নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সাহেব আলী নামের সন্ত্রাসীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দুইজন গ্রেপ্তার হলেও এখনো অধরা অন্যরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিভিন্ন অভিযোগে ২০ মামলার আসামী সাহেব আলী গত ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় নিজ বাহিনীর দুই অনুসারীর গুলিতে মারা যান। রনি ও আসলাম নামের দুইজন ছিলেন হত্যাকাণ্ডের সময়ে।
১৩ অক্টোবর রাতে হত্যাকান্ডের তিন নম্বর আসামি সাব্বির আহমেদকে (২৮) তার নিজ এলাকা হতে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিন (এসআরবি)-১১ গ্রেফতার করেছেন।
১৫ অক্টোবর হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মো. রনিকে (৩২) শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জের শাহজাহানপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
সিসিটিভির ফুটেজ দেখা যায় রনি ধাওয়া করে সাহেব আলীকে। তখন সাহেব আলী নিজের জীবন বাঁচাতে সাহেব আলী একটি নালার পানি ডুবে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে। রনি তখন হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে এক মিনিটের ব্যবধানে কয়েক তিন রাউন্ড গুলি ছুড়ে। এর পরে ছুটে আসেন আসলাম। তিনিও সঙ্গে থাকা পিস্তল নিয়ে এক রাউন্ড গুলি করেন। দুইজন পরে ইট দিয়ে সাহেব আলীর উপর ছুড়ে মারেন। লোকজন বাড়তে থাকলে দুইজন বীরদর্পে এলাকা ত্যাগ করে চলে যান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রনি ও আসলাম দুইজনই ছিলেন সাহেব আলীর সহযোগী। রনি হোসেনের পিতার নাম বিল্লাল হোসেন এবং মো. আসলাম হোসেনের পিতার নাম মো. মোখলেছুর রহমান। তারা উভয়ে আটি ওয়াপদা কলোনীতে বাস করতেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
সাহেব আলী ও তার ভাই রবিউলের সহযোগী হাফিজের শাশুড়ি রাজিয়া জানান, তার মেয়ের জামাই হাফিজ ও রবিউল বিকেলে ওয়াপদার বালুর মাঠে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় রনি ও আসলাম সেখানে এসে প্রথমে রবিউলকে গুলি করেন। গুলিটি রবিউলের হাতে লাগে। এরপর হাফিজকে বেধড়ক মারধর করা হয়।
রাজিয়া বলেন, ‘আমি নিজে গিয়ে তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে হাফিজকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি। এ সময় রবিউল তার ভাই সাহেব আলীকে ফোন করে। ফোন পেয়ে সাহেব আলী ও তার ছেলে সজিব খালি গায়ে দৌড়ে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় সাহেব আলী রনিকে মারতে একটি ইট হাতে নেওয়ার মুহূর্তে রনি মাথায় গুলি করেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে সাহেব আলী সঙ্গে সঙ্গে পাশের খালে পড়ে যান।’
রাজিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর রনি আবারও গুলি করার চেষ্টা করেন। প্রথমবার গুলি না হওয়ায় অস্ত্রটি পুনরায় লোড করে আবার গুলি করেন তিনি। পরে রনি ও আসলাম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহত সাহেব আলী সন্ত্রাসী হিসেবে গড়ে উঠার পূর্বে চুনা কারখানার শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিল। শ্রমিক থাকা অবস্থায় ধীরে ধীরে নিজের একটি গ্রæপ তৈরি করি গোটা এলাকার ত্রাস হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সর্ব অপরাধ সংঘটিত হতো। ডাকাতি, নারী ধর্ষণ, ছিনতাই, মাদক কারবারের মাধ্যমে স্থানীয়দের অতিষ্ঠ করে তুলেছিলেন। তার গ্রুপ এতোটাই ভয়ংকর ছিল যে দিবারাত্রি মানুষকে গুলি করা কিংবা কুপিয়ে জখম করা তাদের কাছে তুচ্ছ ঘটনা ছিল।
মোহর আলী নামের আজিবপুরের স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, একটা জানোয়ারের মৃত্যু হইছে এবং আমরা মুক্ত হইছি। এতটাই ভয়ংকর ছিল যে আমরা ভয়ে ভয়ে জীবনযাপন করছি। এই কুলাঙ্গার মনোয়ারা জুট মিলটার সকল মালামাল লুটপাট করে মিলটাকে ধ্বংস করে ফেলেছেন।
আজিপুর এলাকার যুবক হামজা বলেন, সাহেব আলীর মৃত্যুর পর এলাকার মানুষ শান্তিতে নিঃস্বাস নিতে পারছেন। আমরা যতটুকু জানি যে সে একসময় ওয়াপদা কলোনির চুনা কারখানার শ্রমিক ছিল। এরপর আস্তে আস্তে বড় সন্ত্রাসী হয়ে উঠেন। পুরা ওয়ার্ডে তার অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে আছিলো। তার স্ত্রীর সংখ্যা যতটুকু ৭-৮ জন আছেন।
সাহেব আলী ও তার সহযোগীদের দ্বারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কয়েকবার হামলার শিকার হয়েছেন। ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর রাতে ওয়াপদা কলোনি বউবাজারে তৎকালীন র্যাবের সদস্যরা সাদা পোশাকে তাকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে অভিযানে গিয়ে গ্রেফতারে সফল হলেও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা র্যাব কর্মকর্তাদের উপর হামলা চালিয়ে তাকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ওইদিনের হামলা তিনজন র্যাব সদস্যসহ চারজন গুরুতর আহত হন। এরপর ১৫ আগস্ট সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের সদস্যরা সাহেব আলীকে গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করলে সন্ত্রাসীরা থানার এএসআইসহ তিন পুলিশ সদস্যের উপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করেন। এছাড়া এই দুই ঘটনা ছাড়াও ইতোপূর্বে তারা প্রশাসনের উপর একাধিকবার হামলা চালিয়েছেন।





































আপনার মতামত লিখুন :