News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

চাষাঢ়ায় জি স্কপের সমাবেশ মিছিল


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত: অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম চাষাঢ়ায় জি স্কপের সমাবেশ মিছিল

গার্মেন্টস শিল্প সেক্টরের শ্রমিকদের জন্য অবিলম্বে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন, জাতীয় পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরি কাঠামো ঘোষণা এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর করার দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (জি-স্কপ) নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে শুক্রবার বিকেল ৪টায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক, নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি ও জি-স্কপের কেন্দ্রীয় নেতা সেলিম মাহমুদ। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও জি-স্কপের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সমন্বয়ক বাচ্চু মিয়া, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী গার্মেন্টস শ্রমিক দলের নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি ইসমাঈল হোসেন কাউছার ও সাধারণ সম্পাদক মো. রনি, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের নারায়ণগঞ্জ জেলা সহসভাপতি হাসনাত কবির, বাংলাদেশ বস্ত্র ও পোশাক শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক হাসানুর রহমান, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি এম এ শাহিন প্রমুখ।

 

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এই শিল্পের শ্রমিকদের শ্রম, দক্ষতা ও উৎপাদনের ওপর নির্ভর করেই মালিকদের মুনাফা এবং দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পায়। অথচ দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও সন্তানদের শিক্ষার ব্যয়ের সঙ্গে সংগতি রেখে মজুরি বৃদ্ধি করা হচ্ছে না। ফলে শ্রমিকদের পক্ষে পরিবার-পরিজন নিয়ে সম্মানজনক জীবনযাপন করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সংগতি রেখে শ্রমিকদের জীবনধারণের উপযোগী মজুরি নিশ্চিত করতে হলে অবিলম্বে গার্মেন্টস শিল্প সেক্টরের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করতে হবে। জাতীয় পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, বৈষম্যহীন ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা করতে হবে। দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর করতে হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবিকে উপেক্ষা করে শিল্পে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, একের পর এক কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার শ্রমিক কর্মসংস্থান হারাচ্ছেন। বেকারত্ব ও আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে শ্রমিক পরিবারগুলো চরম সংকটে পড়ছে। কারখানা বন্ধের অজুহাতে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও আইনানুগ পাওনা আটকে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বন্ধ কলকারখানা চালুর কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

তাঁরা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম কোনো একক সংগঠনের বিষয় নয়; এটি গোটা শ্রমিকশ্রেণির জীবন-জীবিকা ও মর্যাদার প্রশ্ন। তাই গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সব শ্রমিক সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মালিকপক্ষ ও সরকারকে শ্রমিকদের দাবির প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।