News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২

শততম শুনানিতেও জমা পড়েনি ত্বকী হত্যা মামলার প্রতিবেদন


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জানুয়ারি ৭, ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম শততম শুনানিতেও জমা পড়েনি ত্বকী হত্যা মামলার প্রতিবেদন

নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলায় আদালতের শততম কার্যদিবসের শুনানিতেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাব।

বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরীর আদালতে মামলার শুনানি হয়। শুনানি শেষে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।

মামলার সাত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা হলেন আজমেরী ওসমানের সহযোগী ইউসুফ হোসেন, ইয়ার মোহাম্মদ পারভেজ, তায়েফ উদ্দিন, মামুন মিয়া, কাজল হালদার, সাফায়েত হোসেন শিপন ও রিফাত বিন ওসমান।

অন্যদিকে পলাতক আসামি সুলতান শওকত ও সালেহ রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন প্রদীপ ঘোষ ও জিয়াউল ইসলাম। প্রদীপ ঘোষ বলেন, ‘আদালতের শততম কার্যদিবস ছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে আজও অভিযোগপত্র জমা পড়েনি। আমরা আদালতের কাছে তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদন না দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছি।’

তিনি বলেন, ধার্য তারিখে আদালতে হাজিরা দিয়েছেন সাত আসামি। দুই আসামি পলাতক। তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

এর আগে গত বছরের ২৭ নভেম্বর ৯৯তম কার্যদিবসের শুনানিতে আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিলের তাগিদ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্দেশের পরও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।

ছেলে হত্যার বিচার না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার দেড় বছর হতে চলল। অন্যদিকে মামলার শততম ধার্য দিন পার হলো। এরপরও অভিযোগপত্র না দেওয়া তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত ব্যর্থতা। তাঁরা বিভিন্ন সময় তদন্তে অগ্রগতির কথা বললেও বাস্তবতার সঙ্গে কোনো মিল নেই।

যোগাযোগ করলে তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাব-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, তদন্তকাজ চলমান। তদন্ত শেষে শিগগিরই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরের শায়েস্তা খাঁ সড়কের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দুই দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর ও ইউসুফ হোসেনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-১১। এর মধ্যে সুলতান শওকত ভ্রমর ও ইউসুফ হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আদালতের জবানবন্দিতে সুলতান শওকত ভ্রমর জানান, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। ২০১৪ সালের ৫ মার্চ তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদেরই টর্চার সেলে আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। অচিরেই তারা অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করবে। কিন্তু সেই অভিযোগপত্র আজও দাখিল করা হয়নি।

Ad Placement 1
Ad Placement 2
Islam's Group