News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

হকারদের উস্কে দিচ্ছে বিএনপির লোকজন!


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম হকারদের উস্কে দিচ্ছে বিএনপির লোকজন!

হকার উচ্ছেদ নিয়ে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান রোষানণে পড়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর নানা প্রশ ঘুরপাক খাচ্ছে।

আইভীর উপর তখন আওয়ামীলীগের ওসমান পরিবারের মদদে তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীগুলো হামলা চালাতে সক্ষম হলে, এখন হকার ইস্যু নিয়ে নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াতের উপর রাতে হকারদের হামলার চেষ্টার সাহস কারা দিলো?

অনেকেই মনে করছেন অতিরিক্ত অর্থের লোভে বিএনপির লোকজনরাই হকার দের উস্কানি দিচ্ছে এবং গণমাধ্যমে এসে ভুক্তভোগী সাজছে?

বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও মেয়র আইভীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। দুই পক্ষের সংঘর্ষে আইভীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। ঘটনার পর শামীম ওসমানের অনুসারীদের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় অভিযোগ দেন সিটি মেয়র। অভিযোগটি প্রথমে সাধারণ ডায়েরি হিসেবে রেকর্ড করা হলেও ঘটনার ২২ মাস পর আদালতের নির্দেশে মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ। মামলায় শামীম ওসমানের অনুসারী ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৯০০-১০০০ জনকে আসামি করা হয়। মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। দীর্ঘসময় তদন্ত শেষে গত ২৩ নভেম্বর অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ভিডিও ফুটেজে পিস্তল জাতীয় আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেলেও আসামি জামিনে থাকায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে না পারায় অস্ত্রটি উদ্ধার করা যায়নি। অপরজনের অস্ত্রটি তার নামে লাইসেন্স করা। এ কারণে তাদের অস্ত্র আইনের ধারা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছিল মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, যুবলীগ নেতা নিয়াজুল ইসলাম খান, হকার নেতা রহিম মুন্সি, আসাদুল ইসলাম ওরফে আসাদ, সায়মন, ইকবাল হোসেন, মাসুদ পাটোয়ারী ওরফে শুক্কুর, তোফাজ্জল, পলাশ মিয়া, মহসীন বেপারী, সালাউদ্দিন ওরফে সালাউদ্দিন গাজী এবং সাদেকুল ইসলামকে। এদের মধ্যে কেবল শাহ নিজাম ও নিয়াজুল ইসলাম খান এজাহারভুক্ত আসামি। বাকিরা এজাহার বহির্ভূত আসামি। আসামিরা সবাই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ অনুসারীরা বলে জানিয়েছে মামলার বাদীপক্ষ।

এজাহারভুক্ত আসামি মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরল আলম হেলাল, যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া সাজনু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি জুয়েল হোসেন, যুবলীগ নেতা জানে আলম বিপ্লব, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুজন, যুবলীগ কর্মী নাসির উদ্দিন ওরফে টুন্ডা নাসির ও চঞ্চল মাহমুদকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেছে পিবিআই। তাদের মধ্যে মিজানুর রহমান সুজন মারা গেছেন।

নারায়ণগঞ্জ শহরে হকার উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গিয়ে বাধা ও হামলার চেষ্টার মুখে পড়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (এনসিসি) প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। এ সময় তাকে ঘিরে বিক্ষোভ করেন হকাররা। একপর্যায়ে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খানের নেতৃত্বে সিটি করপোরেশনের ২০ থেকে ৩০ জন কর্মী গাড়ি ও ভেকু নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালান। এ সময় ফুটপাত ও সড়কে থাকা অস্থায়ী দোকানপাট সরিয়ে দেওয়া হয়।

হকারদের অভিযোগ, আগাম ঘোষণা ছাড়াই অভিযান চালিয়ে তাদের দোকানের চৌকি ও ভ্যান ভাঙচুর করা হয়েছে। পাশাপাশি গেঞ্জি, জুতা ও অন্যান্য পণ্যসহ অন্তত ১০টি সবজিবাহী ভ্যান সিটি করপোরেশনের গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে কর্মীদের সঙ্গে তাদের বাগ‌বিতন্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে কালীবাজার এলাকায় প্রশাসককে ঘিরে বিক্ষোভ করেন হকাররা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। অভিযানের সময় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুও উপস্থিত ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুর রহমান বলেন, এনসিসি প্রশাসক উচ্ছেদ অভিযান চালানোর বিষয়ে আগে পুলিশকে জানাননি। পরে হকারদের সঙ্গে বাগ‌বিতন্ডার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে হকাররা কর্মীদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন এবং তাঁর সঙ্গে বাগবিতন্ডায় জড়ান। তারা মালামাল রাস্তায় ফেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেন। পরে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বাসায় চলে যান।