News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

আলোচনায় নরঘাতকের ভাই-ভাতিজা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ৯, ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম আলোচনায় নরঘাতকের ভাই-ভাতিজা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলাগুলো থেকে অব্যাহতি চেয়ে পুলিশের কাছে আবেদন করার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছেন নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নূর হোসেনের ভাই নূর উদ্দিন মিয়া ও ভাতিজা শাহজালাল বাদল। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিভিন্ন কুকীর্তির কারণে খবরের প্রধান শিরোনাম হতেন তারা। নূর হোসেনের প্রভাব খাটিয়ে রাজত্ব করতেন গোটা সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা। তবে ৫ই আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুথানের পর আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্যান্য নেতাদের মতোন আত্মগোপনে চলে যান তারা। এসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বিভিন্ন হত্যা, হত্যা চেষ্টা মামলায় তাদের আসামি করা হয়। প্রায় দুই বছর তাদের কোনো হদিস না থাকলেও হঠাৎ করে তারা নিজ এলাকায় ফিরতে চান। সেই লক্ষ্যে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বরাবর মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য দিয়েছেন আবেদনপত্র। তবে হঠাৎ করে তাদের ফেরার ইচ্ছা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীসূত্রে জানা গেছে, জেলা পর্যায়ে বিএনপির এক শীর্ষ নেতাকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করেছেন। তার সহযোগিতায় তারা পুনরায় সিদ্ধিরগঞ্জে ফিরতে চান। একই সঙ্গে সামনে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে তাদের নির্বাচন করা অন্যতম প্রধান টার্গেট বলে জানা গেছে। এর ফলে তাদের হাত ধরে কারাগারে থেকেই নূর হোসেন পুনরায় সিদ্ধিরগঞ্জ নিয়ন্ত্রণ করতে চান। তবে তা কোনোভাবেই মেনে নিতে নারাজ বিএনপির নেতাকর্মী থেকে শুরু করে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। তাদের মধ্যে একদিকে যেমন ক্ষোভ কাজ করছেন অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে কাজ করছে চাপা আতঙ্ক। তারা নূর হোসেনের মতোন ভাই—ভাতিজার অন্যায় কর্মকান্ডের কঠিন শাস্তি দাবি করছেন।  

এর আগে গত ৩০ জুলাই নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া আবেদনে নূর উদ্দিন নিজেকে দীর্ঘদিনের বিএনপি নেতা হিসেবে দাবি করেন। অন্যদিকে শাহজালাল বাদল গত ২৭ সেপ্টেম্বর দেওয়া আবেদনে নিজেকে শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেন। দুজনই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে অব্যাহতি চেয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নূর উদ্দিন ও শাহজালাল বাদল—দুজনই আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ২০২২ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে শাহজালাল বাদল ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এবং নূর উদ্দিন ৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিজয়ী হন। ২০১৪ সালে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় নূর হোসেনের সঙ্গে তার ভাই নূর উদ্দিন ও ভাতিজা শাহজালাল বাদলসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছিল। এর আগে শাহজালাল বাদলের বিরুদ্ধে নূর হোসেনের সঙ্গে একটি অস্ত্র মামলায়ও অভিযোগ ছিল। ওই মামলায় আত্মসমর্পণের পর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।  

এদিকে পুলিশের কাছে দেওয়া আবেদনে নূর উদ্দিন ২৫টি মামলা এবং শাহজালাল বাদল ৩০টি মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। দুজনেরই দাবি, এসব মামলায় তাদের রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে জড়ানো হয়েছে। এখন তাদের আবেদনের পর সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর নথি পর্যালোচনা ও তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশের সিদ্ধান্ত কী হয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, নূর হোসেনের ভাই ও ভাতিজাকে ঘিরে এর আগেও রাজনৈতিক পরিচয়, কাউন্সিলর নির্বাচন এবং মামলা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নূর হোসেনের বিরুদ্ধে থাকা মামলার পাশাপাশি তার ভাই-ভাতিজার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময়ে মামলা হয়েছে এবং কিছু মামলায় তারা খালাসও পেয়েছেন। তবে বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ কেউ তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি  চান না। সবাই চান তাদের যেনো সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হয়।