নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ নেত্রী সেলিনা হায়াৎ আইভীর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার পর গ্রেপ্তার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জিয়াউল হক কাজল দাবী করেছেন তিনি বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হোসেন খান ও আবু আল ইউসুফ খান টিপুর দুঃসময়ে ছিলেন। তাদের জন্য তিনি আদালতেও দাঁড়িয়েছেন।
১৫ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের একটি আদালতে হাজির করা হয় কাজল সহ গ্রেপ্তার তিনজনকে। অপর দুইজন কাজলের ভাই আমিনুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান তুষার। এরই মধ্যে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলা কাজল ও তুষারকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ ও আমিনুলের ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আদালতে রিমান্ড শুনানীর সময়ে তোলার আগে গারদখানা থেকে নেওয়ার সময়ে গণমাধ্যম কর্মীদের দেখে কাজল বলেন, ‘আমি জিয়াউল ইসলাম কাজল সাখাওয়াত হোসেন খান ও টিপুর দুঃসময়ে ছিলেন। তারা যখন গ্রেপ্তার হয় আমি সিনিয়রদের সঙ্গে আদালতে দাঁড়িয়েছিলাম। আজকে আমাকে গ্রেপ্তার করা হলো। আমি স্লোগান দেই নাই। আইনজীবীদের কোন দল নাই।’
তুহিন হত্যা মামলায় ১৩ অক্টোবর নিম্ন আদালতে চ‚ড়ান্ত প্রতিবেদনের শুনানি ও সাবেক মেয়র আইভীর পুর্নজামিনের জন্য দিন ধার্য ছিল। শুনানিকালে তার আইনজীবী পুর্নজামিনের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। শুনানী শেষে বের হয়ে গাড়িতে উঠার সময়ে নেতাকর্মী বেষ্টিত ছিলেন আইভী। তখন তিনি স্লোগান ধরেন। বলেন, ‘জয় বাংলাকে দাবিয়ে রাখা যাবে না, জয় বাংলা’। এ স্লোগান দিয়েই তিনি গাড়িতে চড়েন। এ ঘটনার পর আইভীর আইনজীবী সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট বিবৃতিতে বলেছেন, আইভীর পক্ষে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কোনো অপরাধ নয়। আদালত প্রাঙ্গণে ঘটে যাওয়া ঘটনার সঙ্গে কাজল ও মুন্নার সংশ্লিষ্টতা নেই। তাঁদের অন্য একটি সহিংসতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন আন্দোলনে কাজল ও মুন্না সক্রিয় ভ‚মিকা রেখেছিলেন। অথচ সরকার পরিবর্তনের পরও বিচারব্যবস্থায় প্রত্যাশিত সংস্কার হয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের দুইদিন আগে ৩ আগস্ট বিকেলে চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সরকার সাংস্কৃতিক জোট ‘দ্রোহের গান ও কবিতা’ কর্মসূচী পালন করে। সেখানে কাজলকে সক্রিয় দেখা গেছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা ও নারায়ণগঞ্জ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে আইনের শাসন ব্যাহত করে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একজন আইনজীবীর পেশাগত দায়িত্ব হলো তাঁর মোয়াক্কেলের পক্ষে আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করা। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী আইনজীবীরা তাঁদের দায়িত্ব পালন করেন। কোনো মামলার আসামি কী স্লোগান দিয়েছেন, তা আইনজীবীদের বিবেচ্য বিষয় নয়। কাজল একজন লড়াকু জুলাইযোদ্ধা। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে। তিনি পরিবেশ আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সহসভাপতি ও নারায়ণ্গ্ঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য নয়।

























-20261014113949.jpg)








আপনার মতামত লিখুন :