রাজনীতিতে পুলিশকে চ্যালেঞ্জ জানানো বা শাসানো নতুন কিছু নয়। দীর্ঘ দেড় দশক বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকা রাজনৈতিক নেতারা এখন দেশের ক্ষমতাকাঠামোর কাছাকাছি চলে এলেও বিরোধী দলের আচরণ এখনও চলে আসে জনসম্মুখে। আর সেই কারণেই কিছুটা কোনঠাসা হয়ে পড়তেই পুলিশের চামড়া তুলে নেয়া কিংবা থানার ইট খুলে নেয়ার হুমকি দিতে দেখা যায় রাজনৈতিক নেতাদের।
গত ৬ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ বার ভবনে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। আদালত একত্রে রাখা, আইনজীবী ফোরামের নেতৃত্ব ধরে রাখা, আগামী বার নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্তকরণ, নারী ও শিশু আদালতের পিপি নিয়োগ সহ নানাবিধ বিষয় নিয়ে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিলো সাখাওয়াত এবং আনোয়ার প্রধান অনুসারীদের মাঝে। এককালে আনোয়ার প্রধান নিজেই ছিলেন সাখাওয়াতের অনুসারী। এখন তিনি নিজেই বিদ্রোহ করেছেন সাখাওয়াতের সাথে।
ঘটনার সময় সাখাওয়াতের সাথে হাতাহাতিতে জড়ালে সাখাওয়াতের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য উভয়পক্ষকে নিবৃত করেন। চেষ্টা করেন সাখাওয়াতকে নিরাপদে রাখতে। কিন্তু এই ঘটনার পরেই বার ভবনের ভেতর আনোয়ার প্রধানকে স্লোগান দিতে দেখা যায়। ‘পুলিশের চামড়া তুলে নেব আমরা’। আনোয়ার প্রধানের সাথে সাথে তার অনুসারী আইনজীবীরাও একই স্লোগান দিতে থাকেন।
ক্ষমতাসীন দলের নেতা হয়ে রাষ্ট্রের একটি বাহিনীর সদস্যদের চামড়া তুলে নেয়ার হুমকি দেয়ার সমালোচনা করেন অনেকেই। সাখাওয়াতকে ফ্যাসিস্ট আখ্যা, পুলিশের চামড়া তুলে নেয়ার মত স্লোগান ভালোভাবে নেননি অনেকেই। ঘটনার দুইদিনের মাথায় আইনজীবী ফোরাম থেকে অনেকটা বিব্রত হয়ে পদত্যাগ করেছেন এমপি কালাম কন্যা এড. নূর বাঁধন।
পুলিশকে চামড়া তোলার বাইরে আরেক রাজনৈতিক নেতাকে দেখা গেছে থানার ইট খুলে নেয়ার হুমকি দিতে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর থানার ওসির রুমের সামনে দাঁড়িয়ে ইট খুলে নেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন জেলা এনসিপির আহবায়ক যুবায়ের সরদার। এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরী হয় জেলাজুড়ে।
জানা গেছে, ফতুল্লার বক্তাবলীতে এনসিপি নেতার উপর হামলার পর থানায় হাজির হয় এনসিপির নেতাকর্মীরা। এসময় মামলা করতে গেলে পুলিশ প্রথমে গড়িমসি করে। নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে উঠলে সেখানে এনসিপির জেলা আহবায়ক যুবায়ের কর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিতে থাকে। এক পর্যায়ে সে বলে, ‘আমি যুবাইর সরদার, নারায়ণগঞ্জ এনসিপির আহ্বায়ক। যদি আমার কোনো কর্মীর গায়ে হাত তোলে, লাশের বদলে লাশ নেব। যদি আমার একজন নেতাকর্মীর গায়ের রক্ত পড়ে আরেকবার, থানার ইটকল পর্যন্ত খুলে নেব।’
একদিকে এনসিপি নেতার মুখে থানার ইট খুলে নেয়ার হুমকি, অন্যদিকে বিএনপি নেতার মুখে পুলিশের চামড়া খুলে নেয়ার হুমকি। উভয় ঘটনায় স্পষ্ট হয় রাজনৈতিক নেতারা সহনশীল আচরণ করছেন না। উল্টো নিজেদের ক্ষমতা জাহির করতে পুলিশকে খাটো করছেন প্রতিনিয়ত। যা দাঙ্গা হাঙ্গামা উস্কে দেয়ার শামিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের প্রবণতার লাগাম টেনে নেয়া জরুরী। সেটা সাংগঠনিক ভাবে কিংবা আইনীভাবে।


































আপনার মতামত লিখুন :