বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ইফতারের ৫ মিনিট আগে উপস্থিত হন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন। তিনি মঞ্চে না গিয়ে তিনি দাঁড়িয়ে বলেন এখানে ফ্যাসিবাদের দোসর আছে আমি এখানে বসতে পারি না। এর পরেই সেখানে বিসিক শিল্প নগরীর মালিকেরা সবাই দাঁড়িয়ে যান। তখন আমি সবাইকে বলছি তোমরা কেউ বিশৃঙ্খলা করবে না। তোমরা সবাই বের হয়ে যাও। পরে আমরা আয়োজকদের খবর দিয়ে কৈফিয়ত চাই যে কেন আমাদের দাওয়াত করে এমন ঘটনা হলো। পরে সেখানে প্রচুর শিল্প মালিকেরা জড়ো হয়। এর কিছুক্ষণ পর আমি পুলিশ সুপারকে বললাম এমপিকে নিরাপদে সেখান থেকে সরিয়ে নিতে। কারণ সেখানে মালিকেরা যেহেতু জড়ো হয়েছে তাদের সরিয়ে দিয়ে আমাদের এমপিকে সম্মানজনকভাবে সরিয়ে আনতে। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁকে নিরাপদে নিয়ে আসেন।
প্রসঙ্গত ফতুল্লায় জামায়াত ইসলামের এক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর আখ্যা’ দিয়ে বক্তব্য দেয়াকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এনসিপির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিনকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখানো হয়।
এসময় এনসিপির একাধিক নেতাকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এনসিপি নেতাদের অভিযোগ, হাতেমের ডাকে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা এসে অবরুদ্ধ করেছে এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনায় চারজন সামান্য আহত হয়েছে বলে দাবী তাদের। আহতরা হলেন, ফয়সাল, জোবায়ের, জাবেদ আলম ও তরিকুল ইসলাম।
প্রায় ২ ঘণ্টা পর অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। পরে তাকে পুলিশ প্রহরায় শহরের চাষাঢ়ায় এনসিপির কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে জানা যায়, ‘মঙ্গলবার বিসিকে টপ ফ্যাশন নামে একটি কারখানায় ব্যবসায়ীদের সাথে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনে এনসিপির এমপি আবদুল্লাহ আল আমিন। ইফতারের আগ মূহূর্তে অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে তিনি স্টেজে বিকেএমইএ’র সভাপতি হাতেমকে দেখতে পান। এসময় স্টেজে বসতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দর্শকদের সাথে বসেন। তাকে বক্তব্য দেয়ার অনুরোধ করলে তিনি বলেন, ‘আমি স্টেজে বসতে পারছি না কারণ ফ্যাসিস্টের দোসরের পাশে আমার বসা সম্ভব না।’
এই বক্তব্যের পরপরেই হাতেম স্টেজ থেকে উঠে যায় এবং তার অনুসারী ব্যবসায়ীদের নিয়ে বেরিয়ে যায়। ইফতারের পর ভবনটির নিচে জড়ো হয় হাতেমের অনুসারী ও ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাসেল এবং তার অনুসারীরা। এসময় তারা বিক্ষোভ করতে থাকে এবং এমপিকে হাতেমের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবী জানায়। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে সেখানে থাকা এনসিপির নেতাকর্মীদের সাথে হাতাহাতি হয়। খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ী। এমপি এখানে এসে কেন ফ্যাসিস্টের দোসর বলবে? আমরা তো কোন দল করিনা। তাকে ক্ষমা চাইতে হবে।’
প্রায় ২ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামানের নেতৃত্বে এমপি আবদুল্লাহ আল আমিন ও তার নেতাকর্মীদের বের করে নিয়ে আসে। পরে তাকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া এনসিপির কার্যালয়ে পৌছে দিয়ে যায়।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আব্দুল মান্নান জানান, ঘটনার সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষনিক পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরে এসপি স্যারের নির্দেশক্রমে আমাদের থানার পুলিশ, ডিবি পুলিশ সহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রাত ৮ টার পর কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে এমপি স্যারকে এনসিপির অফিসে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।






































আপনার মতামত লিখুন :