২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে আসীন হয়েছেন। নির্বাচনে বাড়তি খরচ এড়াতে ইসলামী আন্দোলন ও বাসদের প্রার্থীকে হুমকি ধামকি দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে যেতে বাধ্য করেছেন। বিনা ভোটে চেয়ারম্যান হয়ে এখনও আসীন আছেন স্বপদে। ৫ আগস্টের আগেও সেন্টু আন্দোলনকারী বিএনপি জামায়াতের কর্মীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে তাদের প্রতিহত করার আহবান জানান। সে এখন বিএনপিতে প্রবেশ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
গত বছরের জানুয়ারিতে দলে ফেরার জন্য দলের কাছে আবেদন জানান সেন্টু। সেই সাথে এলাকায় নিজের অনুসারীদের দিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সাথে নিজের ছবি বসিয়ে তৈরী করেন ব্যানার ও পোস্টার। সেসব সাটিয়ে রাতারাতি বিএনপি বনে যাবার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে সেন্টু। কিন্তু দল থেকে যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে গ্রহণ না করা হচ্ছে ততক্ষণ ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এমন অবস্থায় তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বিএনপি জোটের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমী। নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে তাকে বিএনপি হিসেবে উপস্থাপন করে পুনর্বাসন করার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী ও মনিরুল আলম সেন্টুর বহিস্কারাদেশ একযোগে তুলে ফেলা হয়। এনিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয় নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে। শুধু বিএনপিই না, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন সহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের নেতারা এর সমালোচনা করেন। প্রকাশ্যে শামীম ওসমানের সাথে রাজনীতি করা, আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া এবং নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে চেয়ারম্যান হওয়া ব্যক্তিকে বিএনপি কিভাবে দলে নিলো এনিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ইমেজ সংকটে পড়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের। সমালোচকদের কথার জবাবও দিতে পারছিলেন না তারা। অনেকে দলের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে এর নিন্দা জানান। কেউ কেউ এই ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ‘এরপর সামনে হয়তো দেখতে পাবো শামীম ওসমান জেলা বিএনপির সভাপতি হচ্ছে’।
তবে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই সিদ্ধান্তে আসে পরিবর্তন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে সেন্টুর বহিস্কারদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি ভুল বলে জানানো হয়। সেই সাথে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাতিল করে তার বহিস্কারাদেশ বহাল রাখা হয়। এতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তবে ততক্ষণে বিএনপির বেশ ইমেজ ক্ষতিগ্রসস্ত হয়ে পড়ে।
এই বিবৃতির পরেও রাতে সেন্টুকে সাথে নিয়ে এক সভায় অংশ নেয় মনির কাসেমী। সেখানে সেন্টুকে বক্তব্য দেয়ারও সুযোগ করে দেয়া হয়। যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, সেন্টু কেবল কুতুবপুরের মধ্যে সীমাবদ্ধ কোন ইস্যু না। সেন্টু পুরো জেলা এবং দেশের ইস্যু। শামীম ওসমানের মত একজন সন্ত্রাসীর ঘনিষ্ট অনুসারী সে। তার অসংখ্য ছবি রয়েছে শামীম ওসমানের সাথে। সবাই তাকে জানে ও চিনে। এই ব্যক্তি যখন বিএনপিতে পুনর্বাসিত হয় বা তাকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হয়, তখন সাধারণ মানুষের মাঝে ভাবনা তৈরী হয় যে আওয়ামী দোসরদের পুনর্বাসন করছে বিএনপি। যা দলের জন্য নেতিবাচক ইমেজ তৈরী করে। ভোটাররা প্রশ্ন তোলে বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে। ফলে ইমেজ রক্ষার স্বার্থে হলেও তাকে বিএনপির থেকে বহুদুরে রাখতে হবে। অন্যথায় সেন্টু বিএনপির জন্য ক্ষতির কারন হয়ে উঠবে।































-20260102160818.jpg)


আপনার মতামত লিখুন :