News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

আদালতপাড়ায় পিপিকে বসানো নিয়ে ধাক্কাধাক্কি, টিপুকে হেনস্তা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ১০:০২ পিএম আদালতপাড়ায় পিপিকে বসানো নিয়ে ধাক্কাধাক্কি, টিপুকে হেনস্তা

নারায়ণগঞ্জে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নতুন সরকারি আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে তার দায়িত্ব বসানো নিয়ে আইনজীবীদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। আইনজীবীরা একপক্ষ আরেকপক্ষকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও মারমুখী আচরণের ঘটনাও ঘটেছে। একই সাথে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে হেনস্থা করার ঘটনাও ঘটেছে।

আইনজীবীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নিয়োগপ্রাপ্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে তার দায়িত্বে বসাতে চান মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। তিনি অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে যান।

আর এই খবর পেয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান তার অনুসারীদের নিয়ে যান বাধা প্রদান করতে। তারা কোনোভাবেই অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে তার দায়িত্বে বসতে দিবেন না। কিন্তু অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু চান সুমন মিয়াকে বসানোর জন্য।

এদিন এইচ এম আনোয়ার প্রধান সহ তার অনুসারীদের সাথে আবু আল ইউসুফ খান টিপুর তর্ক বিতর্কের ঘটনা ঘটে। তারা একে অপরকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। তাদের গালি শুনে আদালতে উপস্থিত থাকা অন্য আইনজীবীরা বিব্রতবোধ করেন। এক পর্যায়ে আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে অ্যাডভোকেট সুমন মিয়া সহ ধাক্কাধাক্কি করে আদালত থেকে বের করে দেন। সেই সাথে টিপুও আদালত থেকে বের হয়ে আসেন।

পরবর্তীতে অ্যাডভোকেট সুমন মিয়া নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নিচ তলায় অনেক্ষণ সময় নিয়ে বসে থাকেন। তবে এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজী হননি তিনি। সেই সাথে অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুও কোনো কথা বলতে চাননি।

তবে এ বিষয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান বলেন, আবু আল ইউসুফ খান টিপু সুমন মিয়াকে নিয়ে আসছিলো আদালতে বসানোর জন্য। আমরা তাকে বসতে দেয়নি। আইনজীবীরা তাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছেন।

এর আগে নারায়ণগঞ্জ জেলার দায়রা আদালত ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নতুন সরকারি আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। গত ২৫ আগস্ট আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ (জিপি-পিপি শাখা) থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।

আদেশ অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অ্যাডভোকেট সুমন মিয়া। আর এই নিয়োগের পর থেকেই তাকে আদালতে বসতে দেয়া হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত পায় দেড় মাসের উপরে সময় পেরিয়ে গেছে। কিন্তু তারপরও তাকে তার দায়িত্বে বসতে দেয়া হচ্ছে না।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে অ্যাডভোকেট আনোয়ার প্রধান ও অ্যাডভোকেট শেখ আঞ্জুম আহমেদ রিফাতকে শোকজ করা হয়েছে। সেই শোকজের একটি কারণে উল্লেখ করা হয়েছিলো- গত ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর তাঁর দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করা হয়। এমনকি তাঁর সরকারি চেম্বার প্রায় দেড় মাস ধরে তালাবদ্ধ রাখা এবং তাঁকে ভয়ভীতিসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের দুইজনের পদই স্থগিত করা হয়েছে।

তবে এই শোকজ এবং পদ স্থগিত কোনো কিছুতেই থামছেন না অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান ও অ্যাডভোকেট শেখ আঞ্জুম আহমেদ রিফাত। তারা তাদের সিদ্ধান্তের উপরই অটল রয়েছেন।