News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আদর্শ শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন বিতর্ক


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম আদর্শ শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন বিতর্ক

নারায়ণগঞ্জ শহরের ৩৯ নম্বর আমলাপাড়া আদর্শ শিশু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনকে ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। চারটি অভিভাবক প্রতিনিধি পদের বিপরীতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আটজন, যাদের চারজনই দুই পরিবারের চার সদস্য। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে বাছাই শেষে তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুল পরিচালনায় প্রভাব বিস্তার এবং পরিবারকেন্দ্রিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই একই পরিবারের বাবা-মা পৃথক ক্যাটাগরিতে প্রার্থী হয়েছেন। 
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩৯ নম্বর আমলাপাড়া  শিশু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে অভিভাবক-অভিভাবিকা ক্যাটাগরির চারটি প্রতিনিধি পদের জন্য মনোনয়ন জমা দেন ১০, এইচ কে ব্যানার্জি রোর্ডের বাসিন্দা মো: শফিউদ্দিন ও তার স্ত্রী ফাহমিদা আক্তার। তারা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোস্তাকিম রহমানের বাবা-মা। তাদের দু’জনের মনোনয়ন ফরম নম্বর ৭ ও ৬। 

এছাড়া অপরদিকে শিক্ষার্থী তাসনিম শারমিন চৌধুরীর পক্ষে তার বাবা তানভীর আলম চৌধুরী এবং মা শারমিন আক্তার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছন। তানভীর আলম চৌধুরী শহরের নতুন ২৭ ও পুরাতন ৪৪ নম্বর মিশনপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি অভিভাবক পদে এবং শারমিন আক্তার অভিভাবিকা পদে প্রার্থী হয়েছেন। ফলে চারটি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন মাত্র দুই পরিবারের চার জন সদস্য। 
বিষয়টি সামনে আসার পর বিদ্যালয়ের অনেক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়ার কথা থাকলেও এখানে একই পরিবারের একাধিক সদস্য প্রার্থী হওয়ায় পরিবারকেন্দ্রিক প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা তৈরী হয়েছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, আমরা আমাদের সন্তানদের ভালো শিক্ষার পরিবেশের জন্য এই বিদ্যালয়ে ভর্তি করেছি। কিন্তু অভিভাবক-অভিভাবিকা প্রতিনিধি নির্বাচনে চারটি পদের বিপরীতে দুই পরিবারের চারজন প্রার্থী হওয়া অত্যন্ত অস্বাভাবিক। এতে মনে হচ্ছে, বিদ্যালয়ের পরিচালনা ব্যবস্থাকে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছেন। 
তারা আরও বলেন, সাধারণত কোনো শিক্ষার্থীর পক্ষে বাবা অথবা মা-যেকোনো একজন অভিভাবক প্রতিনিধি পদে নির্বাচন করেন। কিন্তু এখানে একই শিক্ষার্থীর বাবা ও মা পৃথক ক্যাটাগরিতে প্রার্থী হয়েছেন। এমন নজির খুব কম দেখা যায়। এতে অভিভাবকদের বৃহত্তর অংশের মতামত ও অংশগ্রহণের সুয়োগ সংকুচিত হবে।

 অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিতে একই পরিবারের একাধিক সদস্য নির্বাচিত হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে একক প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা তৈরী হতে পারে। এর ফলে বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু প্রশাসন, জবাবদিহিতা ও শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।  
অভিভাবকদের দাবি, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত ছিল। তাদের অভিযোগ, পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা না করে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। 

কয়েকজন অভিভাবক বলেন, নারায়ণগঞ্জের অনেক বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও শিক্ষার পরিবেশ বিবেচনা করে আমরা আমাদের সন্তানদের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করাচ্ছি। কিন্তু অভিভাবক প্রতিনিধি পদে চারটি পদের বিপরীতে দুই পরিবারের চারজন প্রার্থী হওয়াই বলে দিচ্ছে এখানে পরিবারকেন্দ্রিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এতে বিদ্যালয় পরিচালনার সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট হবে। এককেন্দ্রিক ক্ষমতার প্রভাব ছড়ানো হবে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেকোন বিদ্যালয়ের নির্বাচনে সচরাচর একজন ছাত্র-ছাত্রীর পক্ষে একজন অভিভাবক প্রতিনিধি পদে অভিভাবক বা অভিভাবিকা ক্যাটাগরিতে নির্বাচন করেন। কিন্তু এখানে একজন ছাত্রের বাবা-মা দুই ক্যাটাগরিতে প্রভাব খাটিয়ে প্রার্থী হয়েছেন। এমন নজির কোথাও নেই। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা(এটিও) নুরুন নাহার বিউটি জানান, আইনে আছেন শিক্ষার্থীর বাবা-মা দুজনেই ভোট দিতে পারবেন। তাই যেহেতু তাদের ভোটাধিকার আছে, তাই তাদের প্রার্থী হতেও কোনো বাধা নেই। 
আপনার চাকরি জীবনে কখনো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন নজির দেখেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। 
তাদের মনোনয়ন ফর্ম জমা দেওয়ার সময় ত্রুটি রয়েছে জানালে তিনি বলেন, এগুলো কোনো মেজর সমস্যা নয়।