News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

আগে বিলুপ্ত তারপর জেলা মহানগর বিএনপির কমিটি


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ১০, ২০২৬, ১০:১৩ পিএম আগে বিলুপ্ত তারপর জেলা মহানগর বিএনপির কমিটি

সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় ও জাতীয়ভাবে নানা ইস্যুকে কেন্দ্র কেন্দ্র করে যে কোনো নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত হতে পারে। ঢাকা সহ আশপাশের জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত হবে তারপর আবার নতুন করে কমিটি ঘোষণা করা হবে। এমনটাই কেন্দ্রীয় বিএনপির পরিকল্পনায় রয়েছে বলে বিএনপির নেতাদের সূত্রে জানা গেছে। সেই সাথে বর্তমান কমিটিতে যারা আছেন তাদের হয়তো অনেকেই নতুন কমিটি থাকবেন না।

বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কেন্দ্রীয় বিএনপি আগামী কিছুদিনের মধ্যেই সাংগঠনিক কার্যক্রমের দিকে নজর দিবে। যে সকল কমিটি অনেকদিন হয়ে গেছে কিংবা মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে প্রাথমিকভাবে সে সকল কমিটি বিলুপ্ত করে দেয়ার চিন্তা করছে। সেই সাথে বর্তমানে এসকল কমিটিতে যারা আছেন তাদের অনেকেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাই রাষ্ট্রের বিভিন্ন পদে রয়েছেন। যার কারণে তাদের অনেক ব্যস্ততা বেড়েছে।

সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাদের নজর দেয়া কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। একই সাথে পদে থাকা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের অনেকেই বিভিন্ন বিতর্কিত কর্র্মকান্ডে জড়িয়ে গেছেন। এসকল বিষয়কে কেন্দ্র করে আগের কমিটিগুলো বিলুপ্ত করা হবে। রাজধানী ঢাকা সহ আশপাশের জেলা ও মহানগর থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। যার ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটিও বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে।

দলীয় সূত্র বলছে, ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ৩৩ সদস্যের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিলো। বিএনপির তৎকালিন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিলো। কমিটিতে একজন আহবায়ক, তিনজন যুগ্ম আহবায়ক ও ২৯ জন সদস্য রাখা হয়েছে। আহবায়ক হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, যুগ্ম আহবায়ক মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, মাশুকুল ইসলাম রাজীব ও শরিফ আহমেদ টুটুল।

সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, আজহারুল ইসলাম মান্নান, লুৎফর রহমান আবদু, মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন, ইউসুফ আলী ভূঁইয়া, শহিদুল ইসলাম টিটু, মাজেদুল ইসলাম, মোশারফ হোসেন, আশরাফুল হক রিপন, মজিবর রহমান ভূঁইয়া, মোশতাক আহমেদ, শাহজাহান মেম্বার, শামসুল হক মোল্লা, বাছির উদ্দিন বাচ্চু, আব্দুল বারী ভূঁইয়া, তাসিকুল হক ওসমান, জুয়েল আরমান, মাহমুদউল্লাহ, একরামুল কবির মামুন, রিয়াজুল ইসলাম, আনোয়ার সাদাত সায়েম, রিয়াদ মো. চৌধুরী, রহিমা শরিফ মায়া, অকিল উদ্দিন ভূঁইয়া, সেলিম হক রুমী, নুরনবী ভূঁইয়া, নাদিম হাসান মিঠু ও হামিদুল হক খান।

এর আগে ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি জেলা বিএনপির পাঁচ সদস্যের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়। সেখানে আহবায়ক হিসেবে অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, যুগ্ম আহবায়ক মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, মাশুকুল ইসলাম রাজীব, শরিফ আহমেদ টুটুল ও মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দেড় মাসের মাথায় সেই কমিটি স¤প্রসারণ করে বিএনপি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর চলমান এই কমিটির আহŸায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে, সিনিয়র যুগ্ম আহŸায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য পদে, যুগ্ম আহবায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।

একই সাথে সদস্য পদে মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন দল থেকে বহিস্কৃত হয়েছেন এবং আজহারুল ইসলাম মান্নান নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি নিয়ে অনেকদিন ধরেই আলাপ আলোচনা চলমান রয়েছে। দিন যাওয়ার সাথে সাথে এই আলোচনা আরও বেশি জোড়ালো হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে মহানগর বিএনপির কয়েকটি কমিটি কেন্দ্রীয় নেতাদের দপ্তরেও জমা দেয়া হয়েছে। আর এসকল কমিটিগুলো যাচাই-বাছাই ও বিচার বিশ্লেষণ করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। সেই সাথে অতি শীঘ্রই নতুন কমিটি আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণার লক্ষ্যে কয়েকটি খসড়া কমিটি কেন্দ্রীয় বিএনপিতে জমা দেয়া হয়েছে। কোনো কমিটিতে বর্তমান মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে সভাপতি এবং আবুল কাউসার আশাকে সাধারণ সম্পাদক রাখা হয়েছে। আবার কোনো কমিটিতে সাখাওয়াত হোসেন খান আহবায়ক রেখে শওকত হাসেম শকুকে সদস্য সচিব; আবার অন্য কমিটিতে সাখাওয়াত হোসেন খান আহবায়ক রেখে সাথে মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ রাখা হয়েছে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির একটি প্রভাবশালী পক্ষ চাচ্ছেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে মাইনাস করতে। তারা বর্তমান সদস্য সচিব অ্যাডভেকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে আহŸায়ক এবং মহানগর যুবদলের আহবায়ক মনিরুল ইসলাম সজলকে সদস্য সচিব করে কমিটি জমা দিয়েছেন। তবে সকল কমিটিতেই অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে সামনে রাখা হয়েছে। সকলেই তাকে সামনে রেখেই এগিয়ে যেতে চান।

তার আগে, ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে আহŸায়ক হিসেবে অ্যাডভোকেট মো. শাখাওয়াত হোসেন খান এবং সদস্য সচিব হিসেবে অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

আর এই কমিটি ঘোষণার পর সম্মেলনের মাধ্যমে মহানগরের সকল ওয়ার্ড, সাতটি ইউনিয়ন, বন্দর উপজেলা, বন্দর থানা ও নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির কমিটির ঘোষণা দেন। যদিও এসকল কমিটিতে পদ পাওয়া নেতাদের নিয়ে অনেকে আলোচনা সমালোচনা রয়েছে। নেতাদের নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। তারপরেও তারা মহানগরের অধীনে থাকা সকল কমিটি ঘোষণা করেছেন। যা এর আগে সম্ভব হয়ে উঠেনি। 

এসকল কমিটি ঘোষণার পর মহানগর বিএনপির সম্মেলনের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো। কিন্তু এখন পর্যন্ত সম্মেলন করতে পারেননি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও আবু আর ইউসুফ খান টিপু। কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েও শেষ পর্যন্ত আর সম্মেলন করতে পারেননি। বর্তমান এই কমিটির আহবায়ক নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।

অন্যদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। আর এই পতনের সাথে সাথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গাঁ ঢাকা দিয়েছেন। এই অবস্থায় একদম খালি মাঠে রয়েছে বিএনপি। দীর্ঘদিন পর খালি মাঠে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি যেন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। অনেক সময় নিজেরাই নিজেদের সাথে প্রভাব আধিপত্যের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হচ্ছেন।

বিএনপির নেতাকর্মীরাই যেন বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতিদ্ব›দ্বী হিসেবে আবির্ভাব হয়েছেন। প্রতিনিয়তই নারায়ণগঞ্জের কোনো না কোনো এলাকায় কোনো না কোনো বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেতে উঠছেন। নিজেরাই নিজেদের কর্মী সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন। অনেক সময় শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের নির্দেশনাকেও তারা উপেক্ষা করেছেন।

এদিকে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। আর এই ক্ষমতায় আসার পর নারায়ণগঞ্জ বিএনপি সহ তাদের অঙ্গ সহযোগি সংগঠনগুলো আরও বেশি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছেন। কেউ কাউকেই মানতেই চাচ্ছেন না। যেন বিএনপির ও তাদের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনে সকলেই নেতা। আর তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না শীর্ষ পদধারী সিনিয়র নেতারা। যা দিন দিন বিএনপিকে বিতর্কিত করে তুলছে।