News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ০৬ মার্চ, ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২

আল আমিনকে থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মার্চ ৫, ২০২৬, ১১:৩১ পিএম আল আমিনকে থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা

এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা- নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার একাংশ) আসনে চমক দেখিয়েছেন ১১-দলীয় জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী আবদুল্লাহ আল আমিন। তিনি জীবনের প্রথম লড়াইয়েই জয়ী হয়েছেন। সেই সাথে প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন তিনি। আর এই প্রথমবারই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি নানামুখী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন। তাকে থামিয়ে দেয়ার জন্য নানাভাবে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীতে একটি ইফতার অনুষ্ঠানে বিকেএমইএ'র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে ফ্যাসিস্ট আখ্যা দেয়ায় জাতীয় নাগরিক পাটির্র যুগ্ম সচিব ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিনকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। যা বিগত দিনে তেমন একটা পরিলক্ষিত হয়নি।

গত ৩ মার্চ সন্ধ্যায় ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর পেশাজীবী ফোরামের ইফতার মাহফিলে এই ঘটনা ঘটে। সেই সাথে প্রায় ঘণ্টাখানের সময় ধরে আব্দুল্লাহ আল আমিন অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকেন। এসময় এনসিপির একাধিক নেতাকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

এনসিপি নেতাদের অভিযোগ, হাতেমের ডাকে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা এসে অবরুদ্ধ করেছে এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনায় চারজন আহত হয়েছে বলে দাবী তাদের। আহতরা হলেন, ফয়সাল, জোবায়ের, জাবেদ আলম ও তরিকুল ইসলাম। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিনকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। যদি ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত না হতেন তাহলেন পরিস্থিতি হয়তো আরও বেশি ভয়াবহ রূপ নিতো।

সেদিনের ঘটনায় হাতেমের পক্ষ নেন ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাসেল মাহমুদ এবং তার অনুসারীরা। এসময় তারা বিক্ষোভ করতে থাকে এবং এমপিকে হাতেমের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবী জানায়। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে সেখানে থাকা এনসিপির নেতাকর্মীদের সাথে হাতাহাতি হয়। বিএনপির একটি অংশ চেয়েছিলেন এমপি আল আমিনকে নাজেহাল করতে। একজন সংসদ সদস্য হওয়া সত্বেও তাকে নাজেহাল করার চেষ্টা ভালো বার্তা বয়ে আনে না। তাকে আটকিয়ে দেয়ারই নামান্তর।

যদিও অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাসেল মাহমুদেও বক্তব্য হচ্ছে, তার বাড়ি কাছে হওয়ায় ঘটনা পর্যবেক্ষণ করতে গিয়েছিলেন তিনি। তিনি বিএনপির মনোনীত খেজুর গাছ প্রতীকের পক্ষে নির্বাচন করেছিলাম। তাই তার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এমপি আবদুল্লাহ আল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি জামায়াতের আমন্ত্রণে সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু জানতাম না যে সেখানে হাতেম থাকবে। তাকে দেখে আমি স্টেজে বসতে অস্বীকৃতি জানাই। আমি বলেছি, ফ্যাসিস্টের দোসরের পাশে আমি বসতে পারবো না। এই কথা বলার পরেই সে বেরিয়ে যায় এবং তার লোকজনকে ডেকে এনে আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। আমি ডিসি এসপিকে জানানোর পরে তারা ফোর্স পাঠায়। ততক্ষণে আমরা দেখেছি স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে এবং আমার কর্মীদের মারধর করতে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানাই।

জানা যায়, এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার একাংশ) আসনে ১১-দলীয় জোটের মনোনয়ন পান জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী আবদুল্লাহ আল আমিন। সেই সাথে তরুণ হিসেবে সকলের মাঝেই আলোচনায় চলে আসেন তিনি।

এরই মধ্যে নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ (নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার একাংশ) আসনে ১১-দলীয় জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী আবদুল্লাহ আল আমিন ১ লাখ ৬ হাজার ১৭১ ভোট পেয়ে হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন শরিক দলের প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমী। তিনি পেয়েছেন ৮০ হাজার ৬১৯ ভোট।

আবদুল্লাহ আল আমিন জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব। এবারই তিনি প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেই সাথে তার রাজনৈতিক দল এনসিপিও রাজনীতে নতুন যাত্রা শুরু করেছে। আবদুল্লাহ আল আমিন বয়সেও অনেক তরুণ। নারায়ণগঞ্জের অন্য সকল প্রার্থীদের চেয়ে তিনি সর্বকনিষ্ঠ। আর এই তরুণ বয়সেই তিনি চমক দেখিয়েছেন। কিন্তু এটা যেন মেনে নিতে পারছেন না বিপরীত পক্ষে থাকা নেতাকর্মীরা। শুরু থেকেই তাকে আটকিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন। সেই সাথে তাকে নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করছেন।