পুলিশের কাছে সে পলাতক। পুলিশের ভাষ্যমতে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। অথচ বন্দরে একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ঘটিয়ে চলেছে বন্দরের দুর্ধর্ষ সিফাত ও তার বাহিনীর সন্ত্রাসীরা।
এবার ১০ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে নাজমা বেগম নামে এক নারীর বসতবাড়িতে হামলা চালিয়েছে সিফাত ও তাঁর সহযোগিরা।
বর্তমানে সন্ত্রাসীদের প্রাণনাশের হুমকিতে নিজ ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ওই অসহায় নারী। সিসিটিভি ফুটেজে এই বর্বরোচিত হামলার চিত্র ধরা পড়লেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ এখনো নীরব।
ভুক্তভোগী ও সিসিটিভি ফুটেজ সূত্রে জানা গেছে, বন্দর চৌধুরী বাড়ি এলাকায় নাজমা বেগমের কাছে বেশ কিছুদিন ধরে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল শেখ সিফাত ও তার ক্যাডাররা। নাজমা টাকা দিতে অস্বীকার করলে ১০ জুন দুপুরে সিফাতের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তার বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িঘরে ভাঙুর চালায়।
এর আগে বন্দরে দিনে দুপুরে ফিল্মি স্টাইলে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর হান্নান সরকারের ছেলেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে তার কাছে থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা । সেখানেও উঠে এসেছিলো এই সন্ত্রাসী সিফাতের নাম।
এ ঘটনায় সিফাতের নাম বলায় সাবেক কাউন্সিলর হান্নান সরকারকে মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়ার একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তবুও যেন বন্দর থানা পুলিশের টনক নড়ছে না।
বন্দর থানা পুলিশের ব্যর্থতায় একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসী সিফাত। এমনকি পুলিশকে কুপিয়ে তাদের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়েও গেলে এখন পর্যন্ত সিফাত কে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হচ্ছে বন্দর থানা পুলিশ।
জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল দিবাগত রাত চৌধুরীবাগি এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় খবর পেয়ে তদন্তের ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সেখানে পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে তাদের শর্টগান ছিনিয়ে নেয় সিফাত ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা। পরে ৪ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে ভোর সোয়া ৬টায় দিকে একই এলাকার একটি গাছের নিচ থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের সময় বন্দর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সোহেল রানা ও কনস্টেবল ফয়সাল হোসেন আহত হন। তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা তারেক আল মেহেদী।
সন্ত্রাসী সিফাতের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে পুলিশের সক্রিয়তা সম্পর্কে জানতে চাইলে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, আমরা সকলভাবে সিফাতকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছি। আমরা সিফাতের পেছনে লেগে আছি। আমরা কোনো প্রকার ডিভাইজের মাধ্যমেও তাকে খুঁজে পাচ্ছিনা। এমনকি আমাদের এলিট ফোর্স তাকে খুঁজে পাচ্ছেনা।
পুলিশের এমন তৎপরতার পরও সিফাত কিভাবে বন্দরে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ওই সকল সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সিফাত নিজে করছে নাকি তার গ্রুপের পোলাপান করছে এটা নিশ্চিত হতে হবে। আপনাদের কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য থাকলে পুলিশকে দিয়ে সহযোগিতা করবেন।
সিফাতকে গ্রেপ্তারে বন্দর থানা পুলিশ ব্যর্থ হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পাল্টা প্রশ্ন করলে তো উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়।
এর আগে গণমাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশা বলেন, আপনার যে একটি নাম নিয়ে বলছেন এমন শত শত ঘটনা বন্দরে প্রতিদিন ঘটছে। হয়তো সেগুলো মিডিয়াতে সেভাবে আশে না বলে সেগুলো নজরে আসে না। আর দেশের বড় বড় সন্ত্রাসীরাও গ্রেপ্তার হয়েছে অতীতে আমরা দেখতে পেয়েছি। তাহলে সিফাত কেন গ্রেপ্তার করতে পারছেনা এটা প্রশ্ন থেকেই যায়। আমি মনে করি অপরাধ দমনে বন্দর থানা পুলিশের তৎপরতা আরো অনেক বেশি বাড়াতে হবে।
এদিকে এ রিপোর্ট লেখা সময় বৃহস্পতিবার ১১জুন রাত পৌনে ৯টায় খবর পাওয়া যায় নাজমা বেগমের বাড়িতে হামলার সিসি টিভি ফুটেজ প্রকাশ হওয়ার পর শেখ সিফাতের নেতৃত্বে দ্বিতীয় দফায় প্রায় অর্ধ শতাধিক সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নাজমা বেগমের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় পুলিশে খবর পেয়ে এসে তাদেরকে ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে পুলিশ হামলাকারী কাউকে গ্রেপ্তার করার সক্ষমতা দেখাতে পারেনি।


































আপনার মতামত লিখুন :