তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ১৫৪ মাস উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচির আয়োজন করে।
সংগঠনের সভাপতি মনি সুপান্থর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দীনা তাজরিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বি, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব হালিম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দীপু, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা জিয়াউল ইসলাম কাজল, সিপিবি জেলা কমিটির সভাপতি শীবনাথ চক্রবর্তী, বাসদ জেলা সদস্য সচিব আবু নাইম খান বিপ্লব, গণসংহতি আন্দোলন জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি মাহমুদ হোসেন, সামাজিক সংগঠন সমমনার সাবেক সভাপতি দুলাল সাহা ও আবৃত্তি শিল্পী ফাহমিদা আজাদ।
রফিউর রাব্বি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে বিচার-ব্যবস্থাকে যে ভাবে ধ্বংস করে রেখে গেছেন তার উল্লেখযোগ্য কোন পরিবর্তন হয় নাই। বুধবার ত্বকী হত্যা মামলার একশ কার্য দিবস অতিবাহিত হলেও এখনো তদন্তকারী সংস্থা র্যাব আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিতে পারেনি। শেখ হাসিনা শামীম ওসমানকে রক্ষা করার জন্য সাড়ে এগারো বছর বিচারকার্য বন্ধ করে রেখেছিলেন, কিন্তু সরকারের বদল হেলেও সে ব্যবস্থায় তেমন কোন পরিবর্তন আসেনি।
তিনি বলেন, চব্বিশে বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান হলেও বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ধর্মীয় বৈষম্য, লৈঙ্গিক বৈসম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ভিন্ন মতকে দমনে একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, তাদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য। এইটি আমাদের শত শত বছরের অর্জনকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। যে স্বপ্ন নিয়ে মানুষ শেখ হাসিনার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে এসেছিল তা ধুলিস্মাৎ হতে চলেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছর হলেও সাগর-রুনী, তনু, ত্বকী হত্যার বিচারে উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি হয়নি।
হালিম আজাদ বলেন, দেশে সকল ধর্মের, সকল মত ও পথের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে এখনো বাধা রয়েছে। দেশে যে ভাবে দুর্বৃত্ত, মাফিয়া, গডফাদারদের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল তাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি।
সমাবেশে বক্তারা ত্বকী হত্যার নির্দেশদাতা শামীম ওসমানসহ সকল ঘাতকদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার শুরু করার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দু’দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর ও পরে কাজল হাওলাদার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। তারা জানায় আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। ৫ মার্চ ২০১৪ তদন্তকারী সংস্থা র্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদেরই টর্চারসেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। অচিরেই তারা অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করবে। কিন্তু সে অভিযোগপত্র আজো পেশ করা হয় নাই। ত্বকী হত্যার পর থেকে বিচার শুরু ও চিহ্নিত আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ আলোক প্রজ্বালন সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।





































-20260102160818.jpg)



আপনার মতামত লিখুন :