News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

দুর্গাপূজায় রিয়াও নেই মর্জিও নেই


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ২০, ২০২৬, ০৯:০০ পিএম দুর্গাপূজায় রিয়াও নেই মর্জিও নেই

‘আমাদের ঘরে রিয়াও নেই তার মর্জিও নেই দূর্গাপূজার আনন্দও নেই। শারদীয় দূর্গোৎসব আসলেই প্রতি সন্ধ্যায় রিয়াকে মন্ডপে নিয়ে যেতে বলতো। ওই বাবা কাজের চাপ থাকায় মা-মেয়ে মিলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতাম। মন্ডপগুলোতে ঢাকঢোলের তালে তালে নাচতো, হাসিখুশি রিয়া মা-কে শুধু দেখতাম। আজকে বেচেঁ থাকলে রিয়া মা বড় হয়ে যেত, মা-মেয়ের আনন্দ ভরপুর দূর্গাপূজা আমেজ হত। কিন্তু আজ আমাদের ঘরের একমাত্র নক্ষত্র নেই’’ বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন রিয়া গোপের মা বিউটি ঘোষ।

কান্নারত তিনি আরও বলেন, তিনটি দূর্গা পূজা আনন্দ নেই আমাদের সংসারে। বুকটা আমার খালি, পূজাতে মা বলে বার বার আমাকে ডাকত। ওর ডাকগুলো এখন খুজেঁ বেড়ায়। ঢাকঢোলে শব্দ কানে বাজলে রিয়া কথা বার বার মনে পড়ে কলিজা কেপেঁ উঠে।

চব্বিশের ১৯ জুলাই শুক্রবার ছাত্র-জনতা আন্দোলন চলাকালে বিকট শব্দে বাড়ি ছাদে ছুটে যায় প্রথম শ্রেণীর মেধাবী শিক্ষার্থী ছয় বছরের রিয়া গোপ। ছাদে গিয়ে ছুটে আসা একটি বুলেটবিদ্ধ লুটে পড়ে। রিয়া গোপের দেরি হওয়ায় মা বিউটি গোপ ছুটে যান ছাদে। দেখতে পান রক্তাক্ত রিয়া গোপ পড়ে আছে। ছটপটে রিয়া গোপকে দ্রæত হাসপাতালে নেয়া হলে ঢামেকে চলে যেতে বলে কর্তব্যরত ডাক্তাররা।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে ৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৪ জুলাই সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনের (পরবর্তীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন) সবচেয়ে কনিষ্ঠতম শহীদ হিসেবে পরিচিত রয়েছে।

এদিকে শারদীয় দুর্গোৎসবেও রিয়া গোপের বাবা দীপক কুমারও যেন বাকরুদ্ধ। উৎসবের এই দিনগুলোতে যেখানে পরিবারের সবার একসাথে আনন্দ করার কথা, সন্তানহারা এই পিতা নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেন না।

রিয়াকে হারানোর পর যখন শোকের সাগরে ডুবে ছিলো পুরো পরিবার, তখন বিচারের প্রক্রিয়াও আটকে ছিল অনিশ্চয়তায়। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর দীর্ঘ ১১ মাস পর পুলিশের পক্ষ থেকেই দায়ের করা হয় মামলা। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু রায়হান বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

অন্তর্বতী সরকার আমলে রিয়া গোপের নামে খান সাহেব ওসমান আলী ষ্টেডিয়াম ও  ধানমন্ডির সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের নাম পরিবর্তন করা হয়।