শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে দেওভোগের বাসা থেকে আটক হয়ে কাশিমপুর মহিলা কারাগারে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। মুক্তি পেয়ে সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে নিজ বাড়িতে ভালোই ছিলেন। কিন্তু গত ১৩ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ আদালতে একটি মামলার হাজিরা শেষে গাড়িতে ওঠার আগে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন তিনি। মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু ইতোমধ্যে তাঁর বাড়ির ইট খুলে ফেলার হুমকি দিয়েছেন। আইভীর এই কর্মকাণ্ডে তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরাও আতঙ্কে আছেন।
খবর অনুযায়ী, আদালতে স্লোগান দেওয়ার রাতেই আইভীর আইনজীবী জিয়াউল ইসলাম কাজল, তাঁর ভাই আতিকুল ইসলাম ও আরেক আইনজীবী মাহবুব রহমান তুষারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
জিয়াউল ইসলাম কাজল একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে আইভীর রাজনৈতিক সহযোগীদের অনেকে এখনো গ্রেপ্তারের আতঙ্কে আছেন। অনেকের আত্মগোপনে চলে যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
এদিকে মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, আদালতে আইভীর সঙ্গে যাঁরা ‘জয় বাংলা’ বলেছেন, তাঁদের সবাইকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করা হবে।
আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের প্রায় সবাই রাজনৈতিকভাবে দিশেহারা হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সেখানে নিজ শহরে থেকেও আইভী কেন প্রকাশ্যে বারবার এমন স্লোগান দিচ্ছেন, তা তাঁর অনুসারী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদেরও বোধগম্য নয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও ১৫ আগস্ট নগরীর দুই নম্বর রেলগেট এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের নিয়ে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে দেখা গিয়েছিল আইভীকে। এরপর তাঁকে নিজ বাসা থেকে আটক করা হয়। কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে দীর্ঘ এক বছর নীরব ছিলেন তিনি।
তবে হঠাৎ কেন সরব হলেন আইভী? দলের প্রতি শ্রদ্ধা ও আনুগত্য থেকেই কি এমন স্লোগান, নাকি ডিসেম্বরের আগে নিজেকে আলাদাভাবে উপস্থাপনের কৌশল? এ প্রশ্নও রয়েছে অনেকের মনে।

























-20261014113949.jpg)








আপনার মতামত লিখুন :