সময় দুপুর ২টা। কিন্তু সকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কাঞ্চনে শীতলক্ষ্যা নদীর দুই পাড়ে ভিড় জমাতে শুরু করেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়। দুপুরের আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে নদীর দুই তীর। নদীতে ট্রলার ও স্পিডবোটে করেও নৌকাবাইচ উপভোগ করেন অনেকে। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর শীতলক্ষ্যার বুকে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ ফিরে আসায় পুরো এলাকাজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
মাদককে না বলুন প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে কাঞ্চন পৌর বিএনপির উদ্যোগে এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
শীতলক্ষ্যা নদীর শিমুলিয়া ঘাট থেকে কাঞ্চন বাজার ঘাট পর্যন্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ২৫টি নৌকা অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতায় মামা-ভাগিনা নৌকা প্রথম স্থান, শেখ খোকন দ্বিতীয় এবং বুলেট নৌকা তৃতীয় স্থান অর্জন করে। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার হিসেবে মোটরসাইকেল, ফ্রিজ ও টেলিভিশন বিতরণ করা হয়।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর উদ্যোগে এবং স্থানীয় আয়োজকদের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এ নৌকাবাইচ ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে পুরো কাঞ্চনে। নদীর দুই তীরে হাজারো মানুষের উপস্থিতি আর প্রতিযোগীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে ফিরে আসে বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্যের এক চিরচেনা দৃশ্য।
নৌকাবাইচ কেবল নৌকার গতির প্রতিযোগিতা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মাঝিদের শারীরিক সক্ষমতা, দলগত সমন্বয়, ছন্দ আর অসাধারণ নৈপুণ্য। বৈঠার প্রতিটি টানে যখন দ্রুতগতিতে এগিয়ে যায় নৌকা, তখন প্রতিযোগিতার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে নদীর দুই পাড়ের দর্শকদের মধ্যেও। উল্লাস, করতালি আর চিৎকারে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ।
নদীর বুকে নৌকার ছুটে চলা, মাঝিদের সম্মিলিত বৈঠা চালানো আর দর্শকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস সব মিলিয়ে কাঞ্চনের শীতলক্ষ্যায় সৃষ্টি হয় এক প্রাণবন্ত উৎসবের আবহ। দীর্ঘদিন পর নৌকাবাইচের এমন আয়োজন স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন করে জাগিয়ে তোলে বাংলার ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা।







































আপনার মতামত লিখুন :