News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা আতঙ্কিত


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা আতঙ্কিত

গত দুই দিনে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ৪জন, সোনারগাঁ রূপগঞ্জ ও আড়াইাজার থানায় ৬জন এবং নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় ২ জন আওয়ামীলীগের সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। এর আগে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাতের ছোট ভাই সানজিদ হাসনাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফাহিমের পর মহানগর আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সাখাওয়াত হোসেন সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয়া দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে প্রশাসন কঠোরতা সিদ্ধান্তে মধ্যে আওয়ামীলীগের তৃণমূলে গ্রেপ্তার আতংকে রয়েছে। ইতোমধ্যে সাতটি থানায় গ্রেপ্তার হওয়া পর আবারো নেতাকর্মীরা গা-ঢাকা দিয়েছেন। নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম রোধে ও মাদক বিরোধী অভিযানে পুলিশের উচ্চ পর্যায় থেকে বাহিনীর সব স্তরে সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাতে পূজামণ্ডপ ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর কোনো ধরনের নাশকতার সুযোগ তৈরি না হয়।

চব্বিশের ৫ আগষ্টের পর এখনো নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর উপজেলা থানার শীর্ষ পর্যায়ে নেতাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। যার কারণে গত দুই বছর ধরে নিষেধ তুলে নিতে আওয়ামীলীগের নেতাদের নির্দেশনায় তৃণমূলে ঝটিকা মিছিল বের করে যাচ্ছে। এর ফলে বিএনপি সরকারের সাত মাসে ক্ষমতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মধ্যে বিব্রত সৃষ্টি হয়েছে। শুধু নারায়ণগঞ্জই নয় ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ঝটিকা মিছিলে মহড়া দিয়েছে নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মীরা।

জেলা মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতা কর্মীদের গ্রেপ্তার করার দাবি জানিয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। বর্তমানে সরকার ও বিরোধী দলের নেতাদের এমন দাবিতে ইতোমধ্যে জেলা পুলিশ প্রশাসন মাঠ পর্যায়ে তদন্তে নেমেছে। আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্ন করার নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মীদের তালিকা করার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর ফলে আবারো আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে গ্রেপ্তার আতংক বিরাজ করছে।

নারায়ণগঞ্জের সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী ও নাসিকের সাবেক মেয়র ডা. আইভী সহ সারা দেশে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা, গুলি, হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে করা মামলায়। চব্বিশের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন। আত্মগোপন কিংবা দেশ ছেড়ে পালানোর সময় আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য ও দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন। প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ আটক হচ্ছেন। তবে বেশির ভাগই এখনো আত্মগোপনে কিংবা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, মাঝে মাঝে যাদের দেখা মেলে সংবাদমাধ্যমে।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলা, গুলি করে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে সারাদেশে শত শত মামলা হয়েছে শেখ হাসিনাসহ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এসব মামলায় জেলা-উপজেলা, সিটি, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের দলীয় ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে।