News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

রাতের নারায়ণগঞ্জ যতটা ভয়ংকর


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ১০, ২০২৬, ১০:২২ পিএম রাতের নারায়ণগঞ্জ যতটা ভয়ংকর

দিনের ব্যস্ততা কমে রাত নামলেই বদলে যায় নারায়ণগঞ্জের চিত্র। ব্যস্ত সড়কগুলো ফাঁকা হতে শুরু করে, বন্ধ হয়ে যায় অধিকাংশ দোকানপাট। কোথাও রাস্তার বাতি জ্বলে, কোথাও আবার অন্ধকারে ডুবে থাকে পুরো সড়ক। গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বাইরে অলিগলিতে মানুষের চলাচলও কমে যায়। ফলে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক জায়গায় নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয় সাধারণ মানুষের মধ্যে।

বিশেষ করে রাত ১০টার পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। চাষাঢ়া, দুই নম্বর রেলগেট, কালীরবাজার, নিতাইগঞ্জ, জিমখানা, খানপুর, দেওভোগসহ ব্যস্ত এলাকাগুলোতে মানুষের চলাচল থাকলেও কিছু সড়ক ও গলিতে নেমে আসে নীরবতা। শহরের বাইরে ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর ও রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকাতেও রাতের চিত্র আরও ভিন্ন।

রাতের নারায়ণগঞ্জে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায় নির্জন সড়ক ও পর্যাপ্ত আলোর অভাব। অনেক সড়কে বৈদ্যুতিক বাতি থাকলেও সবগুলো সচল নয়। কোথাও গাছপালা কিংবা স্থাপনার আড়ালে আলো পৌঁছায় না। আবার কোথাও ফুটপাত দখল বা সড়কের পাশে অব্যবস্থাপনার কারণে পথচারীদের মূল সড়ক দিয়েই চলাচল করতে হয়।

রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরা মানুষের দুর্ভোগও কম নয়। কারখানা, দোকান, মার্কেট কিংবা পরিবহন খাতে কাজ করা অনেক মানুষকে রাত পর্যন্ত বাইরে থাকতে হয়। তাদের কেউ হেঁটে, কেউ অটোরিকশা, সিএনজি কিংবা মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরেন। নির্জন সড়ক পেরোনোর সময় ছিনতাই বা হয়রানির আশঙ্কা তাদের মধ্যে কাজ করে।

চাষাঢ়া থেকে বিভিন্ন দিকে যাওয়ার সড়কের কিছু অংশ রাত বাড়লে তুলনামূলক ফাঁকা হয়ে পড়ে। একই চিত্র দেখা যায় শহরের ভেতরের কিছু সংযোগ সড়ক ও আবাসিক এলাকার প্রবেশপথে। দিনের বেলায় যেসব জায়গায় মানুষের ভিড় থাকে, রাতের বেলায় সেখানেই দেখা যায় ভিন্ন বাস্তবতা।

নগরবাসীর অভিযোগ, শুধু পুলিশি টহল বাড়ালেই রাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, পরিত্যক্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় নজরদারি এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে কার্যকর ক্যামেরা স্থাপনও জরুরি। একই সঙ্গে নিয়মিত টহল ও সন্দেহজনক কর্মকাÐে দ্রæত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাদের।

রাতের শহরের আরেকটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবহনের সংকট। নির্দিষ্ট সময়ের পর গণপরিবহনের সংখ্যা কমে যায়। ফলে অনেককে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প পরিবহন নিতে হয়। বিশেষ করে নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও একা চলাচলকারীদের জন্য বিষয়টি আরও উদ্বেগের।

শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও সব ক্যামেরা সচল আছে কি না, সেগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয় কি না এ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কোনো অপরাধ বা দুর্ঘটনার পর ফুটেজ খোঁজার বদলে নিয়মিতভাবে এসব ক্যামেরার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন নগরবাসী।

তবে রাতের নারায়ণগঞ্জ পুরোপুরি অরক্ষিত এমনটিও নয়। গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাজার, থানা ও ব্যস্ত এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি থাকে। বিভিন্ন সময়ে অভিযান ও টহলও পরিচালনা করা হয়। কিন্তু শহরের বড় অংশজুড়ে রাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু ব্যস্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

নগরবাসীর মতে, নিরাপদ শহর বলতে শুধু দিনের শহরকে বোঝালে চলবে না। যে মানুষটি রাতের শিফট শেষে বাড়ি ফেরেন, যে শিক্ষার্থী রাতে কোচিং বা পড়াশোনা শেষে বাসায় ফেরে, কিংবা যে নারী কর্মস্থল থেকে রাতে একা বাড়ি ফেরেন তাঁদের নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য রাতের নারায়ণগঞ্জের নিরাপত্তা নিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনা প্রয়োজন। কোন সড়কে আলো নেই, কোথায় নিয়মিত ছিনতাইয়ের অভিযোগ আসে, কোথায় পুলিশের টহল প্রয়োজন, কোথায় সিসিটিভি দরকার এসব তথ্য নিয়ে এলাকাভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা করা যেতে পারে। রাতের শহরটিও হতে হবে মানুষের চলাচলের উপযোগী ও নিরাপদ। কারণ দিনের ব্যস্ত নারায়ণগঞ্জের পরিচিত চেহারার আড়ালে রাতের নারায়ণগঞ্জে যে অস্বস্তি ও শঙ্কা তৈরি হয়, সেটিও নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনেরই অংশ।