News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নূর হোসেনের ভাই ভাতিজা ফিরতে চায়


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম নূর হোসেনের ভাই ভাতিজা ফিরতে চায়

কয়েক কোটি টাকার বিনিময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলা থেকে মুক্তির আশ্বাস পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত প্রধান আসামি নূর হোসেনের ভাই ও ভাতিজাকে ঘিরে। একই সময়ে নিজেদের পুরোনো বিএনপি নেতা, সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে এসব মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে পুলিশের কাছে আবেদন করেছেন তারা। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

বিগত আওয়ামী লীগের সময় তারা সিদ্ধিরগঞ্জে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। শামীম ওসমানের প্রভাব খাটিয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করতেন। অথচ বিএনপি সরকার ক্ষমতা আসার পর এখন তারা নিজেদের সাধু দাবি করছেন। আবার বিএনপির এক শীর্ষ নেতাকে হাত ধরেছেন মামলা থেকে রেহাই পেতে। যা নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ কাজ করছে।  

জানা যায়, নূর হোসেনের ভাতিজা শাহজালাল বাদল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর। গত ২৭ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানের কাছে দেওয়া আবেদনে তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া ৩০টি মামলা থেকে অব্যাহতি চান। দায়েরকৃত ওই আবেদনপত্রে, শাহজালাল বাদল নিজেকে সিদ্ধিরগঞ্জের শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক, ব্যবসায়ী এবং বায়তুল সালাম জামে মসজিদের নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কাউন্সিলর থাকাকালে দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করেছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। তার অভিযোগ, একটি ‘কুচক্রী মহল’ তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে এসব মামলায় জড়িয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সিদ্ধিরগঞ্জের রাজনীতিতে তিনি পুরোদমে সক্রিয় ছিলেন। এর আগে তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয় রাজনীতিতে তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ বলয়েও তার অবস্থান ছিল ওপেন সিক্রেট। শুধু রাজনৈতিক পরিচয় নয়, নূর হোসেনের সঙ্গে বাদলের ঘনিষ্ঠতার বিষয়টিও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ছিল। ২০১৫ সালে শিমরাইলে নূর হোসেনের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় করা অস্ত্র মামলায় নূর হোসেনের সঙ্গে শাহজালাল বাদলকেও আসামি করা হয়। ওই মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মাদক মামলাতেও শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, নূর হোসেনের আপন ভাই নূর উদ্দিন মিয়া নাসিকের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন। গত ৩০ জুলাই পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া আবেদনে তিনি নিজেকে দীর্ঘদিনের বিএনপি নেতা হিসেবে দাবি করেন। নূর উদ্দিনের দাবি, ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক, ১৯৯৫ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন।  

তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া ২৫টি মামলাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মামলা হিসেবে উল্লেখ করেন। এসব মামলার বাদীদের কাউকেই তিনি চেনেন না বলেও দাবি করেছেন। আবেদনের সঙ্গে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ছবি যুক্ত করেন। পাশাপাশি আবেদনের একটি অনুলিপি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের কাছেও জমা দিয়েছেন।

তবে নূর উদ্দিনের বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার দাবিও হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নূর হোসেনের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তারা দুই ভাই-ভাতিজা সিদ্ধিরগঞ্জে সব ধরণের ব্যবসা ও ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করতেন। এদিকে ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট সিদ্ধিরগঞ্জে দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর সঙ্গে নূর উদ্দিন ও শাহজালাল বাদলের নামও আসে। মামলায় তৎকালীন এমপি শামীম ওসমানসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্বশরীরে উপস্থিত ছিলেন।

এমন অবস্থায় এখন নিজেদের বিএনপির পুরোনো নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে মামলা থেকে অব্যাহতি চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাদের বক্তব্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যারা ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন, তাদের কেউ এখন হঠাৎ করে নিজেদের দীর্ঘদিনের বিএনপি নেতা দাবি করলে বিষয়টি ক্ষোভের।

স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যারা মামলা, হামলা ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে থেকেছেন, তাদের পাশ কাটিয়ে অন্য রাজনৈতিক পরিচয়ে কেউ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।  

সব মিলিয়ে নূর হোসেনের ভাই ও ভাতিজার নতুন রাজনৈতিক পরিচয় এবং মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে পুলিশের কাছে দেওয়া আবেদনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাদের শাস্তি দাবি করছেন তারা।