News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২

রাতের মহাসড়ক ভয়ঙ্কর


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি প্রকাশিত: জানুয়ারি ৭, ২০২৬, ১০:১৫ পিএম রাতের মহাসড়ক ভয়ঙ্কর

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম চরম নিস্ক্রিয়তার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। যার সুযোগে গোটা দেশে অপরাধীরা নির্ভয়ে অপরাধ কার্যক্রমে জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছেন। এটি নারায়ণগঞ্জেও দৃশ্যমান। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে বর্তমানে ছিনতাইকারী আর ডাকাতদের দৌরাত্ম কয়েকগুণ বেড়েছে। এই অপরাধীরা প্রতিনিয়ত মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী মানুষের সর্বস্ব লুট করে তাদের চরমভাবে আঘাতও করছেন। যার বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে ভীতি তৈরি হয়েছে। এককথায় সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এদিকে প্রশাসনের নাকের ডগায় একের পর এক ঘটনা সংঘটিত হওয়া সত্ত্বেও তারা পরিস্থিতি সামলাতে বর্থ হচ্ছেন।

দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড হতে মেঘনা টোলপ্লাজার প্রায় ২১ কিলোমিটারে ছিনতাই-ডাকাতি নিত্যদিনের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। দিনের বেলায় আকাশের উজ্জ্বল আলোতে এই কার্যক্রম দৃশ্যমান দেখা না গেলেও সূর্যের আলো নামতেই সংঘবদ্ধ অপরাধীরা মানুষের জানমালের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছেন। বলাচলে মহাসড়কের এই অংশটুকু তাদের অভয়ারণ্য। আর এসব কার্যক্রমকে সফলতায় সুবিধা করে দিচ্ছেন সড়কজুড়ে না থাকা আলোকবাতি এবং যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ে যানজট সৃষ্টি হওয়া।

সড়ক পরিদর্শন করে দেখা গেছে, মহাসড়কের বেশিরভাগ অংশে সরকার কর্তৃক জননিরাপত্তার লক্ষ্যে লাগানো সড়কবাতি নেই। যার ফলে দিনের বেলায় ঠিকঠাক থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে চলাচলকারী পরিবহনের আলো ব্যতিত মহাসড়ক অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে থাকে। আর আলো না থাকার এই সুযোগকে অপব্যবহার করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি তুলনামূলক সিটি ক্যামেরারও ঘাটতি রয়েছে। অপরদিকে বিভিন্ন মিল-ইন্ডাস্ট্রির মালামাল আনা-নেওয়ার কাজে নিয়োজিত বড়বড় কন্টেইনারও মহাসড়কে থামিয়ে রাখার কারণে প্রায় সময়ই যানজট সৃষ্টি হয়ে গাড়ি আটকে থাকে। গাড়ি আটকে থাকার সময়টাতে সংঘবদ্ধ অপরাধীরা মানুষকে হামলা করে সর্বস্ব লুটে নিয়ে যায়।

তথ্য নিয়ে জানা গেছে,মহাসড়কের সাইনবোর্ড, কাঁচপুর ব্রিজ ও ব্রিজের নিচ, মদনপুর বাসস্ট্যান্ড, লাঙ্গলবন্দ ব্রিজের আশপাশ, মোগরাপাড়া এবং মেঘটনা টোলপ্লাজায় প্রতিনিয়ত ডাকাতি হচ্ছে। এতে নিঃস্ব হচ্ছে ভুক্তভোগীরা।

এদিকে ডাকাত-ছিনতাইকারীদের এমন তান্ডবে প্রশাসনের কার্যক্রমে ত্রুটির দায়ে ঘটছে বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের। মানুষজন বলছে, বর্তমান সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে অপরাধীরা বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, যার ফলে মানুষ প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রশাসন আদৌ মানুষকে নিরাপত্তা দিতে পারছেন না।

গেলো কয়েকমাসে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ডাকাতি-ছিনতাইয়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওগুলোর মধ্যকার কয়েকটির বিবরণ তুলে ধরা হলো : গত ২৪ ডিসেম্বর রাতে মহাসড়কের সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন, নয়াগাঁও এবং আষাঢিয়ারচর এলাকায় তিনটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সে রাতে তারেক রহমানের জন্য পূর্বাচলে আয়োজিত সংবর্ধনা যোগ দিতে যাওয়াকালীন সময়ে পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় ডাকাতদের হামলার শিকার হন কুমিল্লার লালমাই থানার বিএনপির নেতা শহীদ, বাবুল মেম্বার, মনির হোসেনসহ কয়েকজন বিএনপি নেতা। তাদের গাড়ি ভাংচুর করে নগদ টাকা, মোবাইল সেটসহ সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যায়। হামলায় আহত হন অন্তত বিএনপির পাঁচ নেতা।

একই রাতে আষাঢিয়ারচর এলাকায় আরেকটি গাড়ি বহরে থাকা বিএনপি নেতাদের উপর হামলা করে তাদের সর্বস্ব লুটপাট করে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ভোরে নয়াগও এলাকায় সংঘবদ্ধ ডাকাতদের হামলায় আক্রান্ত হন কাতার প্রবাসী রিফাতুজ্জামান।

এরপর ২ জানুয়ারি রাতে সাইনবোর্ড অংশে প্রকাশ্যে একদল ডাকাত ডাকাতি করার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এর একদিন অর্থাৎ ৩ জানুয়ারি আবু আইয়ুব আনসারী নামক এক ইসলামী বক্তা মেঘনা ব্রিজের সামনে ঘটা ডাকাতির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে। পোস্টে তিনি লিখেন, কাঁচপুর থেকে সোনারগাঁও মেঘনা ব্রিজের পুরো রাস্তা ঘন্টার পর ঘন্টা জ্যাম ছিল। আর এই জ্যামের মধ্যেই একের পর এক বাস প্রাইভেট কার মাইক্রোবাস ভাঙচুর সহ লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এটা আসলে অত্যন্ত দুঃখজনক।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মতো একটি জায়গায় কোন প্রশাসন চোখে পড়েনি, এই হচ্ছে আমাদের দেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তার অবস্থা। এদিকে এছাড়াও অসংখ্য ডাকাতি-ছিনতাইয়ের দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়ে মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।

মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় ব্যর্থতার কারণ জানতে চাইলে কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের জিলানী বলেছেন, আমরা সড়কজুড়ে নিয়মিত টহলে থাকি। আমি এখানে জয়েন করার পর থেকে এখন পর্যন্ত ২০ জনকে করে থানায় হস্তান্তর করেছি। মূলত এখানে মেঘনাসহ বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি থাকায় তাদের বড়বড় কন্টেইনার গাড়ি থামিয়ে রাখার ফলে যানজট সৃষ্টি হয় আর এই যানজটের সুযোগেই অপরাধীরা এসব কৃতকর্ম করছে। আমাদের কোনো গাফলতি নেই।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিবুল্লাহ বলেন,মহাসড়ক হাইওয়ের থানার অধীনে থাকা সত্বেও আমরা উপজেলা ও মহাসড়কের জন্য প্রতিদিন ৫টি টহল টিম রেখেছি। অপরাধী নির্মূলে আমরা নিয়মিত অভিযানও দিচ্ছি।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বারিক জানিয়েছেন,আমি যোগদানের পর হতে আমাদের থানা এরিয়ায় ডাকাতি কিংবা ছিনতাইয়ের মামলা হয়নি। ইতোপূর্বে হলেও সেটা আমার দেখে বলা লাগবে।

র‍্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচএম সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন,আমরা ডাকাতি ছিনতাই রোদে তাৎপর রয়েছি। ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনা নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। নারায়ণগঞ্জে আমাদের দু'টি টহল টিম নিয়মিত কাজ করছে। 

Ad Placement 1
Ad Placement 2
Islam's Group