News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২

ত্বকী চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত: জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম ত্বকী চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর জন্মবার্ষিকী  উপলক্ষে “একাদশ জাতীয় ত্বকী চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা’২৫” এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বির সভাপতিত্বে ভবানী শংকর রায়ের সঞ্চালনায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব কবি হালিম আজাদ, প্রতিযোগিতা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক জাহিদুল হক দীপু এবং ত্বকীকে নিয়ে রচনা লেখায় ‘ত্বকী পদক’ পাওয়া বিজয়ী দেবশ্রিতা পাল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর মা রওনক রেহানা।  

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ত্বকী সৃজনশীলতার প্রতীক, অসংখ্য ঘটনার প্রতীক। প্রতিযোগিতা সৃষ্টিশীলতার জন্য। পুরাতনকে ভেঙে নতুনের সৃষ্টি। শাসকগোষ্ঠী সব সময় তরুণদের ভয় পায়। কারণ এই তরুণরা দেয়াল ভংতে চায়। সমাজের অচলায়তন ভাংতে চায়। এই ভাঙার প্রত্যয় থেকে তারা দেয়ালে নিজেদের কথা লিখে। এই তরুণরা সমাজে চেপে থাক বিশাল স্বৈরশাসনকে অপসারণ করেছে। আর এই জন্যই সব শাসকই তারুণ্যকে ভয় পায়। তাদের ভয় ছিল ত্বকী। ত্বকী মানুষের ঐক্যের কথা বলেছে। মানুষের ঐক্য। মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে ক্ষমতা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। আর সেজন্যই ত্বকীর ঘাতকদের তারা রক্ষা দিয়ে চলেছে। শাসকগোষ্ঠীর বদল হলেই হবেনা। স্বৈরশাসন তৈরির যে রাষ্ট্রীয় কাঠামো তার বদল দরকার। আজকে যে ত্বকীর বিচার হচ্ছে না, তা সরকারেরই প্রতিচ্ছবি। এ থেকে সরকারকে বুঝে নিতে হবে।

আনু মুহাম্মদ বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পূর্ব শর্ত হচ্ছে স্বাধীন বিচার ব্যাবস্থা। বিচার ব্যাবস্থা স্বচ্ছ ও স্বাধীন না হলে সবকিছুই অর্থহীন হয়ে পড়ে। এক সময় যে নারায়ণগঞ্জের পরিচয় ছিল সংস্কৃতির জন্য, শামীম ওসমানদের বদৌলতে তা সন্ত্রাসের পরিচয় ধারণ করেছে। শীতলক্ষ্যা নদী হয়েছে লাশের নদী। ত্বকী ছিল অশেষ সম্ভাবনার প্রতীক। অঙ্কুরে এ সম্ভাবনাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা আকাঙ্ক্ষা করেছিলাম সরকার বদলের পরে ত্বকীর বিচার পাবো, কিন্তু তা হলো না। এ সরকারও শেখ হাসিনার পথে হেটেছে। এমনি নির্মম হত্যার বিচার কেন ১৩ বছরেও হলোনা তার জন্য পূর্ববর্তী ও বর্তমান সরকারকে জবাব দিতে হবে।

রফিউর রাব্বি বলেন, বর্তমান সরকারও শেখ হাসিনার মতো বিচার ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রয়োজনে ব্যবহার করছে, তারা বেছে বেছে বিচার করছে। বিশ দিনে শরীফ ওসমান হাদি হত্যার অভিযোগ তৈরি হয় অথচ তের বছরেও ত্বকী হত্যার অভিযোপত্র দেয়া হয় না। রাষ্ট্র কতটা নিষ্ঠুর ও বর্বর হতে পারে তার উদাহরণ এই ত্বকী হত্যা ও এর পরবর্তী বিভিন্ন কার্যক্রম। একটি শিশু হত্যার ঘাতকদের যখন রাষ্টের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সুরক্ষা দেয়া হয় তখন বুঝা যায় রাষ্ট্র কতটা জন-বিরোধী, কতটা নৃশংস। দুর্বৃত্ত রক্ষার রাজনীতি থেকে পরিত্রাণের জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, কিন্তু আমরা তা থেকে মুক্ত হতে পারিনি। দেশটাকে সকলের বানানোর জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, কিন্তু তা হয় নি। আজকে স্বৈর শাসকের বদল হয়েছে, আমরা চাই ত্বকী সহ সকর হত্যার সুবিচার নিশ্চিৎ হোক।

অনুষ্ঠানে সারা দেশের বিজয়ী ৬০ জনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। ছয়টি বিভাগে শ্রেষ্ঠ ছয়জনকে “ত্বকী পদক” প্রদান করা হয়। সেরা দশজননের লেখা ও আঁকা নিয়ে প্রকাশিত হয় স্মারক “ত্বকী”।  

Ad Placement 1
Ad Placement 2
Islam's Group