News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ, ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২

শহরের তিন সড়ক উন্মুক্ত রাখলে চাপ কমবে বিবি রোডে


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মার্চ ৪, ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম শহরের তিন সড়ক উন্মুক্ত রাখলে চাপ কমবে বিবি রোডে

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নব নিযুক্ত প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নগরীকে যানজটমুক্ত রাখতে হকার সহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু নগরীর অন্যতম বৃহৎ দ্বিগুবাবুর বাজার ইজারা হয়ে থাকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন থেকে। বাজার ইজারা নিয়ে দখল করা হয় মীরজুমলা সড়ক, কোয়াটার রোড এমনকি দিনের দুপুর ১২টা পর্যন্ত মীরজুমলা সড়কেও বাজার বসিয়ে চাঁদাবাজি করে ইজারাদারের লোকজন। আর কোয়ারটার রোড ও মীরজুমলা সড়কে রাত দিন সব সময় দখল করে রাখা হয়। অথচ ইজারার মধ্যে এই সড়ক গুলো নেই। জন সাধারণ ও যানবাহন চলাচলের জন্য রাস্তা গুলো নির্মাণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মীরজুমলা সড়কটি দখলমুক্ত করে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে করে দেওয়া হলেও পরবর্তীতে তা আবার অবৈধ দোকানদারদের দখলে চলে গেছে। প্রতিদিন এসব দোকানপাট থেকে লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি হয়ে থাকে। অথচ সিটি কর্পোরেশন থেকে ইজারা দেওয়া আধুনিক বাজারে ভাড়া দেয়া হয়েছে মিনি গার্মেন্টস, গোডাউন। আর বাজার বসানো হচ্ছে রাস্তায়।

অন্যদিকে প্রতিদিন গভীর রাত থেকেই শায়েস্তা খান সড়ক দখলে চলে যায় দ্বিগুবাবুর বাজারে আসা সবজি বিক্রেতাদের। রাস্তায় সবজি রেখেই বিক্রি করা হয় দুপুর ১২টা পর্যন্ত। এই শায়েস্তা খান সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সকালে নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুল এবং নারায়ণগঞ্জ কলেজের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে থাকে। এছাড়াও এই সড়কে রয়েছে র‌্যাব-১১ এর কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রধান ডাকঘর, নগরীর সব থেকে বৃহৎ খুচরা কাপড় বিক্রির মার্কেট, এছাড়াও রয়েছে বেশ কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক, রয়েছে জেলা শিল্পকলা একাডেমি ভবন ও জেলা গ্রন্থাগার। এমনিতেই সড়কটি একটি ব্যস্ততম সড়ক সেখানে রাত থেকে সবজি বিক্রেতাদে দখলে চলে যাওয়ায় ভোর থেকেই এখানে যানজট শুরু হয়, এই যানজটের চাপ বঙ্গবন্ধু সড়ক ও নবাব সিরাজদৌলা সড়কের উপর গিয়েও পড়ে। ফলে নগরীতে দিনভর যানজট লেগেই থাকে।

এই সড়কের রাস্তা দখল দখল করে যদি অবৈধ বাজার বসতে না দেওয়া হয় রাস্তাটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয় অপরদিকে মীরজুমলা সড়ক এবং ইন্সটিটিউট রুটটি যদি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় তাহলে এই সকল বিকল্প সড়ক গুলো ব্যবহারে নগরীর প্রধান সড়ক গুলোতে যানবাহনের চাপ কিছুটা হলেও কমবে।

তবে শায়েস্তা খান সড়কে এমন অবৈধ বসাতে ট্রাফিক পুলিশের সাথে গোপন সমঝোতার মাধ্যমেই করে থাকে। ওই স্থানে একটু সময় নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেই ওই অবৈধ বাজার থেকে কাঁচামাল ভর্তি করে নিয়ে যাওয়া প্রতিটি অটোরিকশা থেকে ট্রাফিক পুলিশদের টাকা নিতে দেখা যায়।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদায় হলে সাধারণ মানুষ আশায় ছিল হয়তো অবস্থার পরির্বতন হবে।

তবে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের পরিবর্তনের পর শায়েস্তা খান সড়কে চিত্রের কোন পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে বিএনপি দলীয় একাধিক গ্রুপ ওই সড়কে অবৈধভাবে দোকানপাট বসিয়ে নিয়মিত চাদাঁ আদায় করে যাচ্ছে।

তবে সিটি কর্পোরেশনের ভাষ্যমতে ইনস্টিটিউট সড়কের ইজারার সাথে শায়েস্তা খাঁন সড়কের কোন সম্পর্ক। ওই ইজারায় শুধুমাত্র ইনস্টিটিউট সড়ক, শায়েস্তা খান সড়ক সম্পূর্ন আলাদা একটি সড়ক।

জানাগেছে, সিটি কর্পোরেশনের বৈধ দরপত্রে তিনি ইনস্টিটিউট সড়ক পর্যন্ত ইজারার মালিক হলেও শর্ত ভঙ্গ করে গভীর রাত থেকে বেলা ১০টা থেকে ১১টা অবদি শায়েস্তা খান সড়কেও সবজির বাজার বসিয়ে টাকা আদায় করেছেন। যেটি রীতিমত চাঁদাবাজিই বলা চলে। এদিকে ইজারাদারের এমন অনৈতিক কর্মকান্ডে সহায়তা করছে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরাও। বাজার চলাকালীন সময়ে দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশের সদস্য প্রত্যেক দোকানদার এবং সবজি নিয়ে যাওয়া ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা থেকেও চাঁদা আদায় করছে। বাজার চলাকালীন সময় সকাল ৭টা থেকেই এই সড়ক দিয়ে নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে শুরু করে। বাজার বসানোর কারণে ওই সময় সড়কটি পুরোপুরি ভাবেই বন্ধ হয়ে যায় বললেই চললে। এসময় রাস্তা সচল রাখার দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা নিজেদের দায়িত্ব ভুলে ব্যস্ত থাকে চাঁদা তুলতে।

সিটি কর্পোরেশনের বাজার কর্মকর্তা জহিরুল আলম এর সাথে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।