকরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে মোড় নেয় তার উত্তর দেবে নির্বাচনই।

Ad Placement 1
Ad Placement 2
Islam's Group