বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাজনীতিতে নেতা হয়ে এমপি হয়েছিলেন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী। ১৯৯৬ সালের অল্প সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য হওয়া পর নারায়ণগঞ্জ বিএনপি রাজনীতিতে কোন কমিটিতে ঠাঁই না পেলেও কিং মেকার খেতাব পান। অন্যদিকে একই সময়ে ঠেলা গাড়ী ভ্যান গাড়ী কমিটি থেকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে সক্রিয় হন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। জেলা বিএনপি সভাপতি, আহবায়ক, সাধারণ সম্পাদক সহ বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বিএনপি নেতৃত্বে চারদলীয় জোট সরকার আমলে তৈমূর আলমকে অতিরিক্ত অ্যাটর্নী জেনারেল ও বিআরটিসি’র চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মোহাম্মদ আলী ও তৈমূর সম্পর্কে ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
তাঁদের রাজনীতি জীবনে খন্ডকালীন সময়ে বিএনপির সাবেক এমপি হিসেবে মোহাম্মদ আলী ছিলেন আলোচিত। ২০০৬ সালের ৩০ অক্টোবর বিএনপি নেতৃত্বে চারদলীয় জোট সরকার পতনের সময় তিনি ছিলেন ব্যবসায়ী প্রধান সংগঠন এফবিসিসিআই’র ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এরপর ১/১১ সরকার ও আওয়ামীলীগের টানা সরকার সময়ে মোহাম্মদ আলী ছিলেন বিএনপির সাবেক এমপি ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ছিলেন সক্রিয়। ২০১৪ সালের নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমানের পাশে দেখা মিলে মোহাম্মদ আলী। এরপর থেকে তার মুখ থেকে আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মজিবুর রহমান ও দলীয় স্লোগান শোনা যায়। এতে বিএনপি নেতাকর্মী ও আওয়ামীলীগের শীর্ষ পর্যায়ে সমালোচনা করেন। ইতোমধ্যে মোহাম্মদ আলীকে ওসমান পরিবারের দালাল আখ্যা দিয়ে তুমুল সমালোচনা করে যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। এবার নতুন মেরুকরণে মোহাম্মদ আলী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হয়েছেন।
অন্যদিকে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার জেলা বিএনপি নেতৃত্বে বিগত ১/১১ সরকার ও আওয়ামীলীগ সরকার আমলে প্রধান সারি নেতা ছিলেন তিনি। একই সাথে তারেক রহমান গ্রেপ্তার হওয়া পর তার মামলা পরিচালনা করেছিলেন তৈমূর। যার কারণে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া নারায়ণগঞ্জে তৈমূর আলম খন্দকারকে চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা করেন। ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হন তৈমূর আলম খন্দকার। ওই সময়ে নির্বাচনে আগের রাতে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো ঘোষনা দেন দলের প্রধান। এর জের ধরে ২০২২ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তৃতীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন তৈমূর। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গে কারণে তাকে দল থেকে বহিস্কার করেন বিএনপি। দীর্ঘ সময়ে তার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার না হওয়ায় ২০২৩ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের আগে তৃনমূল বিএনপি যোগদান করে কেন্দ্রীয় মহাসচিব হন। নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে প্রার্থী হয়ে জামানত হারিয়ে রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়েন তৈমূর আলম খন্দকার। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর চলতি বছরের তৃণমূল বিএনপি চেয়ারম্যান ও মহাসচিব পদত্যাগ করেছেন বিএনপি ফিরে যাবার আশায়।
জানা গেছে, বিএনপি ফেরার লক্ষ্যে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগে পরে বিএনপি থেকে ছুটে যাওয়া শীর্ষ নেতাদের দলে ফেরার বার্তা রয়েছে। যার কারণে শমসের মবিন ও তৈমূর আলম খন্দকার সহ একাধিক শীর্ষ নেতারা বিএনপিতে ফিরে আসতে পারে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির নির্বাহী চেয়ারম্যান ও বিএনপির সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, আমি ইতোপূর্বে বিএনপি থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলাম। এবার জোটের কারণে আমি এই আসন থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছি। বিএনপি একটা বড় দল। বিগত দিনে আমি সবার সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করেছি। ফতুল্লা আসনের ৭টি ইউনিয়নে এমন কোন এলাকা নেই যেখানে আমার কাজ হয়নি। আমি এখান থেকে নির্বাচিত হলে সন্ত্রাস মাদকমুক্তসহ যা প্রয়োজন সব করবো।
তার সাথে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির চেয়ারম্যান আবু হানিফ হৃদয় বলেন, গত জুলাই মাসে মামলা করে নিবন্ধন পেয়েছি। তখনই আমি মোহাম্মদ আলী সাহেবকে দলে যোগ দেয়ার অনুরোধ জানাই। কিন্তু তিনি তার সবশেষ নির্বাচন বিএনপি থেকে করতে চেয়েছিলেন। বিএনপি থেকে নমিনেশন না পাওয়ার পরে তিনি বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টিতে যোগ দেন। ইতোমধ্যে তাকে রেজুলেশন করে নির্বাহী চেয়ারম্যান করেছি। এটা নির্বাচন কমিশনকেও অবগত করেছি। আগামীতে কাউন্সিল করে তাকে চেয়ারম্যান বানানো হবে। আমরা সারাদেশে ৭৭টি মনোনয়ন বিক্রি করেছি যার মধ্যে ১৫-২০টি টিকবে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন গুরুত্বপূর্ণ। আশা করছি নারায়ণগঞ্জের সন্তান হিসেবে আপনারা দলমত নির্বিশেষে মোহাম্মদ আলীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। আমাদের ভিশন ২০৫০।































-20260102160818.jpg)


আপনার মতামত লিখুন :