‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়-দলের চেয়ে দেশ বড়’ স্লোগানটি বিএনপির সকল স্তরের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন গত বছর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এমন মন্তেব্যে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে গম্ভীরতা সৃষ্টি হয়েছিলো। পরবর্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ও মহানগর বিএনপি আহবায়ক সাখওয়াত হোসেন খান তিনটি আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশিত ছিলেন। কিন্তু তাদের কাউকে মনোনীত করেনি দলের হাইকমান্ড।
মনোনয়ন বঞ্চিত দুই আহবায়ক যখন নিশ্চুপ হয়ে পড়েছিলো তখনই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক দায়িত্ব পেয়েছেন একজন। এমন সংবাদে দুই আহবায়কের মধ্যে উচ্ছাস দেখা মিলেছে। ইতোমধ্যে নাসিকের প্রশাসকের দায়িত্ব নিয়েছেন মহানগর বিএনপি আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান। ২৫ ফেব্রুয়ারি নাসিকের প্রধান চেয়ার প্রশাসক দায়িত্ব নেয়া কালে মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের প্রতিটি নেতাকর্মী ভবনের ভিতরে বাহিনে আনাগোনা ছিলো উপচেপড়া। ওই অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি আবুল কালাম ও জেলা বিএনপি আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ সহ জেলা মহানগর নেতারা ছিলেন। মহানগর বিএনপি তৃনমূল নেতাকর্মীরা উচ্ছ¦াসে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে সম্মান দিয়েছেন সাখাওয়াত হোসেনকে তা সারাজীবন মনে রাখার মত।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে আলোচনা রয়েছেন জেলা বিএনপি আহবায়ক মামুন মাহমুদ। সব ঠিক থাকলে দ্রুত সময়ে তাকেই ঘোষনা দিতে যাচ্ছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এমনতা জানা গেছে।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশি হয়ে সক্রিয় ছিলেন মহানগরের আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। ২০২২ সাল ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে আহবায়ক হয়ে নিস্ক্রিয় সক্রিয় নেতা-কর্মীদের দিয়ে মহানগর, সদর-বন্দর থানা ও বন্দর উপজেলা সহ ইউনিয়ন বিএনপিকে আওয়ামীলীগ সরকার বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে ছিলো। কিন্তু গত ৩রা নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নব্য যোগদানকারী মাসুদুজ্জামান মাসুদকে মনোনীত করায় সাখাওয়াত হোসেন খান বঞ্চিত হন। এতে আরো চার বঞ্চিতদের নিয়ে তিনি প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও সভা-সমাবেশে সক্রিয় হন। একই সাথে তার মহানগরের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু প্রথমে বঞ্চিতদের কাতারে থাকলেও মাত্র ১১ দিনের ব্যবধানে মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে নেমে পড়েন। যার কারণে মহানগর বিএনপি এখন একাধিক গ্রুপিং হয়ে মনোনীত ও বঞ্চিতদের পাশে রয়েছে তৃণমূল নেতাকর্মীরা। দলীয় কর্মসূচীতে সাখাওয়াত হোসেন খানকে এখন দেখা গেলেও সর্বত্র প্রকাশ্যে মিলছে না দেখা তাকে। তার সমর্থকরা জানিয়েছেন, বিএনপি চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষনা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশি হয়ে থাকবেন সাখাওয়াত হোসেন খান। চূড়ান্ত প্রার্থী পক্ষে হাইকমান্ডের বার্তা নিয়ে মাঠে নামবেন তিনি।
ইতোমধ্যে সাখাওয়াত হোসেন খানকে কাছে নেয়ার চেষ্টা করেছিলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদ। ১৩ নভেম্বর চেম্বার ও ১৭ নভেম্বর সদস্য সচিব টিপুর বাড়িতে মুখোমুখি হলেও নত হনননি সাখাওয়াত হোসেন খান। যার কারণে মহানগর বিএনপি আহবায়ক হিসেবে মাসুদুজ্জামান মাসুদের নির্বাচনী পরিচালনা প্রধান দায়িত্ব পালনে দূরে রয়েছেন। এরপরও তার অপেক্ষায় এখনো মনোনীত প্রার্থী ও তার অনুসারীরা রয়েছে।
জানা গেছে, সাখাওয়াত হোসেন খান ও এটিএম কামালের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নির্বাচনী পরিচালনা কমিটি আসছে। ইতোমধ্যে মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদের সাথে টিপু বিহীন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি চেয়েছেন ঐক্যবদ্ধ নেতারা।
অন্যদিকে গত ১৯ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ঘোষিত বিএনপি প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের প্রার্থীতা পরিবর্তনে দাবিতে সাত বঞ্চিত প্রার্থী চিঠি দেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে। ওই চিঠিতে স্বাক্ষর রয়েছে জেলা বিএনপি আহবায়ক অধ্যাপন মামুন মাহমুদের, এতে রীতি আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সাতজনের মধ্যে তার স্বাক্ষর সহ দুই সাবেক এমপি নাম থাকায় আলোচনা সৃষ্টি সোনারগাঁও ও সিদ্ধিগঞ্জের বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে। পরদিনই অধ্যাপক মামুন মাহমুদ সৌদি আরব যান ওমরা হজ্জ পালন উদ্দেশ্যে। এর আগে তিনি গত ৯ মার্চ স্ত্রী সহ ওমরাহ পালন করেন জেলা বিএনপি আহবায়ক। দুই ওমরাহে পালনে ছিলো বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সু-স্বাস্থ্য কামনায়।
এবার তিনি ওমরাহ হজ্জ শেষে ফিরে সোনারগাঁয়ে বড় সমাবেশ আয়োজন করে ছিলেন মামুন মাহমুদ। কিন্তু ২রা ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়া শারীরিক অবস্থা অবনতি হওয়া কারণে সমাবেশ আয়োজনটি স্থগিত করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটি জোটের প্রার্থীকে দেয়ার সম্ভাবনায় মামুন মাহমুদ নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন। মামুন মাহমুদ জেলা বিএনপি আহবায়ক হয়েও মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থানে জেলা ও হাইকমান্ডে সমালোচিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। জেলা বিএনপির অধিনে চারটি আসন হওয়ায় মামুন মাহমুদের দায়িত্ব আরো বড় হওয়ার সুযোগ থাকলেও তার কর্মকান্ডে স্থবিরতা হয়ে পড়েন।
































আপনার মতামত লিখুন :