৭ জানুয়ারি বুধবার নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র উদ্যোগে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রুপগঞ্জ অঞ্চলের পার্শ¦বর্তী বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত ওয়েস্টেজ পানি ও বৃষ্টির পানি নিস্কাশনে হাইওয়ে রাস্তার পাশে দীর্ঘদিনের ড্রেনেজ সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, নারায়ণগঞ্জ এবং উল্লেখিত অঞ্চলের ভুক্তভোগি ব্যবসায়ীদের উপস্থিতে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
উক্ত সভায় নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র পরিচালনা পর্ষদ ও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, নারায়ণগঞ্জ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম উপস্থিত থেকে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের সাথে সরাসরি আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
সভায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশ্ববর্তী এলাকার শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের মালিক ও প্রতিনিধিগণ তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও বাস্তব সমস্যাসমূহ বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন।
আলোচনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীগণ বলেন, বর্তমানে চলমান ৬ লেন মহাসড়ক নির্মাণ কাজের জন্য রাস্তার পাশে বালু ফেলার কারণে বিদ্যমান ড্রেনেজ ব্যবস্থা সহ রাস্তার উভয় পাশে ড্রেনেজ ব্যবস্থার যে কালবার্ট ছিল তা বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় পানি জমে যাচ্ছে এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যবহৃত ওয়েস্টেজ পানি ও বৃষ্টির পানি সঠিকভাবে নিস্কাশন হতে পারছে না। এতে করে একদিকে যেমন শিল্প প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে রাস্তার উপর জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচলেও মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
এছাড়াও দক্ষিন রুপসী, কাজী পাড়া. নোয়াপাড়া, খালপাড়, বরাব এলাকার বসতি ও কৃষি জমির মাঠের বৃষ্টির পানি নিস্কাশনেও সমস্য হচ্ছে। এখানে উল্লেখ্য রনি ডাইং, ফারিয়া স্পিনিং, জিএম ডাইং এন্ড প্রিন্টিং মিলস, মোসুমী এ্যাপারেলস, ম্যাক্স সোয়েটার, শরীফ মেলামাইল ও সাইবার টেক্সটাইল মিলস লিঃ সহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান অবস্থিত যেখানে ৫০ থেকে প্রায় ৬০ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, এখনো পর্যন্ত এই সমস্যা সমাধানে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং বর্তমানে উক্ত স্থানে রাস্তার কাজ এমন পর্যায়ে রয়েছে যেখানে ড্রেনেজ ব্যবস্থা একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। এই সমস্যার সমাধান না হলে শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে পথে বসার অবস্থা হয়ে যাবে।
চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি জনাব মোরশেদ সারোয়ার সোহেল বলেন, আমরা ভুক্তভোগি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সমস্য সমূহ শুনলাম, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, নারায়ণগঞ্জ অবশ্যই ব্যবসায়ীদের নিয়ে ভাবেন এবং গুরুত্ব দিয়েছেন তাই চেম্বারের ডাকে ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানে এপর্যন্ত এগিয়ে এসেছেন। আপনারা অবগত আছেন চেম্বারের বর্তমান সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া (দিপু) ব্যবসা সংক্রান্ত যে কোন সমস্যা দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধানের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তার আন্তরিক ইচ্ছায় ও প্রচেষ্টায় আজকে আমাদের আয়োজন। ৬ লেন রাস্তার কাজ সুন্দর ভাবে ও পরিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন করনের আশা করছি। যেহেতু ভুক্তভোগি এই শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ৫০ থেকে প্রায় ৬০ হাজার শ্রমিকের সাথে প্রায় আড়াই থেকে তিন লক্ষ মানুষের রিজিক জড়িত তাই এই বিষয়টি মাথায় রেখে সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান ও লোকগুলো যাতে বাঁচে এই বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের আন্তরিকতার প্রতিফলন আশা করছি।
সড়ক ও জনপথ, নারায়ণগঞ্জ সড়ক উপ বিভাগ এর কর্মকর্তা মোঃ আহসান উল্যাহ মজুমদার বলেন, সমস্যার স্থায়ী ও বাস্তবসম্মত সমাধানের জন্য সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করা অত্যন্ত জরুরি।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, নারায়ণগঞ্জ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব আব্দুর রহিম মহোদয় ব্যবসায়ীদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং ড্রেনেজ সমস্যার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে প্রকল্প পরিচালক মহোদয়ের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার আশ্বাস প্রদান করেন। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের উপস্থিতিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরেজমিনে জায়গা পরিদর্শন করা হলে এবং পরিদর্শনের আলোকে প্রয়োজনীয় কারিগরি দিকসমূহ পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে উভয় পক্ষের অংশগ্রহনে আরো একটি সভা আয়োজনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উক্ত মতবিনিময় সভায় নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আবু জাফর, পরিচালক সোহান আক্তার, আব্দুল্লাহ আল-মামুন, আহ্মেদুর রহমান তনু ও মোঃ মজিবুর রহমান এবং ভুক্তভোগি ব্যবসায়ীদের পক্ষে, রনি ডাইং, ফারিয়া স্পিনিং, জিএম ডাইং এন্ড প্রিন্টিং মিলস, মোসুমী এ্যাপারেলস, ম্যাক্স সোয়েটার, শরীফ মেলামাইল ও সাইবার টেক্সটাইল মিলস লিঃ সহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ও প্রতিনিধিগণ এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, নারায়ণগঞ্জ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম এবং কর্মকর্তা মোঃ আহসান উল্যাহ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।







































-20260102160818.jpg)


আপনার মতামত লিখুন :