জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির মূল ধারাকে পাশ কাটিয়ে নিজেদের মনমত একটি গ্রুপ তৈরি করে প্রচারণা শুরু করেছিলেন ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামান। বিভিন্ন এলাকাতে গণসংযোগ কিংবা প্রচারণায় ছিল না বিএনপির মহানগর কমিটির নেতারা। সিনিয়র নেতাদেরও উপেক্ষা করা হতো। শেষতক মনোনয়ন হারানোর পর মাসুদের তল্পিবাহক বিএনপির বেশীরভাগ নেতারাই ধানের শীষ বাদ দিয়ে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন আবার কেউ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুনের পক্ষ নেয়। জোরালো চেষ্টা করে ধানের শীষের আবুল কালামকে পরাজিত করতে। এবার সেই গ্রুপ ফের সক্রিয়। তারা এখন মাসুদুজ্জামানের বার্তা নিয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে জনপ্রিয় সাবেক কাউন্সিলর প্রার্থীদের বাদ দিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের কাছে টানতে শুরু করেছেন। দেখা দিচ্ছে ফের গ্রুপিং।
বিএনপির একাধিক সূত্র জানান, মাসুদুজ্জামান বিগত সময়ে রোজার মধ্যে বিভিন্ন এলাকাতে গরুর মাংস বিলি করেছেন। এবারও শুরু করেছেন তবে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে বড় পরিসরে। এবার তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের দিয়ে আয়োজন করাচ্ছেন।
১৪নং ওয়ার্ডে শনিবার মাংস বিতরণের সময়ে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী দিদার খন্দকার বলেছেন, মাসুদুজ্জামান আমাকে ওয়ার্ড গোছানোর দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি ২০০ জনের জন্য মাংস পাঠিয়েছেন। সঙ্গে আমিও শরীক হয়েছি।
স্থানীয়রা জানান, গরুর মাংস বিতরণের সময়ে স্থানীয় কোন ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র নেতারা ছিলেন না। এছাড়া এ ওয়ার্ড সহ অন্যান্য ওয়ার্ডেও মাংস বিতরণের সময়ে সাবেক কাউন্সিলরদের ডাকা হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানান, মাসুদুজ্জামান আগামীতে সিটি করপোরেশন নির্বাচন করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। এজন্য তিনি সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডের নেতাদের কাউকে কাউকে কাউন্সিলর বানাবেন আশ্বাস দিয়ে কাছে টানার চেষ্টা করছেন। তাদেরকে বলা হচ্ছে মাসুদ মেয়র হবেন তারা হবেন কাউন্সিলর।
তবে বিএনপির একটি বড় অংশ আর মাসুদুজ্জামানের ফাঁকা বুলিতে নিজেদের আওড়াতে রাজী না। তারা বলেন, সংসদ নির্বাচন করবেন বলে মাঠে নামিয়ে তিনি আমাদের সকলের ঘাম ঝরিয়ে নিজের স্বার্থে সরে গিয়ে আমাদের যেমন অতল সাগরে ডুবিয়েছেন তেমনি বিএনপিকেও বিতর্কিত করেছেন। এবারও সে ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না সেটারও কোন নিশ্চয়তা নাই।


































আপনার মতামত লিখুন :