নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ প্রতিদিন ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন। ছিনতাইয়ের বেশির ভাগ ঘটনা ঘটে রাতের বেলা। তবে চাষাঢ়া থেকে পঞ্চবটি পর্যন্ত চলে যাওয়া ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কে ছিনতাই হয় দিনরাত চব্বিশ ঘন্টা। সড়কটির পুলিশ লাইনস থেকে চাষাড়ার কলেজরোড এলাকা পর্যন্ত এ ধরনের অপরাধ বেশি সংগঠিত হচ্ছে। জানা গেছে, ছিনতাইকারীদের বেশ কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্র ছিনতাইয়ের পর চাষাঢ়া-পঞ্চবটি সড়কের মাসদাইর শ্মসান ও কবরস্থানে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে সেখান থেকে নিরাপতে সরে যান। এই সড়কের দক্ষিণ দিকে চলে যাওয়া মাসদাইর, গলাচিপা, বোয়ালিয়াখাল, বিসিক ও আশপাশের কয়েকটি এলাকাও ছিনতাইয়ের রেডজোনে পরিণত হয়েছে। তবে পুলিশের জনবল কম থাকায় এসব এলাকায় নিয়মিত টহল দেয়াও সম্ভব হচ্ছেনা। ফলে ছিনতাইয়ের ঘটনা কোনো ভাবেই থামছে না।
ইসদাইর এলাকার বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন চাষাঢ়া-পঞ্চবটি সড়কের পাশে একটি মুদী দোকান পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, ভোর বেলা ছিনতাই বেশি হয়। গামের্ন্টের মহিলাগুলোরে ধরে ধরে তাদের টাকা পয়সা, মোবাইল সব কেড়ে নেয়। আরো এমন সব কাজ করে যা বলাও যায়না। পুলিশ কয়টারে ধরবো? ছিনতাইকারীর অভাব নাই। নেশার টাকা জোগাড় করতে পাগল হয়ে যায়। পুলিশ একা পারবো না, এলাকায় এলাকায় পঞ্চায়েত কইরা এগুলো দমন করতে হইব।
একই এলাকার আরো এক ব্যক্তি বলেন, সেদিন চোখের সামনে একজনকে কোপাইয়া টাকা পয়সা নিয়া গেসে। প্রতিদিন হয় এমন। পুলিশ কেমনে খুঁইজ্জা পাবে? তারা ছিনতাইয়ের পর মাসদাইর শ্মসানে গিয়া ঢুকে। গোরস্থানে গিয়া ঢোকে। মোরসাইকলে কইরা ছিনতাই করে। চোখের সামনে দেখি তবে কিছু করতে পারিনা।
জানতে চাইলে মাসদাইর শ্মসানের এক কর্মচারী বলেন, কথা সত্যি, ছিনতাইয়ের পর তারা এখানে আসে। আমরা তাদের কিছু বলতে পারিনা কারণ তাদের কাছে চাকু থাকে। এখন সিটি করপোরেশন দুইজন গার্ড দিসে। যাতে রাতের বেলায় কেউ ঢুকতে না পারে। এখন ৮ টার পর গেইট বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, ছিনতাই বন্ধে প্রতিদিন রাতে আমাদের পুলিশের টহল হয়। যেই সড়কের কথা বললেন সেখানেও টহল পুলিশ থাকে। তবুও এখন থেকে আমরা এখানে আরো বেশি করে নিরাপত্তা দিতে চেষ্টা করবো।

































-20260102160818.jpg)


আপনার মতামত লিখুন :