News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২

চারপাশে বিদ্রোহ, চাপে থাকা জোট প্রার্থী কাশেমী ওমরায়


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জানুয়ারি ৬, ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম চারপাশে বিদ্রোহ, চাপে থাকা জোট প্রার্থী কাশেমী ওমরায়

আসন্ন এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি জোট থেকে  প্রার্থী করা হয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা মনির হোসেন কাশেমীকে। যদি বিএনপির বড় একটি অংশ মেনে নিতে পারেনি। ফলপ্রসুতে বিএনপি থেকে একাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন থেকে তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ওই দুই প্রার্থী হলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন এবং বিএনপির কার্য নির্বাহী সদস্য ও ২০০৮ সালে বিএনপির মনোনয়নে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী মোহাম্মদ শাহ আলম। তাদের পাশাপাশি মনির হোসেন কাশেমীর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন বিএনপির সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী। যিনি এবার রিপাবলিকান পার্টি থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শুনানীর দিন  সকালে মোহাম্মদ আলীর মনোনয়নপত্র স্থগিত করলেও আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে বিকালে মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এসব প্রার্থীরা ছাড়াও রয়েছে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আল-আমিন। এছাড়াও মাঠে রয়ে গেছেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ইসমাইল সিরাজী।

যদি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল জব্বার জোটের প্রার্থীর জন্য নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে চারপাশে থেকে চাপে রয়েছে বিএনপি জোটের প্রার্থী মনির হোসেন কাশেমী। এমন চাপের পরিস্থিতিতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামী নেতা বিতর্কিত মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানকে নিয়ে ওমরা হজ্ব পালনের উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করেছেন মনির হোসেন কাশেমী। সবাই যখন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জোটের প্রার্থী নিয়ে চিন্তিত সে মুহূর্তে প্রার্থী নিজেই ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে নির্বাচনী মাঠ ছেড়ে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছেন।

স্থানীয় সূত্র মতে, মনির হোসেন কাশেমীকে বিএনপি জোট থেকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও ফতুল্লা বিএনপির বড় একটি অংশ এখন পর্যন্ত কাশেমীর সমর্থনে আসেনি। তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার মোহাম্মদ শাহ আলম এর সাথে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন। যার মধ্যে বিশেষ ভাবে উল্লেখিত হলে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক জাহিদ হাসান রোজেল, ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি পান্না মোল্লা।

অপরদিকে সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনের সমর্থনের রয়েছে ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা। রাসেল মাহমুদ সহ উল্লেখ যোগ্য বেশ কিছু নেতা গিয়াস উদ্দিনের পক্ষে নির্বাচনে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।

যদিও কেন্দ্র থেকে মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন এবং মোহাম্মদ শাহ আলম কে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ের বহিষ্কার করা হয়েছে।

তবে তাদের এই বহিষ্কারাদেশ নিয়ে চিন্তিত নন ওই দুই হেভিওয়েট নেতা। বহিষ্কার প্রসঙ্গে মোহাম্মদ শাহ আলম বলেছেন, এই বহিষ্কারাদেশ নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না। আমরাই আসল বিএনপি এবং আমার সাথে যারা রয়েছেন তারা সবাই বিএনপি নেতা।

অপরদিকে মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেছেন, দলের দু:সময়ে আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি মামলা হামলার শিকার হয়েছি, দলের আমাদের মত লোকদের প্রয়োজন রয়েছে।

অন্যদিকে কাশেমীর পক্ষে নির্বাচনে মাঠে নেমেছেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী। যদিও কাশেমীর পক্ষে নামার পর তার সুপারিশে বিএনপি থেকে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এতে করে কাশেমী নির্বাচনে কিছুটা সুবিধা পাবে বলে মনের করছেন স্থানীয়রা। রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীর সাথে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছিলো আরেক বিতর্কিত নেতা মনিরুল আলম সেন্টুর। যিনি বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান করে নৌকা প্রতীক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। ৫ আগস্টের পর তিনি পুনরায় বিএনপিতে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করেন এবং সফল হয়েছিলেন। কিন্তু সমালোচনার মুখে সেন্টুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের মাত্র একদিন পরই পুনরায় সেটি স্থগিত করে দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ফলে এটি কাশেমীর জন্য একটি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এসব আলোচিত বিষয়ের বাইরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন বিষয় রয়েছে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী। তার দল খুব বেশি পরিচিত না হলেও ব্যক্তি মোহাম্মদ আলী বেশ আলোচিত ব্যক্তি। নিজের ব্যক্তি ইমেজের বদলে দিতে পারেন ভোটের মাঠের যে কোন পরিস্থিতি। রাজনীতিতে তার রহস্যময় ভূমিকার কারণে তাকে কিং মেকার বলে রাজনৈতিক অঙ্গণে আখ্যায়িত করা হয়। ২০০১ সালে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনকে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগদান এবং তাকে বিএনপি মনোনয়ন এনে দেওয়ার পেছনে সক্রিয় ভূমিকা রেখে ছিলেন মোহাম্মদ আলী। পরবর্তীতে মোহাম্মদ আলীর সাথে গিয়াস উদ্দিনের বিরোধী সৃষ্টি হলে ২০০৮ সালে গিয়াস উদ্দিনের বদলের বিএনপি থেকে শাহআলম কে মনোনয়ন এনে দেওয়ার পেছনেও ভূমিকা ছিল এই রহস্যময় ব্যক্তির। এবার তিনি নিজেই নির্বাচনের মাঠে অবর্তীন হয়েছেন। ফলে তার পক্ষ থেকে যে কোন সময় যে কোন পরিস্থিতি অদলবদল করে দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে বলে মনে করেন সাধারণ ভোটাররা।

এরমধ্যে ১০ দলীয় জোট প্রার্থী এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আল-আমিন প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। যাকে সমর্থন দিয়ে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী আব্দুল জব্বার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ফতুল্লা অঞ্চলে জামায়াতের বিশাল একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে। জোটের কারণে সেই ভোট আল-আমিন এর এনসিপির শাপলা কলিতে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেই সাথে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ইসমাইল সিরাজী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছে গেছেন। সেখানেও দলটি বিপুল ভোট রয়েছে।

ইসলামী নেতা হিসেবে মনির হোসেন কাশেমী যতটুকু ইসলামী দলের ভোট গুলো পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল সেই ভোট এখন বড় দুটি ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলনের জোটের প্রার্থীর পক্ষে চলে যাবে। ফলে পুরোপুরি ভাবে বেকায়াদ রয়েছেন মনির হোসেন কাশেমী। এদিকে জোটের নেতৃত্বাধীন বিএনপির মধ্যে বিদ্রোহ নিরসন করতে ব্যর্থ হয়েছে এই নেতা। সব মিলিয়ে আসন্ন নির্বাচন কাশেমীর জন্য কঠিন থেকে কঠিনতর হতে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে একজন বিতর্কিত নেতাকে ওমরা হজ্ব পালনের উদ্দেশ্যে নির্বাচনী মাঠ ছেড়েছেন কাশেমী।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি জোট থেকে মনির হোসেন কাশেমীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। সে সময় নির্বাচনের ৫ দিন আগে হঠাৎ নিরুদ্দেশ হয়ে যান মনির হোসেন কাশেমী। জানা যায় সে সময় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে শামীম ওসমানের জন্য মাঠ ছেড়ে দিয়েছিলেন মনির হোসেন কাশেমী। এবারের নির্বাচনে এমন কিছু করবেন কিনা সেই আশঙ্কায় রয়েছে বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

Ad Placement 1
Ad Placement 2
Islam's Group