ডাক্তারদের ভুল চিকিৎসায় আবারো রোগীরা জীবন হারাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ স্বাভাবিক জীবন থেকে শেষ নিঃশ্বাসের দিক ছুটছেন। ক্লিনিক ও ডাক্তারদের ভুল চিকিৎসা শিকার হওয়া রোগীদের অভিযোগ না পাওয়ায় ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার সাখাওয়াত হোসেন।
২৪ অক্টোবর সকালে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে স্কুল ঘাট সংলগ্ন অনুমোদনহীন ‘ময়না ক্লিনিকে’ অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর নবজাতকের বাবা রয়েল তার অন্তঃসত্ত¡া স্ত্রীকে উক্ত হাসপাতালে ভর্তি হন। রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা না করে নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রসূতির ডেলিভারি করানো হয়। প্রসবের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নবজাতকের শরীর নীল হতে হয়ে যায়। এমন অবস্থায় বারবার চিৎকার করলেও কোনো ডাক্তারকে তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি। কোনো ডিউটি ডাক্তার ছাড়াই কেবল হাসপাতালের আয়াকে দিয়ে বাচ্চার চিকিৎসা চালানো হচ্ছিল।
সঠিক সময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চিকিৎসা না পেয়েই শিশুটি মারা যায় বলে দাবি করেন শিশুটি পরিবার। এদিকে চিকিৎসায় অবহেলার বিষয়টি কিছুটা স্বীকার করলেও মৃত্যুর দায় এড়াতে ক্লিনিকের প্রতিনিধি কাউছার জানান, আমরা বাচ্চা মারি নাই। তবে সামান্য অবহেলা থাকতে পারে।
বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আলাউল কবির দিপু জানান, জেলা সিভিল সার্জনের কল পেয়ে এসেছি। তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে তদন্ত করা হয়ে। প্রাথমিক তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কিছুটা অবহেলা আছে। অন্যদিকে অনুমোদনহীন ক্লিনিকে এমন অব্যবস্থা ও ভুল চিকিৎসার বিষয়ে জানতে চাইলে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিন জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২৩ অক্টোবর ফতুল্লার পঞ্চবটীতে মেরিস্টার নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতি ও তাঁর গর্ভের সন্তানের মৃত্যুর অভিযোগ উঠে। নিহত সুমা আক্তার (৩৫) ফতুল্লার দাপা রেলস্টেশন এলাকার আদর্শ স্কুলসংলগ্ন সাথীর বাড়ির ভাড়াটিয়া ফারুক আহম্মেদের স্ত্রী।
ঘটনাস্থলে যাওয়া ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিলন ফকির জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি হাসপাতালে যান। সেখানে একজন ওয়ার্ডবয় ছাড়া কোনো চিকিৎসক বা দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে পাননি।
নিহতের স্বজনরা জানান, প্রসব ব্যাথা উঠলে দুপুর ২টার দিকে সুমাকে তাঁর ননদ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, প্রসবের আগেই গর্ভের শিশুটি মারা যায়। এ সময় সুমার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। চিকিৎসকেরা রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে ব্যর্থ হলে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
এছাড়াও বিভিনান ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাক্তারদের পরামর্শে ভুল চিকিৎসা শিকার হচ্ছে। অনেক রোগীরা ফেসবুক পোষ্ট এমন অভিযোগ তুলে ধরেছেন। ডাক্তারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ম্যানেজে ব্যস্ত হয়ে উঠে। ডায়াগণেষ্টিক সেন্টারে ভুক্তভোগীদের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ায় অভিযোগে নারাজ হয়ে পড়ে স্বজনরা।
ভুল চিকিৎসা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ভুল চিকিৎসা অভিযোগ শুনেছি। এগুলো নজরে আসছে, আমাদের টিম পাঠিয়েছে। হতাহত রোগী বা তাদের স্বজনররা আমাদের কাছে অভিযোগ দিচ্ছে না, এমনকি থানাও অভিযোগ দেয়নি। যার কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা ডাক্তারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। এদিকে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানে লাইসেন্স আছে কিনা যাচাই বাছাই চলছে। অনুমোদন ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে দেয়া হবে না। অনুমোদনহীন কিছু পেয়েছি সেগুলা বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কাজ চলমান রয়েছে।









































আপনার মতামত লিখুন :