রাকিবুল ইসলাম রাকিব। নামটি হঠাৎ করেই আলোচনায় নারায়ণগঞ্জ শহরে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সামনের নির্বাচনে বিএনপি ও এর সহযোগি সংগঠনের একটি বড় অংশের নেতাকর্মীদের কণ্ঠে এখন রাকিবের নাম। অনুসারীরা বলছেন বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির নির্যাতিত ও বিপদগ্রস্ত নেতাকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন ভরসারস্থল। এখন প্রতিদান স্বরূপ এসব নেতাকর্মীরা রাকিবকে সামনে আনতে শুরু করেছেন।
অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরই মধ্যে আলোচনায় সিটি করপোরেশন নির্বাচন। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ পেয়েছেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন প্রশাসক নিয়োগ হলেও দ্রুত সময়ে নির্বাচন হবে। অনেক প্রার্থীদের নিয়ে যখন নারায়ণগঞ্জ সরগরম তখন একটি নাম অনেকের কাছেই ভিন্নতা সৃষ্টি করছেন।
রাকিবুল ইসলাম রাকিব। পেশায় একজন ব্যবসায়ী। পরিচিত হওয়ার আরেকটি বিষয় তিনি নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির নব নির্বাচিত এমপি নজরুল ইসলাম আজাদের ছোট ভাই। ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনে তিনি আড়াইহাজারে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন। আজাদ যতটুকু মাঠ চষে বেড়িয়েছেন তার চেয়েও কম যাননি রাকিব।
আজাদের মনোনয়ন পাওয়ার পর বিএনপির নেতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাঠে নামানো ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। সেটাকে সম্ভব করেছেন রাকিব। সকাল থেকে মধ্যরাত, মাঝে কয়েক ঘণ্টার ঘুম দিয়ে ফের নেমেছেন আড়াইহাজারের পথে প্রান্তরে। কৃষকদের পাশে গিয়ে ক্ষেতে গিয়েছেন, নেতাদের বাড়ি গিয়ে জাগ্রত করেছেন ধানের শীষের জন্য। নিজ দলের একটি অংশ যখন প্রকাশ্য ও গোপনে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল তখন তাদের পাশ কাটিয়ে মোকাবেলার যে চ্যালেঞ্জ ছিল সেটা করেছিলেন রাকিব।
তিনি আড়াইহাজারের বাসিন্দা কিন্তু নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে হঠাৎ করেই তার নাম নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা আলোচনা।
সূত্র বলছে ভিন্ন কথা। তাদের তথ্যও ভিন্ন। রাকিব আড়াইহাজারের হলেও গত কয়েক বছর ধরে সিটি করপোরেশন এলাকাতে রয়েছে তার নানা প্রভাব। সেটাও একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। এখানকার যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল সহ অন্যান্য সহযোগি সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে রাকিবের সুসম্পর্ক। আওয়ামী লীগ আমলে এসব নেতাদের যে কোন বিপদে ছায়াসঙ্গী হয়ে কাজ করেছেন রাকিব। এছাড়া শহরের একাধিক স্থানে রয়েছে বসত বাড়ি।
বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, রাজপথে সক্রিয় ছিলেন আজাদ ও রাকিব। ফোকাস ছিল আজাদের দিকে। বড় ভাইকে সামনে রেখে মিছিল আর আন্দোলনের পেছনে থেকে নেতাকর্মীদের সামনে ঠেলে দিয়েছেন রাকিব। হাল ধরেছেন অনেক পরিবারের। মামলায় কিংবা গ্রেপ্তারে কারাগারে থাকা নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন তিনি। জামিন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে অনেক কর্মীর বাড়িতে বাজার পৌছানো, সন্তানদের পড়াশোনার ব্যবস্থাও করেন তিনি। এসব কারণেই অন্তরালে তিনি ছিলেন বেশ আলোচিত।
সামনা সামনিও কম যাননি তিনি। খালেদা জিয়া যখন কারাবন্দী হন সেদিন বিশাল মিছিল নিয়ে তিনি ছিলেন। এছাড়াও সরকার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকলে ছবি তোলার রাজনীতিতে নিজেকে পিছিয়ে রাখেন।
অনুসারী এও বলছেন, রাকিব গত কয়েক বছর ধরে সিটি এলাকার বিভিন্ন স্থানে অসহায়দের পাশে ছিলেন। কখনো আর্থিক অনুদান কিংবা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তিনি। কিন্তু এগুলো প্রকাশ ও প্রচার করা হয়নি। বরং নিভৃতে কাজ করেছেন তিনি। সেসব কারণেই সিটি করপোরেশন এলাকাতে অনুসারীরাও চান রাকিব সামনে আসুক। কারণ আড়াইহাজারের মত একটি জনপদে সংসদ নির্বাচন করার অভিজ্ঞতাও তাকে সবল করেছেন।


































আপনার মতামত লিখুন :