News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রীকে দিপুর চিঠির পর জিয়া হল পুন:নির্মাণের নির্দেশ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম প্রধানমন্ত্রীকে দিপুর চিঠির পর জিয়া হল পুন:নির্মাণের নির্দেশ

নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের এমপি মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপুর আবেদনের প্রেক্ষিতে শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় অবস্থিত শহীদ জিয়া হল মিলনায়তন পুন:নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

গত ১০ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রেরিত পজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। একই সাথে গৃহীত কার্যক্রমে অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রেরণের কথা বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু বলেন, ‘জিয়া হল নারায়ণগঞ্জ জেলার মধ্যে একমাত্র স্থাপনা যেটা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বহন করছে। সুতরাং দ্রুত সময়ের মধ্যে এ হলের সংস্কার প্রয়োজন অনুধাবন করেই আমি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলাম। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে। আশা করি অতি শীঘ্রই এর কার্যক্রম শুরু হবে।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় অবস্থিত শহীদ জিয়া হল মিলনায়তনটি পরিত্যক্তবস্থায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। অথচ স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও সাংস্কৃতিক জাগরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক এ জিয়া হল। আর তার এই জিয়া হলকে পুনরায় নির্মাণ করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের এমপি মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু। তিনি একই সঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির প্রথম যুগ্ম আহবায়ক।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদনের পরেই বিষয়টি নিয়ে বিষয়টির গুরুত্ব বেড়ে যায়। সেই সাথে ২৫ এপ্রিল জিয়া হল প্রাঙ্গনে পাট পণ্যজাত মেলায় এসে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বিষয়টি তুলে ধরে বলেছিলেন, ‘ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের এমপি দিপু ভূইয়া এ জিয়া হলের পুনঃনির্মাণের জন্য ডিও লেটার (চাহিদা পত্র) দিয়েছেন। স্থানীয় এমপি আবুল কালাম ভাইকেও বলবো আপনিও একটি ডিও লেটার দেন। আমরা আশা করি দ্রুত এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এর আগে গত ২২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীতে তারেক রহমানকে দেওয়া চিঠিতে দিপূ ভূইয়া লিখেছিলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় অবস্থিত ‘শহীদ জিয়া হল’ কেবল একটি স্থাপনা নয়; এটি স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও সাংস্কৃতিক জাগরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। ৬০ দশমিক ৬২ শতাংশ জমির ওপর ১৯৭৮ সালের ১০ মার্চ টাউন হলটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালের ১৯ জুলাই তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার এটি ‘শহীদ জিয়া হল’ নামে নামকরণ করে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। জমি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে একসময় দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হয় এবং দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর আদালতের রায়ে ‘শহীদ জিয়া হল’ নামটি বহাল থাকে।

বর্তমানে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় ভবনটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। যেকোনো সময় এটি ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শহীদ জিয়া হল পুননির্মাণ করে আধুনিক কমপ্লেক্সে রূপান্তর করা হলে নারায়ণগঞ্জবাসী একটি আধুনিক সাংস্কৃতিক ও বিনোদন কেন্দ্র পাবে। এতে নতুন প্রজন্ম ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে এবং শিল্পী, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিককর্মীদের জন্য একটি স্থায়ী প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে।