নারায়ণগঞ্জে বিএনপি সরকারের প্রথম মন্ত্রীর আগমনেই দেখা গেল ভিন্ন এক রাজনৈতিক বাস্তবতা। সরকার গঠনের দীর্ঘ ১৭ বছর পর প্রথমবারের মতো নারায়ণগঞ্জে এলেন বিএনপির কোন মন্ত্রী। আর তিনি হলেন সড়ক, রেল ও নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তবে তার আগমনে দেখা যায়নি নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় বিএনপি নেতা কিংবা জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি।
শনিবার তিনি নারায়ণগঞ্জে নির্মাণাধীন টার্মিনাল প্রকল্পের কাজ এবং নদীতে নোঙর করা জাহাজ পরিদর্শনে আসেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং প্রকল্পের অগ্রগতি ও বিভিন্ন জটিলতা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। সরকারি কর্মকর্তা ও টার্মিনাল সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে নানা সমস্যা শুনে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন মন্ত্রী। সেই সাথে সাংবাদিকদের কাছে নিজ দপ্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান।
তবে মন্ত্রীর এই আগমনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির স্থানীয় কোনো শীর্ষ নেতা বা সংসদ সদস্যকে পাশে দেখা যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিলো একটি সম্ভাবনাময় সুযোগ। তারা বলছেন, স্থানীয় নেতারা উপস্থিত থাকলে নারায়ণগঞ্জের দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যা বিশেষত যানজট, সড়কে পরিবহনের অব্যবস্থাপনা, সড়কে ভোগান্তি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, নদী দখল, ফিটনেস বিহীন লঞ্চ, ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়, ডাবল রেল প্রকল্প সহ নানাবিধ ইস্যু সরাসরি মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরতে পারতেন। এতে জেলার সাধারণ মানুষ উপকৃত হতেন।
বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোনো মন্ত্রী নারায়ণগঞ্জে এলে তার সফরকে ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যেত। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্যরাও ছুটে আসতেন মন্ত্রীর পাশে। দাবি-দাওয়া তুলে ধরা, প্রকল্প আদায় কিংবা বরাদ্দ নিশ্চিত করতে সরব থাকতেন তারা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা ব্যক্তিস্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। তবুও এর মধ্যেই কিছু কিছু নারায়ণগঞ্জবাসীর স্বার্থও জড়িয়ে থাকতো।
কিন্তু এবার দৃশ্যপট ছিল ভিন্ন। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবারের মতো কোনো মন্ত্রীর নারায়ণগঞ্জ সফর হলেও স্থানীয় নেতৃত্বের অনুপস্থিতি নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা সমালোচনা। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে স্থানীয় বিএনপির জনপ্রতিনিধি কিংবা নেতারা হাজির হয়ে দাবী রাখতে পারতেন। এতে উপকার হতো সাধারণ মানুষের। এই নগরী নানান সমস্যায় জর্জরিত। মানুষের হয়ে নেতারা মন্ত্রীর কাছে সরাসরি দাবী জানানোর সুযোগ থাকলেও সেটা তারা করতে ব্যার্থ হয়েছেন। এতেই বোঝা যায় মুখের কথা আর বাস্তবতার কতটা ফারাক।
বিশ্লেষকদের অভিমত, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সমন্বয়ের অভাব থাকলে উন্নয়ন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সফরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে স্থানীয় নেতৃত্বের সক্রিয় উপস্থিতি জেলার স্বার্থে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে সুযোগ পেয়েও কেন কাজে লাগানো গেল না? কেন এই শহরের অভিভাবক হতে চাওয়া নেতারা জনগনের কথা তুলে ধরলেন না মন্ত্রীকে নিজ এলাকায় পেয়েও। আদৌও কি তারা সমস্যার সমাধানে আন্তরিক? নাকি কেবলই লোক দেখানো কাজ কর্ম?




































আপনার মতামত লিখুন :