আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী মাঠে এগিয়ে যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। ইতোমধ্যে জোটের শরিকদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের সবগুলো আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে তারা। প্রার্থীরা মাঠে নেমে কাজ শুরু করে দিয়েছে ইতোমধ্যে। অন্যদিকে জামায়াত-এনসিপি জোট এখনও প্রার্থী চূড়ান্ত করতে না পারায় নির্বাচনী প্রস্তুতিতে পিছিয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
জানা গেছে, মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষদিনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে পরিস্কার হয়ে যায় বিএনপি জোট থেকে কারা কারা প্রার্থী হতে চলছেন। নারায়ণগঞ্জ ৫ আসন নিয়ে কিছুটা ধোয়াশা থাকলেও এদিন তা পরিস্কার হয়ে যায়। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ এক, দুই এবং তিন আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত ছিলো নভেম্বর থেকেই। অন্যদিকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ শেষেও প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি জামায়াত এনসিপি জোট।
অথচ প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা গেলে অনেক আগে থেকেই মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করতে পারতেন তারা। বিএনপির প্রার্থীরা নিজ নিজ আসনে গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। অন্যদিকে বিপরীত জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীরা গণসংযোগ, সভা সমাবেশ করলেও পুরোপুরি স্বস্থিতে থাকতে পারছেন না। ফলে নির্বাচনী দৌড়ে তারা প্রাথমিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বিএনপি জোট।
সূত্র বলছে, জামায়াত-এনসিপি জোট এখনও আসন ভাগাভাগি ও প্রার্থী নির্ধারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নির্বাচনী অংশগ্রহণ নিয়ে জোটের ভেতরে দ্বিধা ও বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইসলামী আন্দোলন জোটে থাকবে নাকি আলাদাভাবে নির্বাচন করবে—এই সিদ্ধান্ত না আসায় জোটের সামগ্রিক কৌশল নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাছাড়া নিজেদের মধ্যেই শুরু হয়েছে কাঁদা ছোড়াছুঁড়ি। মাঠ পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী নিজেদের মধ্যে সমালোচনায় লিপ্ত হয়ে জোটকে প্রশ্নবিদ্ধ পর্যায়ে নিয়ে দাঁড় করিয়েছেন।
এনসিপির একাধিক নেতা জানান, প্রার্থী চূড়ান্ত না হওয়ায় জামায়াত-এনসিপি জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখনো একক প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় হতে পারছেন না। ফলে মাঠপর্যায়ে দলগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরাও দ্বিধান্বিত অবস্থায় থাকায় সাংগঠনিক তৎপরতা আশানুরূপ গতি পাচ্ছে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের সময় যত এগিয়ে আসছে, ততই প্রার্থী চূড়ান্ত না হওয়ার প্রভাব স্পষ্ট হচ্ছে। ভোটের মাঠে প্রার্থী ও দলগুলোর ঐক্য এবং আগাম প্রস্তুতি বড় ভূমিকা রাখে। সে দিক থেকে বিএনপি জোট এগিয়ে থাকলেও জামায়াত-এনসিপি জোট সময়মতো সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে নির্বাচনী দৌড়ে আরও পিছিয়ে পড়তে পারে।
তবে জামায়াত নেতারা বলছেন, আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে এবং শিগগিরই প্রার্থী ও জোটগত কৌশল চূড়ান্ত করা হবে। আগামী ২০ তারিখের আগেই সব পরিস্কার হয়ে যাবে কারা হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী।
সব মিলিয়ে নির্বাচনের মাঠে এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে বিএনপি জোট বনাম জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তবে সময়মতো সিদ্ধান্ত ও ঐক্য গড়ে তুলতে না পারলে জামায়াত-এনসিপি জোটের জন্য চ্যালেঞ্জ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।






























-20260102160818.jpg)



আপনার মতামত লিখুন :