News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

কর্তৃত্ব হারিয়ে আলোচনায় থাকতে ফেরদাউসের উদ্ভট মন্তব্য


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ১০:০৬ পিএম কর্তৃত্ব হারিয়ে আলোচনায় থাকতে ফেরদাউসের উদ্ভট মন্তব্য

নারায়ণগঞ্জ হেফাজত ইসলামে ‘ওসমানদের দালাল’ খ্যাত তথা ওসমানীয় হেফাজত হিসেবে পরিচিত ছিলেন মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান সহ তাদের অনুসারীরা। তারা আওয়ামী লীগের সরকারের সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে শামীম ওসমান সহ তার অনুসারীদের নির্দেশনায় কাজ করতেন। শামীম ওসমানের পক্ষ নিয়ে বিভিন্ন পোগ্রামের আয়োজন করতেন। ধর্মীয় লেবাসে শামীম ওসমানের পক্ষ নিয়ে ধর্মকে নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করার চেষ্টা করতেন। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাকে হেফাজত থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। একই সাথে জমিয়ত থেকেও বিতাড়িত হয়েছন।

কিন্তু হেফাজত ইসলাম ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বিতাড়িত হওয়ার পরও নিরব থাকতে পারছেন না। বরং প্রতিনিয়তই বিভিন্ন ব্যানারে প্রোগ্রাম করে যাচ্ছেন। সেই সাথে নিজেকে আলোচনায় রাখার জন্য বক্তব্য নানা কথা বলে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিনকে উদ্দেশ্য এমন মন্তব্য করেছেন; যা নিয়ে আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেরদাউসুর রহমানকে নানা নেতিবাচক উপাধিতে আখ্যায়িত করছেন।

গত ৯ অক্টোবর একটি প্রোগ্রামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফেরদাউসুর রহমান বলেন, স্যালুট জানাই সালাম জানাই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি হয়েছেন সালাম জানাই। ভাবসাব এমন কেন? আশেপাশে যে ছেলেগুলো ভাবসাব এমন কেন? বয়স কত? যেটা দিয়ে শুরু করলাম। টিপু ভাইয়ের বয়স ৬০ বছর। ব্যাটা তুই তো হের নাতির বয়সও হবি না। আদব আখলাখ আগে শিখে আইস না বেটা রাজনীতি করতে। কোথা থেকে কি শাপলা কলি আর এনসিপি; তোমাদের জন্ম কোথায় হয়েছে আমরা তো জানি এটা। আমরা তোমাদেরকে বাংলাদেশের স্বার্থে বিএনপির স্বার্থে কিছু বলি না। যদি চ্যালেঞ্জ করি নারায়ণগঞ্জে এক মিনিটও টিকতে পারবা না।

তিনি আরও বলেন, জেলখানায় ছিলাম; শিবিরের মামলায় ছিলো। আমাদের এমপি চার আসনের। জিজ্ঞাসা কইরেন। এখনও হুজুর হজুর কয়। ট্যাং টিপছে। আমার পাউ টিপতো পাউ।

আর তার এই বক্তব্যের পর সর্বমহলেই নানা আলোচনা সমালোচনা তৈরি হয়েছে। কেউই যেন তার এই বক্তব্যকে ভালোভাবে নেয়নি। সকলেই বিরূপ মন্তব্য করছেন।

জানা যায়, গত ২৬ আগস্ট মতবিনিময় সভার মধ্য দিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়েছে। মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন, হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও ঐতিহাসিক ডিআইটি মসজিদের খতীব মাওলানা আব্দুল আউয়াল।

সেই সাথে সভায় হেফাজতে ইসলামের নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি হিসেবে আল্লামা আব্দুল আউয়াল, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাদির (আমলাপাড়া মাদ্রাসা), সেক্রেটারি মুফতী বশীরুল্লাহ (মাদানীনগর মাদ্রাসা), সিনিয়র সহ-সেক্রেটারি মাওলানা বদরুল আলম সিলেটী (ইসলামী ঐক্যজোট), সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মহিউদ্দিন খান (সোনারগাঁও), অর্থ সম্পাদক মাওলানা খুরশিদ আলম (আমলাপাড়া) এবং প্রচার সম্পাদক হিসেবে মুফতী শেখ শাব্বীর আহমাদ (খেলাফত মজলিস) নির্বাচিত হন।

একই সাথে মহানগর কমিটিতে সভাপতি হিসেবে মুফতী জাকির হুসাইন কাসেমী, সহ-সভাপতি মুফতী মামুনুর রশীদ (বিকেএম), সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রহমান (দেওভোগ মাদ্রাসা) এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মুফতি মাহমুদুল হাসান কাসেমী (হাজীপাড়া মাদ্রাসা) নির্বাচিত হন। আর এই কমিটিতে জায়গা পায়নি ফেরদাউসুর রহমান সহ তার অনুসারীরা।

সেই সাথে কমিটিতে স্থান না পেয়ে কমিটির গঠনের পর প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর রাত ৯টার দিকে ফতুল্লার জামতলা এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পাল্টা কমিটি ঘোষণা করেন ফেরদাউসুর রহমান। সাত সদস্যের ওই কমিটিতে মাওলানা কামাল উদ্দিন দায়েমীকে সভাপতি এবং মাওলানা তাজুল ইসলাম আব্বাসকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিলো। একই সাথে হেফাজত নেতাদের উদ্দেশ্য বিভিন্নভাবে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়া হয়। কিন্তু তাদের এই বক্তব্যকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি হেফাজত ইসলামের নেতারা।

পরবর্তীতে মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান সহ তাদের অনুসারীদের কোনো রকম পাত্তা না দিয়েই হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে শহরের ঐতিহাসিক ডিআইটি মসজিদ প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা ও মহানগরীর পৃথক দুটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। আর এই পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে জায়গা দেয়া হয়নি ফেরদাউসুর রহমান সহ তার অনুসারীদেরকে।

তার আগে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর শাখার কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। গত ১৬ আগস্ট জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের অফিস সম্পাদক মাওলানা হেদায়েতুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক সাংগঠনিক বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটি বাতিল করা হয়েছিলো।

হেফাজত নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালিন সময়ে তৎকালিন মহানগর হেফাজত ইসলামের সভাপতি মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান ও তার অনুসারিরা শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতেন। সেই সাথে তাদের অনুসারীদের সাথেও মাওলানা ফেরদাউসের ভালো সম্পর্ক ছিলো। বিভিন্ন সময় ওসমানদের স্বার্থ আদায়ে মাওলানা ফেরদাউস হেফাজতের নেতাকর্মীদের নিয়ে কর্মসূচি পালন করতেন।

তৎকালিন সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যেই মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে আসছিলেন। বিভিন্ন সময় তাদের সম্পর্কের ঘনিষ্টতাও পরিরক্ষিত হয়। ২০২১ সালের ২০ মার্চ আলীরটেকের ডিক্রিরচর ঈদগাহ মাঠে ইসলামি মহাসম্মেলন করে ওলামা পরিষদ। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন তৎকালিন এমপি শামীম ওসমান। এসময় তিনি মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানকে তার ছোট ভাই বলে সম্বোধন করেছিলেন। যা স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলো।