২০ জুন শনিবার বিএনপি নেতা দৈনিক দেশের আলোর সম্পাদক ও প্রকাশক আনিসুল ইসলাম সানি ৬৬ পেরিয়ে ৬৭তে পা রাখলেন। শনিবার থেকে ৬৬ বছর পূর্বে আজকের এই দিনে ১৯৬০ সালে নারায়ণগঞ্জ শহরের ১নং বাবুরাইলে এক মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। আজ তার ৬৬তম জন্ম বার্ষিকী। তার পিতা নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক মরহুম মো. সামসুল ইসলাম ছিলেন নারায়ণগঞ্জ কো-অপারেটিভ টাউন ব্যাংক এর চেয়ারম্যান এবং মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পূর্বে তৎকালীন অসহযোগ আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারী ছাত্র নেতাদের সহযোগিতাকারী, পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিক সাহায্য দানকারী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
তার মা মরহুম জাহানারা ইসলাম ছিলেন নারায়ণগঞ্জ শহর (বর্তমানে মহানগর) জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাতা সিনিয়র সহ-সভানেত্রী। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পূর্ববর্তী ছাত্র আন্দোলনকালীন ও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় ছাত্র নেতাদের কারো কাছে ‘আপা’ কারো কাছে ‘ভাবি’ হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু সড়কস্থ উকিলপাড়া জামে মসজিদের জমিটিও তিনি ওয়াক্ফ করে গেছেন যার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন তার দ্বিতীয় ছেলে আনিসুল ইসলাম সানি।
তিন ভাই দু’বোনের মধ্যে বেঁচে আছেন আনিসুল ইসলাম সানি ও ছোট এক বোন। বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত আছেন আনিসুল ইসলাম সানি। তিনি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি ও জেলা জাগদল এর প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে একজন। তিনি স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়াও তিনি বিএনপি’র অন্যতম অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস এর প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৭৮ সাল থেকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধীষ্ঠিত ছিলেন। বর্তমানে তিনি জাসাস জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি অনেকবার কারাবরণসহ বহু মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন, তার বাড়িতেই ছিল নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি অফিস যা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজে উদ্বোধন করেছেন। তার বাড়িতে অবস্থিত বিএনপি অফিস থেকেই স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলন পরিচালিত হতো।
আনিসুল ইসলাম সানি নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একটি সুপরিচিত মুখ। তিনি নারায়ণগঞ্জ নাট্য সম্প্রদায়, প্রকাশ ক্লাব, আজকাল নাট্য সংসদ (ঢাকা) সহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা হওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নাট্য সংস্থার সভাপতি। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়াও তিনি ঐতিহ্যবাহী নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিঃ ও বাংলাদেশ হোসিয়ারি এসোসিয়েশন এর নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান।
তিনি নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব এবং নিউ ইয়র্কস্থ আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবেরও সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন দৈনিক দিনকাল পত্রিকার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ও ব্যুরো চিফ ছিলেন। তিনি স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ধানমন্ডী গভঃ বয়েজ হাই স্কুল থেকে এসএসসি ও ঢাকা কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন। বর্তমানে তিনি শহরের চাষাঢ়াস্থ শহীদ জিয়া হলটি পুনঃনির্মাণের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন, পাশাপাশি প্রস্তাবিত নারায়ণগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালটি ‘বেগম খালেদা জিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’ নামে স্থাপনের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন। আজ তার ৬৬তম জন্মদিনে তিনি সকলের ভালোবাসা ও দোয়া কামনা করেছেন।


































আপনার মতামত লিখুন :