নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি আবদুল্লাহ আল আমিন তার নিজ এলাকার তিনটি বিষয়ের উপর সড়ক ও সেতু মন্ত্রনালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় বরাবর ডিও লেটার প্রেরণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার এই ডিও লেটারগুলো মন্ত্রী বরাবর জমা দেয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনের রাজনৈতিক সচিব সাদ আহমেদ।
তিনটি ডিও লেটারের মধ্যে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ে দুইটি পাঠানো হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে ঢাকা নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়ক (চাষাঢ়া-পঞ্চবটি-পোস্তগোলা) ৬ লেনে উন্নিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে। ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের স্টেডিয়াম এলাকায় জরুরী ভিত্তিতে একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ প্রসঙ্গে। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর পাঠানো হয়েছে ফতুল্লা থানাকে বিভক্ত করে নতুন একটি থানা প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে।
ফুটওভার ব্রিজের দাবীতে প্রেরিত ডিও লেটারে লিখেন, আমার নির্বাচনী এলাকা নারায়ণগঞ্জ-৪ এর অন্তর্গত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের স্টেডিয়াম এলাকাটি অত্যন্ত ব্যস্ত, জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অংশ। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক পথচারী, শিক্ষার্থী, চাকুরিজীবী ও সাধারণ মানুষ উক্ত মহাসড়ক অতিক্রম করে থাকেন। কিন্তু উক্ত স্থানে কোনো ফুট ওভারব্রিজ না থাকায় পথচারীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপার করতে হচ্ছে। ফলে প্রায়ই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে এবং নিরীহ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। প্রতিনিয়ত এ ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় স্থানীয় জনগণ চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
এমতাবস্থায়, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দুর্ঘটনায় প্রাণহানি রোধ এবং পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের স্বার্থে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের স্টেডিয়াম এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে একটি আধুনিক ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনার সদয় দৃষ্টি ও কার্যকর উদ্যোগ কামনা করছি।
ঢাকা নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার প্রসঙ্গে ডিও লেটারে এমপি লিখেন, ‘ঢাকা নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কটি (চাষাঢ়া-পঞ্চবটি-পোস্তগোলা) ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক যোগাযোগ করিডোর। প্রায় ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি ফতুল্লা ও পঞ্চবটি হয়ে পোস্তগোলার সঙ্গে চাষাড়াকে সংযুক্ত করেছে। শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, বিসিক ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্য দিয়ে সড়কটি অতিক্রম করায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে।
বর্তমানে সড়কটির বিদ্যমান অবকাঠামো ও প্রশস্ততা ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপের তুলনায় অপর্যাপ্ত। চাষাড়া, পঞ্চবটি, ফতুল্লা, আলীগঞ্জ, পাগলা, শ্যামপুর ও পোস্তগোলা এলাকায় বিভিন্ন সময়ে যানজট ও চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ সড়কে রিকশা, গণপরিবহন, ট্রাকের পাশাপাশি ভারী পণ্যবাহী যান ও কনটেইনার মুভার চলাচল করায় সড়কটির সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট। সম্প্রতি, সড়কটিকে ৪ লেনে উন্নীত করার উদ্যোগের কথা জানা গেলেও বিদ্যমান ও ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপের তুলনায় সেটি একেবারেই অপ্রতুল হবে। বিশেষত, মুক্তারপুর ব্রিজ, পঞ্চবটী-মুক্তারপুর ফ্লাইওভার ও ৩য় শীতলক্ষ্যা সেতুর কারনে আশেপাশের অঞ্চলে প্রচুর যানবাহনও এদিক দিয়ে চলাচল করছে যা প্রতিনিয়ত আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ সড়কটি ৬ (ছয়) লেনে উন্নীত করা হলে শুধু ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের মধ্যে যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নই হবে না বরং বৃহত্তর ফতুল্লা অঞ্চলের কাশীপুর, গোগনগর, ফতুল্লা, কুতুবপুর ও এনায়েতনগর এলাকার বিপুলসংখ্যক জনগণ সরাসরি উপকৃত হবে। এসব এলাকার বাসিন্দাদের ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ শহর, শিল্পাঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকার সঙ্গে যাতায়াত আরও সহজ ও দ্রুত হবে। পাশাপাশি শিল্পকারখানার শ্রমিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের দৈনন্দিন চলাচলে সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল থেকে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এ সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সড়কটির সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হলে পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় কমার পাশাপাশি শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি পাবে এবং নারায়ণগঞ্জ শহরের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর ওপর যানবাহনের চাপও কমানো সম্ভব হবে। এমতাবস্থায়, চাষাঢ়া-পঞ্চবটি-পোস্তগোলা সড়কটি বিদ্যমান অবকাঠামো ও ভবিষ্যৎ যানবাহন প্রবাহ বিবেচনায় ৬ (ছয়) লেনে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সম্ভাব্যতা যাচাই, বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন এবং প্রকল্প গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য আপনার সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ডিও লেটারে নতুন একটি থানা প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গে এমপি লিখেন, ‘অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আপনার সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে, নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানা একটি বৃহৎ, ঘনবসতিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। ফতুল্লা থানার আওতাধীন ফতুল্লা, কুতুবপুর, এনায়েতনগর, কাশীপুর ও বক্তাবলী এলাকার সমন্বয়ে গঠিত এই বিস্তীর্ণ জনপদের ভোটার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫ লাখ হলেও ৩০ লাখের অধিক মানুষ বসবাস করে।
এই অঞ্চলে বিসিক শিল্পনগরীসহ বিপুল সংখ্যক শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র রয়েছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শ্রমিক, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষ এসব এলাকায় চলাচল ও বসবাস করেন। ফলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা এবং সর্বোপরি সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও দ্রুত পুলিশি সেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিস্তীর্ণ ভৌগোলিক এলাকা, বিপুল জনসংখ্যা, ঘনবসতি, শিল্পাঞ্চল, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে একটি মাত্র থানার বিদ্যমান প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে এত বিশাল এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণকে দ্রুত পুলিশি সেবা প্রদান করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে ফতুল্লা ও কুতুবপুর একদিকে এবং এনায়েতনগর, কাশীপুর ও বক্তাবলী অন্যদিকে-এই বিস্তৃত এলাকার ভৌগোলিক পরিধি ও জনসংখ্যার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পৃথক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও কার্যকর হবে। থানা বিভক্ত করা হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও নিবিড়ভাবে তদারকি, অপরাধ প্রতিরোধ ও তদন্ত কার্যক্রমে গতি, শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সাধারণ জনগণের জরুরি পুলিশি সেবা দ্রুত প্রদান করা সম্ভব হবে।
এমতাবস্থায়, বিপুল জনগোষ্ঠী, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্ব, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা এবং সর্বসাধারণের জানমালের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে ফতুল্লা থানাকে উপরোক্তভাবে বিভক্ত করে নতুন একটি থানা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণের জন্য আপনার সদয় হস্তক্ষেপ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করছি। আপনার সদয় বিবেচনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আন্তরিকভাবে অনুরোধ করছি।































আপনার মতামত লিখুন :