ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নতুন নিয়মে এবার নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনটি হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে তুমুল লড়াইয়ের প্রস্তুতি চলছে। পরিচিত মুখ হলেও অপরিচিতি মার্কা নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট যুদ্ধে প্রার্থীরা নামছেন ২১ জানুয়ারি। এদিকে ফতুল্লা নির্বাচনী এলাকা গুলোতে সরেজমিনে পরিদর্শনে ভোটারদের মধ্যে হতাশা সুর শুনা গেছে। ভোটাররা বলছে, আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টি বিহীন এবার নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থী থাকলেও মার্কা নিয়ে বিভ্রান্তিতে রয়েছে ভোটাররা।
একাধিক ভোটারদের মধ্যে গোগনগর এক রেস্তোরা স্বত্বাধিকারী আব্দুস সালাম জানান, গত বছর জুড়ে এলাকায় বিএনপির ধানের শীষ ও জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লা প্রার্থী আনাগোনা ছিলো। কিন্তু সদর-বন্দর আসন থেকে ফতুল্লা আসনে গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদ অর্ন্তভুক্ত করায় ভোটাররা হতাশায় রয়েছেন। গোগনগরটি শহরের শেষ প্রান্তে কিন্তু এবার এমপি যেই হোক তাকে পেতে ফতুল্লায় যেতে পারে। তাই যারা ফতুল্লা আসনে প্রার্থী হয়েছেন তারা কেউ গোগনগরবাসীর কাছে অপরিচিতি। একজন প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চিনলেও বাকিদের এখনো আমরা চিনতে পারেনি।
এদিকে আলীরটেক ইউনিয়নে একাধিক ভোটাররা জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে আমাদেরকে এবার নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ভোটার করেছে নির্বাচন কমিশন। যার কারণে যারা এবার ভোটার হয়েছেন তারা এখনো প্রার্থী নাম ভালো করে শুনতে পারেনি। তাদের মার্কাও এখনো ভোটারদের কাছে অপরিচিত রয়েছে। এতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণে ভোটারদের উপস্থিতি নিয়ে চিন্তা বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। পত্র-পত্রিকায় জানতে পেরেছি, এখনো প্রার্থীদের মধ্যে টানাপোড়া চলছে। কে মাঠে থাকছে আর কে মাঠে থাকছে না এখনো পরিস্কার করতে পারেনি। এই আসনে বিএনপি, আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টির কোন প্রার্থী নেই। যার কারণে কাকে এমপি হিসেবে ভোট দিতে সময়ে দেখা যাবে।
নির্বাচন কমিশনের সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি-জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম জোট প্রার্থী হয়েছেন মুফতি মনির হোসেন কাসেমী, তার প্রতীক খেজুর গাছ। জামায়াতে ইসলামী সহ ১০ জোটের প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি প্রার্থী আল আমিন, তার প্রতীক শাপলা কলি। বিএনপি মনোনয়ন বঞ্চিত মোহাম্মদ আলী বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হয়েছেন, তার প্রতীক হাতি। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপি মনোনয়ন বঞ্চিত সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও শাহ আলম নির্বাচনের প্রার্থী হয়েছেন, তাদের প্রতীক ২০ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হবে। এমন যারা অন্যান্য দলের প্রার্থী হয়েছেন তারা ভোটারদের কাছে ছুটছেন।
প্রার্থীরা ভোটারদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়েছেন তাদের প্রতীক খুঁজে। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনীত প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাসেমী বলেছেন, আমি বিএনপির প্রার্থী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী। বিএনপি আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে, এখানে ধানের শীষ ও খেজুর গাছ একাকার। খেজুর গাছের মধ্যেই ধানের শীষ খুঁজে নিতে হবে।
বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হতে চাননি বলেই বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দলটির নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনের প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী। দলের প্রতীক হাতি মার্কা নিয়ে জনগণের কাছে যাবো, ইতোমধ্যে ভোটাররা সাড়া দিয়েছেন।






























-20260102160818.jpg)



আপনার মতামত লিখুন :